1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. amirsadeky88@gmail.com : amirsadeky :
  3. kamrul304076@gmail.com : Kamrul :
  4. jamalpurbakshiganj@gmail.com : Kamrulbk :
  5. motin.imran07051986@gmail.com : motin.imran07051986@gmail.com :
  6. seyam2858@gmail.com : seyam :
ঢাকা ০৮:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বৃহত্তম জনসংখ্যার লামা থেকে প্রতিনিধি নেই, চার বাঙালি প্রতিনিধিই সদর উপজেলার—বঞ্চনার অভিযোগ

লেখক, মো: ইনতাজ হোসেন
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

“চার বাঙালি প্রতিনিধি সবাই সদর থেকে! জেলা পরিষদে লামা কি পরিকল্পিতভাবেই উপেক্ষিত?”

বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ পুনর্গঠন ঘিরে উঠেছে প্রতিনিধিত্বের ভারসাম্য নিয়ে নানা প্রশ্ন। জেলার অন্যতম বৃহৎ ও জনবহুল উপজেলা লামা থেকে এবারও কোনো প্রতিনিধি না রাখায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। একই সঙ্গে লামা, আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়ি—এই তিন উপজেলায় বাঙালি জনগোষ্ঠীর উল্লেখযোগ্য বসবাস থাকলেও চারজন বাঙালি প্রতিনিধির সবাইকে বান্দরবান সদর উপজেলা থেকে নেওয়ার বিষয়টিও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

স্থানীয়দের প্রশ্ন—জেলার বৃহত্তর জনসংখ্যার একটি বড় অংশের বসবাস যেখানে, সেই লামা উপজেলা থেকে জেলা পরিষদের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে একজন প্রতিনিধিও কেন রাখা হলো না?
জেলা পরিষদের প্রতিনিধিত্ব নির্ধারণে যদি জনসংখ্যা, ভৌগোলিক ভারসাম্য ও সব জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণকে গুরুত্ব দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে লামা, আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়ি থেকে কোনো বাঙালি প্রতিনিধি না থাকার কারণ কী—এ প্রশ্নও সামনে এসেছে।

সচেতন মহলের কেউ কেউ জানতে চাইছেন, উল্লেখিত তিন উপজেলায় কি একজনও যোগ্য বাঙালি প্রতিনিধি পাওয়া গেল না? নাকি লামা উপজেলাকে পরিকল্পিতভাবে জেলা পরিষদের ক্ষমতার অংশগ্রহণ থেকে দূরে রাখা হচ্ছে?
এর আগে ২০২৪ সালেও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জেলা পরিষদ পুনর্গঠনের সময় লামা উপজেলা থেকে কোনো প্রতিনিধি রাখা হয়নি। এবারও একই চিত্র দেখা যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—পরপর দুইবার লামাকে প্রতিনিধিত্বহীন রাখা কি নিছক কাকতালীয়, নাকি এর পেছনে কোনো বিশেষ কারণ রয়েছে?

লামা উপজেলা একটি পৌরসভা ও সাতটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। জনসংখ্যার দিক থেকেও এটি বান্দরবান জেলার গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা। পাশাপাশি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পর্যটন সম্ভাবনার কারণে সাম্প্রতিক সময়ে লামা দেশি-বিদেশি পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। পর্যটন, যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে সম্ভাবনাময় এই উপজেলার মানুষের স্বার্থ তুলে ধরতে জেলা পরিষদের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে স্থানীয় প্রতিনিধিত্ব প্রয়োজন বলে মনে করছেন অনেকে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, প্রতিনিধিত্ব শুধু পদ দেওয়ার বিষয় নয়; এটি একটি অঞ্চলের মানুষের কথা বলার সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক সুযোগের সঙ্গে জড়িত। তাই জেলার গুরুত্বপূর্ণ একটি উপজেলা থেকে ধারাবাহিকভাবে কোনো প্রতিনিধি না থাকলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠবে—জেলা পরিষদ পুনর্গঠন কতটা ভারসাম্যপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়েছে?
তাদের দাবি, জেলা পরিষদের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে প্রতিনিধি নির্বাচনের ক্ষেত্রে শুধু একটি উপজেলার ওপর নির্ভর না করে জেলার সব উপজেলা ও জনগোষ্ঠীর জনসংখ্যা, যোগ্যতা, ভৌগোলিক ভারসাম্য এবং প্রতিনিধিত্বের ন্যায্যতা বিবেচনায় নেওয়া উচিত।
এদিকে লামা থেকে পরপর দুইবার প্রতিনিধি না রাখার বিষয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। তারা বলছেন, “যদি লামার মানুষের জন্য জেলা পরিষদে কোনো প্রতিনিধিত্বের সুযোগই না থাকে, তাহলে জেলার উন্নয়ন পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে লামার জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে কীভাবে?”
এখন মূল প্রশ্ন—বান্দরবান জেলা পরিষদ পুনর্গঠনে লামাকে কেন আবারও বাইরে রাখা হলো? এটি কি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, নাকি প্রতিনিধিত্ব বণ্টনে কোনো বিশেষ হিসাব?
এই প্রশ্নের স্বচ্ছ ব্যাখ্যাই এখন প্রত্যাশা করছেন লামাবাসী।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০২:২৮:৫৩ অপরাহ্ণ, সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

বৃহত্তম জনসংখ্যার লামা থেকে প্রতিনিধি নেই, চার বাঙালি প্রতিনিধিই সদর উপজেলার—বঞ্চনার অভিযোগ

আপডেট সময় : ০২:২৮:৫৩ অপরাহ্ণ, সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬

“চার বাঙালি প্রতিনিধি সবাই সদর থেকে! জেলা পরিষদে লামা কি পরিকল্পিতভাবেই উপেক্ষিত?”

বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ পুনর্গঠন ঘিরে উঠেছে প্রতিনিধিত্বের ভারসাম্য নিয়ে নানা প্রশ্ন। জেলার অন্যতম বৃহৎ ও জনবহুল উপজেলা লামা থেকে এবারও কোনো প্রতিনিধি না রাখায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। একই সঙ্গে লামা, আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়ি—এই তিন উপজেলায় বাঙালি জনগোষ্ঠীর উল্লেখযোগ্য বসবাস থাকলেও চারজন বাঙালি প্রতিনিধির সবাইকে বান্দরবান সদর উপজেলা থেকে নেওয়ার বিষয়টিও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

স্থানীয়দের প্রশ্ন—জেলার বৃহত্তর জনসংখ্যার একটি বড় অংশের বসবাস যেখানে, সেই লামা উপজেলা থেকে জেলা পরিষদের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে একজন প্রতিনিধিও কেন রাখা হলো না?
জেলা পরিষদের প্রতিনিধিত্ব নির্ধারণে যদি জনসংখ্যা, ভৌগোলিক ভারসাম্য ও সব জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণকে গুরুত্ব দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে লামা, আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়ি থেকে কোনো বাঙালি প্রতিনিধি না থাকার কারণ কী—এ প্রশ্নও সামনে এসেছে।

সচেতন মহলের কেউ কেউ জানতে চাইছেন, উল্লেখিত তিন উপজেলায় কি একজনও যোগ্য বাঙালি প্রতিনিধি পাওয়া গেল না? নাকি লামা উপজেলাকে পরিকল্পিতভাবে জেলা পরিষদের ক্ষমতার অংশগ্রহণ থেকে দূরে রাখা হচ্ছে?
এর আগে ২০২৪ সালেও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জেলা পরিষদ পুনর্গঠনের সময় লামা উপজেলা থেকে কোনো প্রতিনিধি রাখা হয়নি। এবারও একই চিত্র দেখা যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—পরপর দুইবার লামাকে প্রতিনিধিত্বহীন রাখা কি নিছক কাকতালীয়, নাকি এর পেছনে কোনো বিশেষ কারণ রয়েছে?

লামা উপজেলা একটি পৌরসভা ও সাতটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। জনসংখ্যার দিক থেকেও এটি বান্দরবান জেলার গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা। পাশাপাশি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পর্যটন সম্ভাবনার কারণে সাম্প্রতিক সময়ে লামা দেশি-বিদেশি পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। পর্যটন, যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে সম্ভাবনাময় এই উপজেলার মানুষের স্বার্থ তুলে ধরতে জেলা পরিষদের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে স্থানীয় প্রতিনিধিত্ব প্রয়োজন বলে মনে করছেন অনেকে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, প্রতিনিধিত্ব শুধু পদ দেওয়ার বিষয় নয়; এটি একটি অঞ্চলের মানুষের কথা বলার সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক সুযোগের সঙ্গে জড়িত। তাই জেলার গুরুত্বপূর্ণ একটি উপজেলা থেকে ধারাবাহিকভাবে কোনো প্রতিনিধি না থাকলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠবে—জেলা পরিষদ পুনর্গঠন কতটা ভারসাম্যপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়েছে?
তাদের দাবি, জেলা পরিষদের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে প্রতিনিধি নির্বাচনের ক্ষেত্রে শুধু একটি উপজেলার ওপর নির্ভর না করে জেলার সব উপজেলা ও জনগোষ্ঠীর জনসংখ্যা, যোগ্যতা, ভৌগোলিক ভারসাম্য এবং প্রতিনিধিত্বের ন্যায্যতা বিবেচনায় নেওয়া উচিত।
এদিকে লামা থেকে পরপর দুইবার প্রতিনিধি না রাখার বিষয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। তারা বলছেন, “যদি লামার মানুষের জন্য জেলা পরিষদে কোনো প্রতিনিধিত্বের সুযোগই না থাকে, তাহলে জেলার উন্নয়ন পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে লামার জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে কীভাবে?”
এখন মূল প্রশ্ন—বান্দরবান জেলা পরিষদ পুনর্গঠনে লামাকে কেন আবারও বাইরে রাখা হলো? এটি কি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, নাকি প্রতিনিধিত্ব বণ্টনে কোনো বিশেষ হিসাব?
এই প্রশ্নের স্বচ্ছ ব্যাখ্যাই এখন প্রত্যাশা করছেন লামাবাসী।