1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. amirsadeky88@gmail.com : amirsadeky :
  3. kamrul304076@gmail.com : Kamrul :
  4. jamalpurbakshiganj@gmail.com : Kamrulbk :
  5. motin.imran07051986@gmail.com : motin.imran07051986@gmail.com :
  6. seyam2858@gmail.com : seyam :
ঢাকা ০৩:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিএটিবির বিরুদ্ধে সাড়ে ২৩ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির প্রমাণ, নোটিশ এনবিআরের

অর্থনীতি প্রতিবেদক
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
১৬

দেশের অন্যতম বৃহৎ বহুজাতিক তামাক কোম্পানি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ (বিএটিবি) অনুমোদিত সীমার চেয়ে অতিরিক্ত সিকিউরিটি স্ট্যাম্প বা ব্যান্ডরোল ‘অপচয়’ দেখিয়ে ২৩ কোটি ২৪ লাখ ৭১ হাজার ২১ টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে বলে প্রমাণ পেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বৃহৎ করদাতা ইউনিট (এলটিইউ-মূসক)।

এ ঘটনায় গত ৮ জুলাই বিএটিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর কারণ দর্শানো নোটিশ জারি করেছে এলটিইউ-মূসক। নোটিশে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে বকেয়া রাজস্ব সরকারি কোষাগারে জমা দিতে বলা হয়েছে। অন্যথায় আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে ভ্যাট বিভাগ।

এনবিআরের অভ্যন্তরীণ অডিট ও ভ্যাট তদন্ত দল ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত তিন মাসের দাখিলপত্র ও ব্যান্ডরোল ব্যবহারের হিসাব পর্যালোচনা করে এই অনিয়ম শনাক্ত করে।

ভ্যাট বিধিমালা অনুযায়ী, সিগারেট উৎপাদনে ব্যবহৃত সিকিউরিটি স্ট্যাম্প বা ব্যান্ডরোলের সর্বোচ্চ ১ শতাংশ পর্যন্ত কারিগরি অপচয়ের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু বিএটিবি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ক্ষেত্রে ৪ দশমিক ৪৯ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ২৬ দশমিক ৩১ শতাংশ পর্যন্ত অপচয় দেখিয়েছে।

নথিপত্র অনুযায়ী, ওই তিন মাসে প্রতিষ্ঠানটি মোট ৫৬ লাখ ৭ হাজার ৮৮৩টি স্ট্যাম্প অপচয় হিসেবে দেখিয়েছে। এর মধ্যে অনুমোদিত ১ শতাংশ সীমার অতিরিক্ত ১০ লাখ ৪ হাজার ৪৫৭টি সিকিউরিটি স্ট্যাম্প নষ্ট বা অপচয় হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

ভ্যাট বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, অতিরিক্ত অপচয় দেখানো এসব স্ট্যাম্পের মূল্য ১ কোটি ৪৮ লাখ ৩৮ হাজার ৭০৮ টাকা। এর বিপরীতে ৬৫ থেকে ৬৭ শতাংশ হারে সম্পূরক শুল্ক দাঁড়ায় ১৮ কোটি ৯৯ লাখ ৪৫ হাজার ৮৩৪ টাকা এবং ১৫ শতাংশ ভ্যাট ৪ কোটি ২৫ লাখ ২৫ হাজার ১৮৭ টাকা। সব মিলিয়ে বকেয়া রাজস্বের পরিমাণ ২৩ কোটি ২৪ লাখ ৭১ হাজার ২১ টাকা।

কারখানা পরিদর্শনে মিলেছে ভিন্ন চিত্র

২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর বিএটিবির সাভার কারখানা পরিদর্শনে যায় ভ্যাট বিভাগের তদন্ত কমিটি। প্রতিষ্ঠানটির দাবি অনুযায়ী, নষ্ট বা অপচয় হওয়া স্ট্যাম্পগুলো বিভিন্ন কার্টনে সংরক্ষণ করা হয়েছিল।

তদন্ত দল কার্টন খুলে কিছু স্ট্যাম্প একেবারে নতুন এবং কিছু সদ্য খোলা প্যাকেটের অবস্থায় দেখতে পায় বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিক অসন্তোষ ও কারখানা বন্ধ থাকার কারণে অনেক স্ট্যাম্প নষ্ট হয়েছে বলে দাবি করলেও এর সপক্ষে প্রয়োজনীয় প্রমাণ দেখাতে পারেনি।

