চীন থেকে ২০টি জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কিনছে বাংলাদেশ
চীন থেকে ২০টি জে-১০সিই মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান কেনার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে বাংলাদেশ। এ জন্য ২ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ২৬ হাজার ৩১৪ কোটি টাকা ব্যয়ের একটি চুক্তির খসড়া তৈরি করা হয়েছে। আট অর্থবছরে এ অর্থ পরিশোধের পরিকল্পনা রয়েছে।
সরকারি সূত্রের বরাতে সমকাল জানিয়েছে, বিমানগুলোর ১০টি বিমানবাহিনীর ঘাটতি পূরণে এবং বাকি ১০টি নতুন স্কোয়াড্রন গঠনে ব্যবহার করা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান মঙ্গলবার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে জানান, চীন থেকে জে-১০ যুদ্ধবিমান কেনার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে সরকার।
নথি সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি জে-১০সিই যুদ্ধবিমানের দাম ৬ কোটি ২৭ লাখ ডলার। প্রতি ডলার ১২৩ টাকা হিসাবে প্রতিটি বিমানের দাম প্রায় ৭৭১ কোটি টাকা। ২০টি বিমানের জন্য ব্যয় হবে ১২৫ কোটি ৬২ লাখ ডলার বা প্রায় ১৫ হাজার ৪০০ কোটি টাকা।
এ ছাড়া বিমান পরিচালনার প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় অপারেশনাল সরঞ্জামের জন্য আরও ৮৮ লাখ ৮৩ হাজার ডলার ব্যয়ের হিসাব রয়েছে।
২০৩৪-৩৫ অর্থবছর পর্যন্ত চলবে ক্রয়প্রক্রিয়া
প্রাথমিকভাবে ২০২৫-২৬ ও ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মধ্যে চুক্তি বাস্তবায়নের কথা বলা হলেও সাম্প্রতিক নথিতে দেখা গেছে, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে ২০৩৪-৩৫ অর্থবছর পর্যন্ত ক্রয়প্রক্রিয়া ও অর্থ পরিশোধ চলবে।
প্রতিরক্ষা সূত্র জানিয়েছে, ২০২৭ সালের মধ্যে ছয়টি জে-১০সিই বাংলাদেশ পেতে চায়। বাকি ১৪টি ধাপে ধাপে দেশে আসবে।
বিমান ক্রয়ের কারিগরি ও আর্থিক প্রস্তাব মূল্যায়ন করছে বিমানবাহিনী। যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম, দূরপাল্লার রাডার, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম এবং প্যাসিভ ডিফেন্স সিস্টেম কেনার বিষয়েও কারিগরি মূল্যায়ন চলছে।
জিটুজি পদ্ধতিতে কেনার পরিকল্পনা
নথি অনুযায়ী, চীন সরকারের সঙ্গে সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) পদ্ধতিতে অথবা চীনের যুদ্ধবিমান প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান চায়না ন্যাশনাল অ্যারো-টেকনোলজি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশনের (সিএটিআইসি) সঙ্গে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধবিমানগুলো কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক নথিতে জিটুজি পদ্ধতিতে কেনার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
জে-১০ এবং অ্যাটাক হেলিকপ্টার ক্রয়ে গঠিত কমিটি দরকষাকষির বৈঠকের জন্য খসড়া চুক্তিপত্র তৈরি করে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে পাঠিয়েছে।
চুক্তি অনুযায়ী বিমানবাহিনীতে নতুন মাল্টিরোল কমব্যাট এয়ারক্রাফট ইউনিট গঠন, এয়ার ওয়ারফেয়ার সেন্টার ও ফিল্ড ইউনিট পুনর্গঠন এবং বিমানঘাঁটির সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া অ্যারোস্পেস গবেষণা ও উন্নয়ন কমপ্লেক্স স্থাপনের কিছু কার্যক্রমও প্রক্রিয়াধীন।
বাংলাদেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে বিমানবাহিনীর কার্যক্রম সম্প্রসারণে বগুড়ায় পূর্ণাঙ্গ বিমানঘাঁটি স্থাপনের জন্য ভূমি অধিগ্রহণের কাজও চলছে বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
কেন জে-১০সিই
বাংলাদেশের আকাশ প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করতে আধুনিক যুদ্ধবিমান সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি সূত্রের ভাষ্য, দেশের বর্তমান যুদ্ধবিমানগুলোর বেশির ভাগই পুরোনো এবং আধুনিক নিরাপত্তাব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন।
জে-১০সিই শব্দের চেয়ে দ্বিগুণের বেশি গতিতে উড়তে সক্ষম এবং আক্রমণ ও প্রতিরক্ষা—দুই ধরনের মিশনেই ব্যবহারযোগ্য। এটি চীনের চেংদু জে-১০ সিরিজের একটি উন্নত রপ্তানি সংস্করণ।
গত বছরের মে মাসে ভারত-পাকিস্তান সংঘাতে পাকিস্তান চীনের তৈরি জে-১০সিই ব্যবহার করেছিল। ওই সংঘাতে জে-১০সিই দিয়ে ভারতীয় যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করে পাকিস্তান। তবে ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট সংখ্যা নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে।
এই সংঘাতের পর জে-১০সিই নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আগ্রহ বাড়ে। বাংলাদেশও এর আগে আধুনিক যুদ্ধবিমান কেনার জন্য ফ্রান্সের রাফাল, ইউরোফাইটার টাইফুন ও যুক্তরাষ্ট্রের এফ-১৬সহ বিভিন্ন মডেল নিয়ে আলোচনা করেছিল।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, ভারত-পাকিস্তান সংঘাতে জে-১০সিইয়ের পারফরম্যান্সের বিষয়টিও বাংলাদেশ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। একই সঙ্গে চতুর্থ প্রজন্মের মাল্টিরোল কমব্যাট এয়ারক্রাফট, অ্যাটাক হেলিকপ্টার, ভিআইপি হেলিকপ্টার ও ইউএভি সিস্টেম সংগ্রহের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।























