1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. amirsadeky88@gmail.com : amirsadeky :
  3. kamrul304076@gmail.com : Kamrul :
  4. jamalpurbakshiganj@gmail.com : Kamrulbk :
  5. motin.imran07051986@gmail.com : motin.imran07051986@gmail.com :
  6. seyam2858@gmail.com : seyam :
ঢাকা ০৪:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংকট কাটাতে গ্যাস উত্তোলনে বড় পরিকল্পনা সরকারের

অনলাইন ডেস্ক
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটাতে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ জোরদার করেছে সরকার। এর অংশ হিসেবে পেট্রোবাংলা ১৫০টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। কর্মসূচিটি পুরোপুরি সফল হলে ২০৩০ সালের মধ্যে দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৪০১ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) অতিরিক্ত গ্যাস উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে।

এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আমদানিনির্ভরতা কমার পাশাপাশি এলএনজি আমদানিতে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপও কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কমছে দেশীয় গ্যাসের মজুত

পেট্রোবাংলার হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, দেশে এ পর্যন্ত ২৯ দশমিক ৭৮ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ) উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের মজুত মূল্যায়ন করা হয়েছে। এর মধ্যে গত ৩০ জুন পর্যন্ত প্রায় ২২ দশমিক ৪১ টিসিএফ গ্যাস উত্তোলন করা হয়েছে। অবশিষ্ট উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের পরিমাণ প্রায় ৭ দশমিক ৩৭ টিসিএফ।

বিদ্যমান গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন ক্রমাগত কমে আসায় ভবিষ্যতে দেশীয় গ্যাস সরবরাহের ওপর চাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার, পুরোনো ক্ষেত্রের গভীর স্তরে অনুসন্ধান এবং দ্রুত উন্নয়নকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বর্তমানে দেশে দৈনিক প্রায় ২ হাজার ৬৮৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। এর প্রায় ৬৪ শতাংশ আসছে দেশীয় উৎস থেকে। বাকি ৩৬ শতাংশ পূরণ করা হচ্ছে আমদানিকৃত এলএনজি দিয়ে।

এলএনজি আমদানিতে বিপুল ব্যয়

গ্যাসের বাড়তি চাহিদা পূরণে ২০১৮ সাল থেকে এলএনজি আমদানি করছে বাংলাদেশ। পেট্রোবাংলার হিসাব অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত আট অর্থবছরে এলএনজি আমদানিতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৭৭ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা, যা প্রায় ২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমান।

একই সময়ে এলএনজি খাতে সরকারকে প্রায় ৫১ হাজার ৩৬৬ কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ের কারণে দেশের রিজার্ভের ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও শিল্প খাতে গ্যাস সরবরাহ অব্যাহত রাখতে সরকারকে বড় অঙ্কের ভর্তুকি বহন করতে হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম বেড়ে যাওয়ায় এ চাপ আরও তীব্র হয়েছে।

শেষ হয়েছে ২৯ কূপের কাজ

জ্বালানি বিভাগ ও পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা জানান, ১৫০ কূপ কর্মসূচির আওতায় এরই মধ্যে ২৯টি কূপের খননকাজ সফলভাবে শেষ হয়েছে। এসব কূপ থেকে প্রায় ২৭০ দশমিক ৮ মিলিয়ন ঘনফুট নতুন গ্যাসের সংস্থান নিশ্চিত হয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ১২৫ দশমিক ৩ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে।

এ ছাড়া আটটি কূপে খনন ও ওয়ার্কওভার কার্যক্রম চলছে। এসব কাজ সফলভাবে শেষ হলে জাতীয় গ্রিডে আরও প্রায় ৯০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হতে পারে।

কর্মসূচির আওতায় বাকি ১১৩টি কূপের অনুসন্ধান, উন্নয়ন ও ওয়ার্কওভার পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বাড়বে অনুসন্ধান ও সাইসমিক জরিপ

পেট্রোবাংলার পরিচালক (পিএসসি এবং অপারেশন অ্যান্ড মাইনস) প্রকৌশলী মো. শোয়েব বলেন, দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়াতে ১৫০টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার কর্মসূচির পাশাপাশি নতুন গ্যাসের সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চলছে।