মূসক বিধিমালা, ২০১৬-এর ৮৬ বিধি অনুযায়ী, উৎপাদনে ব্যবহৃত কোনো ব্যান্ডরোল নষ্ট হলে তা নির্দিষ্ট রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করার পাশাপাশি রাজস্ব কর্মকর্তার উপস্থিতিতে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় বিনষ্ট করার বিধান রয়েছে। তবে তদন্তে অতিরিক্ত নষ্ট দেখানো স্ট্যাম্পের কোনো দাপ্তরিক বিনষ্টকরণ সনদ বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার স্বাক্ষরযুক্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে ভ্যাট বিভাগ।

বিএটিবির দাবি, কারখানা বন্ধ ও যান্ত্রিক ত্রুটিতে স্ট্যাম্প নষ্ট

এনবিআরের কারণ দর্শানো নোটিশের জবাবে বিএটিবি রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ অস্বীকার করেছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, শ্রমিক অসন্তোষের কারণে ২০২৫ সালের ১৮ মার্চ থেকে ৬ মে পর্যন্ত কারখানা বন্ধ রাখতে হয়েছিল।

বিএটিবির লিখিত ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, সর্বাধুনিক উচ্চগতির প্যাকেজিং মেশিন চালু থাকা অবস্থায় আকস্মিকভাবে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মেশিনে আটকে থাকা বিপুল পরিমাণ ব্যান্ডরোল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাশাপাশি পেপার জ্যাম ও বিভিন্ন যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেও বিপুলসংখ্যক স্ট্যাম্প নষ্ট হয়েছে।

কোম্পানিটি আরও দাবি করেছে, তৃতীয় পক্ষের সরবরাহ করা কিছু স্ট্যাম্পের কাগজ ও আঠার নিম্নমান এবং কাটিং ত্রুটির কারণেও মেশিনে ব্যবহারের সময় স্ট্যাম্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বিএটিবির যুক্তি, অপচয় হিসেবে দেখানো স্ট্যাম্পগুলোর বিপরীতে কোনো সিগারেট উৎপাদন বা বাজারে সরবরাহ করা হয়নি। ফলে এসব স্ট্যাম্পের ক্ষেত্রে কোনো করযোগ্য ঘটনা ঘটেনি এবং রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগও প্রযোজ্য নয়।

এ ছাড়া তামাকজাত পণ্যের স্ট্যাম্প অপচয় সংক্রান্ত বিষয়ে উচ্চ আদালতের বিভিন্ন রিট ও আপিলের নজির তুলে ধরে প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে, অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি বা কারিগরি ত্রুটির ক্ষেত্রে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি পরিদর্শনের মাধ্যমে নির্ধারণ করা উচিত। তাই কেবল ১ শতাংশ সীমার ভিত্তিতে অতিরিক্ত রাজস্ব দাবি করা যৌক্তিক নয়।

১৫ কার্যদিবসের মধ্যে টাকা জমার নির্দেশ

এলটিইউ-মূসকের নোটিশে মূসক আইন, ২০১২-এর ৭৩ ধারা এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুসারে ২৩ কোটি ২৪ লাখ ৭১ হাজার ২১ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিতে বলা হয়েছে।

তবে বিএটিবি চাইলে নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়ায় ৯০ দিনের মধ্যে কাস্টমস, এক্সাইজ ও মূল্য সংযোজন কর আপিলাত ট্রাইব্যুনালে আপিল করতে পারবে।

ভ্যাট বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, তামাকজাত পণ্যের ব্যান্ডরোলের অপচয়ের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সীমা অতিক্রমের বিষয়ে আইন যথেষ্ট স্পষ্ট। অন্যদিকে বিএটিবি বলছে, কারখানা বন্ধ ও অনিয়ন্ত্রিত কারিগরি সমস্যার মতো বিশেষ পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত অপচয়কে সাধারণ নিয়মে বিবেচনা করা উচিত নয়।

ফলে ২৩ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব দাবিকে কেন্দ্র করে এনবিআর ও বিএটিবির মধ্যে যে বিরোধ তৈরি হয়েছে, এর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি ভবিষ্যতে তামাক খাতসহ অন্যান্য শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অপচয়জনিত রাজস্ব নির্ধারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নজির তৈরি করতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৫:১০:২৮ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে

