ভোলায় প্লাস্টিক-পলিথিনের ক্ষতি নিয়ে বেলার সচেতনতামূলক কর্মসূচি
একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক ও পলিথিনের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং এর ব্যবহার বর্জনে উদ্বুদ্ধ করতে ভোলায় সচেতনতামূলক প্রচারাভিযান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ভোলার মাছুমা খানম বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) এ প্রচারাভিযানের আয়োজন করে। এতে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক-পলিথিনের ক্ষতিকর দিক এবং পরিবেশবান্ধব বিকল্প ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
প্রচারাভিযানে বলা হয়, প্লাস্টিক মানুষের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠলেও ব্যবহারের পর যত্রতত্র ফেলে দেওয়ায় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। পলিথিন ও প্লাস্টিক মাটির উর্বরতা ও জৈবগুণ নষ্ট করার পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ পানি দূষিত করছে। একই সঙ্গে ড্রেন ও নালা-নর্দমায় জমে পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে জলাবদ্ধতা বাড়াচ্ছে।
এ ছাড়া প্লাস্টিক বর্জ্য জলজ প্রাণীর জীবন ও প্রজনন ব্যবস্থার জন্য হুমকি তৈরি করছে। খাদ্যচক্রের মাধ্যমে প্লাস্টিকের ক্ষতিকর রাসায়নিক মানবদেহে প্রবেশের আশঙ্কা রয়েছে বলেও প্রচারাভিযানে সতর্ক করা হয়। বিশেষ করে প্লাস্টিকের বিভিন্ন উপাদানে থাকা সম্ভাব্য কার্সিনোজেনিক ও এনডোক্রাইন-বিঘ্নকারী রাসায়নিকের বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
প্রচারাভিযানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বন্ধে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের বিষয় তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশে পলিথিন ব্যাগের উৎপাদন, আমদানি, বাজারজাত, বিক্রি, মজুদ, বিতরণ ও ব্যবহার বন্ধে বিদ্যমান আইনি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার দাবি জানানো হয়।
বক্তারা বলেন, শুধু আইন প্রয়োগ কিংবা ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করে প্লাস্টিক-পলিথিনের ব্যবহার বন্ধ করা সম্ভব নয়। এজন্য জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি। ব্যবহারের পর দ্রুত প্রকৃতির সঙ্গে মিশে যায়—এমন পরিবেশবান্ধব উপাদান ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
তারা আরও বলেন, পুনর্ব্যবহারের মাধ্যমে প্লাস্টিকের পরিবেশগত ক্ষতি কিছুটা কমানো সম্ভব হলেও একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার এড়িয়ে চলাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও মানবজীবন রক্ষায় প্লাস্টিক-পলিথিন বর্জনে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
আয়োজকরা বলেন, সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিত উদ্যোগ এবং বিদ্যমান আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্লাস্টিক দূষণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এ জন্য পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।
মোঃ সুলাইমান
ভোলা জেলা প্রতিনিধি



























