লামার সরইতে শতাধিক অবৈধ বালু উত্তোলন পয়েন্টের হিড়িক: বেপরোয়া যুবলীগনেতা সাহাবউদ্দিন ও রিয়াদ সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য
বান্দরবানের লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নের ১,৩, ৪,৫,ও ৭নং ওয়ার্ডের শতাধিক পয়েন্টে যুবলীগ নেতা সাহাবউদ্দিন ও রিয়াদ গং সিন্ডিকেটের অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন ও পাচার কার্যক্রমের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি সাহাবউদ্দিন ও রিয়াদ একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট তৈরি করে দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের নজর এড়িয়ে প্রকাশ্যে দিনরাত অবৈধ বালু উত্তোলন ও পাচার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,সরই ইউনিয়নের তিল্লাছড়া হাবিবুর রহমানপাড়া,আমতলী ও আমতলী বাজারে পরে ,হরিখাল, পতেঙ্গাবিল ,সরই ইউনিয়ন পরিষদের পাশে সরই খালের পান্জাখানা রোড,আমিরের মুরগীর খামার সড়ক,বাইঘ্যার দোকান, বাঘডেপা,জুড়মনি পাড়া,হোসেন মেম্বার পাড়া, হাচানাভিটা ব্রিজের পাশে অবৈধ বালুর (ডিপো)বিভিন্ন গ্রামে প্রকাশ্যে দিন-রাত ২০/৩০ টি সেলুমেশিন বসিয়ে ছোট ছোট নদী ও ঝিরি থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে এই বালুখেকো সিন্ডিকেট চক্র।
স্থানীয়দের অভিযোগ,পার্শ্ববর্তী লোহাগাড়া উপজেলার প্রভাবশালীদের সহায়তা নিয়ে এসব অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে স্থানীয় একাধিক বিএনপির অংগ সহযোগী সংগঠনের সিনিয়র নেতাকর্মীরা। একাধিক সূত্রে মতে বান্দরবান ও লামার বেশ কিছু সিনিয়র রাজনৈতিক নেতাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে সরই ইউনিয়নের বেশ কিছু সহযোগী সংগঠনের নেতাদের নেতৃত্বের কটোর ভূমিকা পালন সহ অনেকে দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
অভিযোগ উঠেছে,৫আগস্টের পর থেকে তারা প্রকাশ্যে হুমকি প্রদর্শন করে এলাকায় বিভিন্ন ভাবে ক্ষমতার প্রভাব বিস্তার করছে এবং অবৈধ বালু ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা জানান, অবৈধ বালু উত্তোলন ও পাচারের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে চাইলে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকির মুখে পড়তে হয় এই বালুখেকো সিন্ডিকেট চক্রের সদস্যদের কাছে। এলাকার সাধারণ মানুষের কাছে এই সাহাবউদ্দিন,রিয়াদ,সাকিব সিন্ডিকেট আতংঙ্কের ত্রাস ও অদৃশ্য শক্তি অবৈধ বালু পাচারকারিদের ডন হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে,এ কারণে অনেকেই আতঙ্কে মুখ খুলতে সাহস পান না। অপরিকল্পিত ও অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে এলাকার কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, পাশাপাশি সরকারের বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত গ্রামীণ সড়ক, ব্রিজ ও কালভার্টও ধ্বংসের ঝুঁকিতে পড়েছে। পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি নদী ও ঝিরির স্বাভাবিক প্রবাহও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় পরিবেশ বাদী ও মানবাধিকার কর্মী রুহুল আমিন ও সচেতন মহল প্রশ্ন তুলেছেন— বড় দল হিসেবে রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় থাকা অবৈধ বালু উত্তোলনকারীরা কি প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের চেয়েও বেশি ক্ষমতাবান?
এ বিষয়ে লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মঈন উদ্দিন বলেন, আপনারা জানেন আমরা এই পর্যন্ত অনেক অভিযান পরিচালনা করছি জেল- জরিমানা দিয়েছি তারপরও “পরিবেশ ধ্বংস, অবৈধ বালু উত্তোলন ও পাচারের সঙ্গে জড়িতরা যে দলের হোক না কেন আর যত বড় নেতা ও প্রভাবশালী হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।”
স্থানীয়দের দাবি, অবৈধ বালু উত্তোলন ও পাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পুনরুদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক, যাতে পরিবেশ ও জনস্বার্থ রক্ষা করা সম্ভব হয়।এলাকাবাসী জানান এই সরই ইউনিয়ন রক্ষা করতে হলে অতি দূত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীসহ যৌথ বাহিনীর অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে অবৈধ বালুখেকো সিন্ডিকেট চক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ এবং ব্যবস্থাগ্রহণ করা দরকার।


