বিএটিবির বিরুদ্ধে সাড়ে ২৩ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির প্রমাণ, নোটিশ এনবিআরের

আপডেট সময় : ০৫:১০:২৮ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬
১৬

দেশের অন্যতম বৃহৎ বহুজাতিক তামাক কোম্পানি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ (বিএটিবি) অনুমোদিত সীমার চেয়ে অতিরিক্ত সিকিউরিটি স্ট্যাম্প বা ব্যান্ডরোল ‘অপচয়’ দেখিয়ে ২৩ কোটি ২৪ লাখ ৭১ হাজার ২১ টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে বলে প্রমাণ পেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বৃহৎ করদাতা ইউনিট (এলটিইউ-মূসক)।

এ ঘটনায় গত ৮ জুলাই বিএটিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর কারণ দর্শানো নোটিশ জারি করেছে এলটিইউ-মূসক। নোটিশে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে বকেয়া রাজস্ব সরকারি কোষাগারে জমা দিতে বলা হয়েছে। অন্যথায় আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে ভ্যাট বিভাগ।

এনবিআরের অভ্যন্তরীণ অডিট ও ভ্যাট তদন্ত দল ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত তিন মাসের দাখিলপত্র ও ব্যান্ডরোল ব্যবহারের হিসাব পর্যালোচনা করে এই অনিয়ম শনাক্ত করে।

ভ্যাট বিধিমালা অনুযায়ী, সিগারেট উৎপাদনে ব্যবহৃত সিকিউরিটি স্ট্যাম্প বা ব্যান্ডরোলের সর্বোচ্চ ১ শতাংশ পর্যন্ত কারিগরি অপচয়ের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু বিএটিবি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ক্ষেত্রে ৪ দশমিক ৪৯ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ২৬ দশমিক ৩১ শতাংশ পর্যন্ত অপচয় দেখিয়েছে।

নথিপত্র অনুযায়ী, ওই তিন মাসে প্রতিষ্ঠানটি মোট ৫৬ লাখ ৭ হাজার ৮৮৩টি স্ট্যাম্প অপচয় হিসেবে দেখিয়েছে। এর মধ্যে অনুমোদিত ১ শতাংশ সীমার অতিরিক্ত ১০ লাখ ৪ হাজার ৪৫৭টি সিকিউরিটি স্ট্যাম্প নষ্ট বা অপচয় হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

ভ্যাট বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, অতিরিক্ত অপচয় দেখানো এসব স্ট্যাম্পের মূল্য ১ কোটি ৪৮ লাখ ৩৮ হাজার ৭০৮ টাকা। এর বিপরীতে ৬৫ থেকে ৬৭ শতাংশ হারে সম্পূরক শুল্ক দাঁড়ায় ১৮ কোটি ৯৯ লাখ ৪৫ হাজার ৮৩৪ টাকা এবং ১৫ শতাংশ ভ্যাট ৪ কোটি ২৫ লাখ ২৫ হাজার ১৮৭ টাকা। সব মিলিয়ে বকেয়া রাজস্বের পরিমাণ ২৩ কোটি ২৪ লাখ ৭১ হাজার ২১ টাকা।

কারখানা পরিদর্শনে মিলেছে ভিন্ন চিত্র

২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর বিএটিবির সাভার কারখানা পরিদর্শনে যায় ভ্যাট বিভাগের তদন্ত কমিটি। প্রতিষ্ঠানটির দাবি অনুযায়ী, নষ্ট বা অপচয় হওয়া স্ট্যাম্পগুলো বিভিন্ন কার্টনে সংরক্ষণ করা হয়েছিল।

তদন্ত দল কার্টন খুলে কিছু স্ট্যাম্প একেবারে নতুন এবং কিছু সদ্য খোলা প্যাকেটের অবস্থায় দেখতে পায় বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিক অসন্তোষ ও কারখানা বন্ধ থাকার কারণে অনেক স্ট্যাম্প নষ্ট হয়েছে বলে দাবি করলেও এর সপক্ষে প্রয়োজনীয় প্রমাণ দেখাতে পারেনি।