তিনি জানান, দেশের বিভিন্ন গ্যাসক্ষেত্র ও ব্লকে সাইসমিক ডেটা সংগ্রহ, প্রক্রিয়াকরণ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে নতুন লিড ও খননযোগ্য প্রসপেক্ট শনাক্ত করা হচ্ছে। সম্ভাবনাময় এলাকায় দ্রুত অনুসন্ধান কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

চরফ্যাশনে বাপেক্সের মাধ্যমে ৬৬০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় থ্রিডি সাইসমিক জরিপের প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। হবিগঞ্জ ও বাখরাবাদ এলাকায় প্রায় ১ হাজার ৪৫০ বর্গকিলোমিটারজুড়ে টুডি সাইসমিক জরিপ চলছে। এ ছাড়া জামালপুর-১ এলাকায় ৪৬০ বর্গকিলোমিটার থ্রিডি সাইসমিক জরিপের প্রকল্প প্রণয়নের কাজ চলছে।

সিলেটের লামিগাঁও, লালাবাজার, দোয়ারাবাজার সাউথ ও রশিদপুর সাউথ এলাকায় অনুসন্ধানের জন্য ৮৮২ বর্গকিলোমিটার থ্রিডি সাইসমিক জরিপের প্রকল্পও নেওয়া হয়েছে।

বাপেক্সের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর পরামর্শ

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ম. তামিম বলেন, দেশের গ্যাসক্ষেত্রগুলো এখন ক্রমহ্রাসমান পর্যায়ে রয়েছে। এসব ক্ষেত্র থেকে উৎপাদন ধরে রাখতে উন্নত প্রযুক্তি, অভিজ্ঞতা ও বড় বিনিয়োগ প্রয়োজন।

তার মতে, বাপেক্সের সক্ষমতার পাশাপাশি শেভরনের মতো অভিজ্ঞ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তি, জ্ঞান ও বিনিয়োগ কাজে লাগানোর বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।

তিনি বলেন, নতুন কূপ খননের পাশাপাশি বিদ্যমান গ্যাসক্ষেত্রগুলোর স্বাভাবিক উৎপাদন হ্রাস ঠেকানোও জরুরি। গ্যাসক্ষেত্রের ওপরের ছোট ছোট গ্যাস স্তর বা ‘থিন বেড’ থেকেও উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

ছাতক গ্যাসক্ষেত্রের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রাথমিক হিসাবে সেখানে ৬০০ বিলিয়ন থেকে ১ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের মজুতের সম্ভাবনা রয়েছে। সতর্কতার সঙ্গে উন্নয়ন করা গেলে সেখান থেকে দৈনিক প্রায় ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।

বাড়ছে এলএনজির ওপর নির্ভরতার ঝুঁকি

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় বছরে দেশীয় গ্যাসের দৈনিক উৎপাদন প্রায় ২ হাজার ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট থেকে কমে বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমেছে। একই সময়ে বিদ্যুৎ ও শিল্প খাতে গ্যাসের ব্যবহার বেড়েছে।

ফলে ঘাটতি পূরণে স্পট মার্কেট ও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে নিয়মিত এলএনজি আমদানি করতে হচ্ছে। তবে দেশীয় গ্যাসের তুলনায় এলএনজি কয়েক গুণ ব্যয়বহুল হওয়ায় গ্যাস সরবরাহের সামগ্রিক ব্যয়ও বাড়ছে।

বর্তমানে দেশে গ্যাসের মোট চাহিদা প্রায় ৪ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট। রোববার জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়েছে প্রায় ২ হাজার ৩৯৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। এর মধ্যে ৭৯২ মিলিয়ন ঘনফুট এসেছে এলএনজি থেকে। ফলে ওই দিন প্রায় ১ হাজার ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট ঘাটতি ছিল।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আশঙ্কা, দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো না গেলে ২০৩০ সালের মধ্যে এলএনজির ওপর নির্ভরতা ৬০ থেকে ৭০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। এতে আমদানি ব্যয় ও জ্বালানি খাতে আর্থিক চাপ আরও বাড়বে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৪:৪৪:৫৬ পূর্বাহ্ণ, সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