মূসক বিধিমালা, ২০১৬-এর ৮৬ বিধি অনুযায়ী, উৎপাদনে ব্যবহৃত কোনো ব্যান্ডরোল নষ্ট হলে তা নির্দিষ্ট রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করার পাশাপাশি রাজস্ব কর্মকর্তার উপস্থিতিতে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় বিনষ্ট করার বিধান রয়েছে। তবে তদন্তে অতিরিক্ত নষ্ট দেখানো স্ট্যাম্পের কোনো দাপ্তরিক বিনষ্টকরণ সনদ বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার স্বাক্ষরযুক্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে ভ্যাট বিভাগ।

বিএটিবির দাবি, কারখানা বন্ধ ও যান্ত্রিক ত্রুটিতে স্ট্যাম্প নষ্ট

এনবিআরের কারণ দর্শানো নোটিশের জবাবে বিএটিবি রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ অস্বীকার করেছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, শ্রমিক অসন্তোষের কারণে ২০২৫ সালের ১৮ মার্চ থেকে ৬ মে পর্যন্ত কারখানা বন্ধ রাখতে হয়েছিল।

বিএটিবির লিখিত ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, সর্বাধুনিক উচ্চগতির প্যাকেজিং মেশিন চালু থাকা অবস্থায় আকস্মিকভাবে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মেশিনে আটকে থাকা বিপুল পরিমাণ ব্যান্ডরোল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাশাপাশি পেপার জ্যাম ও বিভিন্ন যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেও বিপুলসংখ্যক স্ট্যাম্প নষ্ট হয়েছে।

কোম্পানিটি আরও দাবি করেছে, তৃতীয় পক্ষের সরবরাহ করা কিছু স্ট্যাম্পের কাগজ ও আঠার নিম্নমান এবং কাটিং ত্রুটির কারণেও মেশিনে ব্যবহারের সময় স্ট্যাম্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বিএটিবির যুক্তি, অপচয় হিসেবে দেখানো স্ট্যাম্পগুলোর বিপরীতে কোনো সিগারেট উৎপাদন বা বাজারে সরবরাহ করা হয়নি। ফলে এসব স্ট্যাম্পের ক্ষেত্রে কোনো করযোগ্য ঘটনা ঘটেনি এবং রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগও প্রযোজ্য নয়।

এ ছাড়া তামাকজাত পণ্যের স্ট্যাম্প অপচয় সংক্রান্ত বিষয়ে উচ্চ আদালতের বিভিন্ন রিট ও আপিলের নজির তুলে ধরে প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে, অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি বা কারিগরি ত্রুটির ক্ষেত্রে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি পরিদর্শনের মাধ্যমে নির্ধারণ করা উচিত। তাই কেবল ১ শতাংশ সীমার ভিত্তিতে অতিরিক্ত রাজস্ব দাবি করা যৌক্তিক নয়।

১৫ কার্যদিবসের মধ্যে টাকা জমার নির্দেশ

এলটিইউ-মূসকের নোটিশে মূসক আইন, ২০১২-এর ৭৩ ধারা এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুসারে ২৩ কোটি ২৪ লাখ ৭১ হাজার ২১ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিতে বলা হয়েছে।

তবে বিএটিবি চাইলে নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়ায় ৯০ দিনের মধ্যে কাস্টমস, এক্সাইজ ও মূল্য সংযোজন কর আপিলাত ট্রাইব্যুনালে আপিল করতে পারবে।

ভ্যাট বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, তামাকজাত পণ্যের ব্যান্ডরোলের অপচয়ের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সীমা অতিক্রমের বিষয়ে আইন যথেষ্ট স্পষ্ট। অন্যদিকে বিএটিবি বলছে, কারখানা বন্ধ ও অনিয়ন্ত্রিত কারিগরি সমস্যার মতো বিশেষ পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত অপচয়কে সাধারণ নিয়মে বিবেচনা করা উচিত নয়।

ফলে ২৩ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব দাবিকে কেন্দ্র করে এনবিআর ও বিএটিবির মধ্যে যে বিরোধ তৈরি হয়েছে, এর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি ভবিষ্যতে তামাক খাতসহ অন্যান্য শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অপচয়জনিত রাজস্ব নির্ধারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নজির তৈরি করতে পারে।