সংকট কাটাতে গ্যাস উত্তোলনে বড় পরিকল্পনা সরকারের

আপডেট সময় : ০৪:৪৪:৫৬ পূর্বাহ্ণ, সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬

দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটাতে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ জোরদার করেছে সরকার। এর অংশ হিসেবে পেট্রোবাংলা ১৫০টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। কর্মসূচিটি পুরোপুরি সফল হলে ২০৩০ সালের মধ্যে দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৪০১ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) অতিরিক্ত গ্যাস উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে।

এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আমদানিনির্ভরতা কমার পাশাপাশি এলএনজি আমদানিতে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপও কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কমছে দেশীয় গ্যাসের মজুত

পেট্রোবাংলার হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, দেশে এ পর্যন্ত ২৯ দশমিক ৭৮ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ) উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের মজুত মূল্যায়ন করা হয়েছে। এর মধ্যে গত ৩০ জুন পর্যন্ত প্রায় ২২ দশমিক ৪১ টিসিএফ গ্যাস উত্তোলন করা হয়েছে। অবশিষ্ট উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের পরিমাণ প্রায় ৭ দশমিক ৩৭ টিসিএফ।

বিদ্যমান গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন ক্রমাগত কমে আসায় ভবিষ্যতে দেশীয় গ্যাস সরবরাহের ওপর চাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার, পুরোনো ক্ষেত্রের গভীর স্তরে অনুসন্ধান এবং দ্রুত উন্নয়নকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বর্তমানে দেশে দৈনিক প্রায় ২ হাজার ৬৮৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। এর প্রায় ৬৪ শতাংশ আসছে দেশীয় উৎস থেকে। বাকি ৩৬ শতাংশ পূরণ করা হচ্ছে আমদানিকৃত এলএনজি দিয়ে।

এলএনজি আমদানিতে বিপুল ব্যয়

গ্যাসের বাড়তি চাহিদা পূরণে ২০১৮ সাল থেকে এলএনজি আমদানি করছে বাংলাদেশ। পেট্রোবাংলার হিসাব অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত আট অর্থবছরে এলএনজি আমদানিতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৭৭ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা, যা প্রায় ২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমান।

একই সময়ে এলএনজি খাতে সরকারকে প্রায় ৫১ হাজার ৩৬৬ কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ের কারণে দেশের রিজার্ভের ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও শিল্প খাতে গ্যাস সরবরাহ অব্যাহত রাখতে সরকারকে বড় অঙ্কের ভর্তুকি বহন করতে হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম বেড়ে যাওয়ায় এ চাপ আরও তীব্র হয়েছে।

শেষ হয়েছে ২৯ কূপের কাজ

জ্বালানি বিভাগ ও পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা জানান, ১৫০ কূপ কর্মসূচির আওতায় এরই মধ্যে ২৯টি কূপের খননকাজ সফলভাবে শেষ হয়েছে। এসব কূপ থেকে প্রায় ২৭০ দশমিক ৮ মিলিয়ন ঘনফুট নতুন গ্যাসের সংস্থান নিশ্চিত হয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ১২৫ দশমিক ৩ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে।

এ ছাড়া আটটি কূপে খনন ও ওয়ার্কওভার কার্যক্রম চলছে। এসব কাজ সফলভাবে শেষ হলে জাতীয় গ্রিডে আরও প্রায় ৯০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হতে পারে।

কর্মসূচির আওতায় বাকি ১১৩টি কূপের অনুসন্ধান, উন্নয়ন ও ওয়ার্কওভার পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বাড়বে অনুসন্ধান ও সাইসমিক জরিপ

পেট্রোবাংলার পরিচালক (পিএসসি এবং অপারেশন অ্যান্ড মাইনস) প্রকৌশলী মো. শোয়েব বলেন, দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়াতে ১৫০টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার কর্মসূচির পাশাপাশি নতুন গ্যাসের সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চলছে।

তিনি জানান, দেশের বিভিন্ন গ্যাসক্ষেত্র ও ব্লকে সাইসমিক ডেটা সংগ্রহ, প্রক্রিয়াকরণ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে নতুন লিড ও খননযোগ্য প্রসপেক্ট শনাক্ত করা হচ্ছে। সম্ভাবনাময় এলাকায় দ্রুত অনুসন্ধান কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

চরফ্যাশনে বাপেক্সের মাধ্যমে ৬৬০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় থ্রিডি সাইসমিক জরিপের প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। হবিগঞ্জ ও বাখরাবাদ এলাকায় প্রায় ১ হাজার ৪৫০ বর্গকিলোমিটারজুড়ে টুডি সাইসমিক জরিপ চলছে। এ ছাড়া জামালপুর-১ এলাকায় ৪৬০ বর্গকিলোমিটার থ্রিডি সাইসমিক জরিপের প্রকল্প প্রণয়নের কাজ চলছে।

সিলেটের লামিগাঁও, লালাবাজার, দোয়ারাবাজার সাউথ ও রশিদপুর সাউথ এলাকায় অনুসন্ধানের জন্য ৮৮২ বর্গকিলোমিটার থ্রিডি সাইসমিক জরিপের প্রকল্পও নেওয়া হয়েছে।

বাপেক্সের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর পরামর্শ

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ম. তামিম বলেন, দেশের গ্যাসক্ষেত্রগুলো এখন ক্রমহ্রাসমান পর্যায়ে রয়েছে। এসব ক্ষেত্র থেকে উৎপাদন ধরে রাখতে উন্নত প্রযুক্তি, অভিজ্ঞতা ও বড় বিনিয়োগ প্রয়োজন।

তার মতে, বাপেক্সের সক্ষমতার পাশাপাশি শেভরনের মতো অভিজ্ঞ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তি, জ্ঞান ও বিনিয়োগ কাজে লাগানোর বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।

তিনি বলেন, নতুন কূপ খননের পাশাপাশি বিদ্যমান গ্যাসক্ষেত্রগুলোর স্বাভাবিক উৎপাদন হ্রাস ঠেকানোও জরুরি। গ্যাসক্ষেত্রের ওপরের ছোট ছোট গ্যাস স্তর বা ‘থিন বেড’ থেকেও উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

ছাতক গ্যাসক্ষেত্রের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রাথমিক হিসাবে সেখানে ৬০০ বিলিয়ন থেকে ১ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের মজুতের সম্ভাবনা রয়েছে। সতর্কতার সঙ্গে উন্নয়ন করা গেলে সেখান থেকে দৈনিক প্রায় ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।

বাড়ছে এলএনজির ওপর নির্ভরতার ঝুঁকি

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় বছরে দেশীয় গ্যাসের দৈনিক উৎপাদন প্রায় ২ হাজার ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট থেকে কমে বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমেছে। একই সময়ে বিদ্যুৎ ও শিল্প খাতে গ্যাসের ব্যবহার বেড়েছে।

ফলে ঘাটতি পূরণে স্পট মার্কেট ও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে নিয়মিত এলএনজি আমদানি করতে হচ্ছে। তবে দেশীয় গ্যাসের তুলনায় এলএনজি কয়েক গুণ ব্যয়বহুল হওয়ায় গ্যাস সরবরাহের সামগ্রিক ব্যয়ও বাড়ছে।

বর্তমানে দেশে গ্যাসের মোট চাহিদা প্রায় ৪ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট। রোববার জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়েছে প্রায় ২ হাজার ৩৯৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। এর মধ্যে ৭৯২ মিলিয়ন ঘনফুট এসেছে এলএনজি থেকে। ফলে ওই দিন প্রায় ১ হাজার ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট ঘাটতি ছিল।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আশঙ্কা, দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো না গেলে ২০৩০ সালের মধ্যে এলএনজির ওপর নির্ভরতা ৬০ থেকে ৭০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। এতে আমদানি ব্যয় ও জ্বালানি খাতে আর্থিক চাপ আরও বাড়বে।