1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. amirsadeky88@gmail.com : amirsadeky :
  3. faysalajony@gmail.com : FAYSAL AHMED :
  4. kamrul304076@gmail.com : Kamrul :
  5. jamalpurbakshiganj@gmail.com : Kamrulbk :
  6. motin.imran07051986@gmail.com : motin.imran07051986@gmail.com :
  7. seyam2858@gmail.com : seyam :
ঢাকা ০৯:৫৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফকিরহাটে ধর্ম পরিবর্তন করে বিয়ের পর শিক্ষকের প্রতারণা: বিচার না পেলে আত্মহত্যার হুঁশিয়ারি গৃহবধূর

​ফকিরহাট প্রতিনিধিঃ
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাগেরহাটের ফকিরহাটে এক মাধ্যমিক স্কুল শিক্ষকের বিরুদ্ধে নির্যাতন, কৌশলে আগের সংসার ভাঙা, তিনটি ভ্রূণ হত্যা (গর্ভপাত) এবং হিন্দু থেকে ইসলাম ধর্ম পরিবর্তন করে বিয়ের পর ২৫ লাখ টাকা দাবি করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে।

​শনিবার স্থানীয় সংবাদ সম্মেলন কক্ষে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন ভুক্তভোগী গৃহবধূ মারিয়া বেগম একতা (৩২)। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম দেবাশীষ বসু (অটল) ওরফে মুহাম্মদ আলী, যিনি ফকিরহাট উপজেলার ফকিরহাট সদর ইউনিয়নের কাঠালতলা কাজী আজাহার আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত।

​সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মারিয়া বেগম বলেন, “আমি আমার স্বামী শের আলী ও দুই সন্তানকে নিয়ে আট্টাকী ঘোষপাড়ার বসতবাড়িতে সুখে-শান্তিতে বসবাস করছিলাম। কয়েক বছর আগে শিক্ষক দেবাশীষ বসু ব্যবসার উদ্দেশ্যে আমাদের একটি ঘর ভাড়া নেন। ভাড়াটিয়া হওয়ার পর থেকেই তিনি আমাকে বিভিন্ন সময় কু-প্রস্তাব দিতে থাকেন। একদিন বাসায় কেউ না থাকার সুযোগে তিনি আমাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন।

​তিনি আরও জানান, ধর্ষণের ঘটনা কাউকে জানালে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে দেবাশীষ বসু তাকে বিয়ে করা এবং হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে মুসলিম হওয়ার আশ্বাস দিয়ে দীর্ঘ ৫ বছর ধরে প্রলোভনে ফেলে রাখেন। তার প্ররোচনায় পড়ে মারিয়া স্বামী শের আলীকে ডিভোর্স দিতে বাধ্য হন। এই ৫ বছরের মধ্যে অভিযুক্ত শিক্ষক প্রতারণা করে মারিয়ার তিনটি ভ্রূণ হত্যা (গর্ভপাত) করান এবং কৌশলে জমির দলিল হাতিয়ে নিয়ে ব্যাংকে লোন উত্তোলন করেন।

​পরবর্তী সময়ে দেবাশীষ বসু আদালত থেকে এফিডেভিট ও কালেমা পাঠ করে হিন্দু ধর্ম ত্যাগপূর্বক ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং ‘মুহাম্মদ আলী’ নাম ধারণ করে মারিয়াকে রেজিস্ট্রি বিবাহ করেন।

​তবে ধর্ম পরিবর্তন ও বিয়ের পর থেকেই শিক্ষকের আচরণ বদলে যায় বলে জানান মারিয়া। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “বিয়ের পর সে আমাকে স্ত্রীর মর্যাদা না দিয়ে জমি বিক্রি করে নগদ ২৫ লাখ টাকা এনে দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। টাকা না দিলে আমাকে বউ হিসেবে স্বীকৃতি দেবে না এবং এই বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা বা মুখ খুললে আমাকে ও আমার দুই সন্তানকে গুম করে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে।”

​আবেগপ্লুত কণ্ঠে মারিয়া বলেন, “আমি কেবল আমার স্ত্রীর স্বীকৃতি চাই এবং স্বামীর সাথে স্বাভাবিক সংসার করতে চাই। মান-সম্মান হারিয়ে আমি আজ দিশেহারা। যদি আমি এই বিয়ের সামাজিক স্বীকৃতি ও ন্যায়বিচার না পাই, তবে আমার আর বেঁচে থাকার বা মারা যাওয়া ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না।”

​সংবাদ সম্মেলন থেকে ভুক্তভোগী নারী তার ও তার সন্তানদের নিরাপত্তা দাবি করেন এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০১:৫১:১৩ অপরাহ্ণ, শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

ফকিরহাটে ধর্ম পরিবর্তন করে বিয়ের পর শিক্ষকের প্রতারণা: বিচার না পেলে আত্মহত্যার হুঁশিয়ারি গৃহবধূর

আপডেট সময় : ০১:৫১:১৩ অপরাহ্ণ, শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬

বাগেরহাটের ফকিরহাটে এক মাধ্যমিক স্কুল শিক্ষকের বিরুদ্ধে নির্যাতন, কৌশলে আগের সংসার ভাঙা, তিনটি ভ্রূণ হত্যা (গর্ভপাত) এবং হিন্দু থেকে ইসলাম ধর্ম পরিবর্তন করে বিয়ের পর ২৫ লাখ টাকা দাবি করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে।

​শনিবার স্থানীয় সংবাদ সম্মেলন কক্ষে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন ভুক্তভোগী গৃহবধূ মারিয়া বেগম একতা (৩২)। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম দেবাশীষ বসু (অটল) ওরফে মুহাম্মদ আলী, যিনি ফকিরহাট উপজেলার ফকিরহাট সদর ইউনিয়নের কাঠালতলা কাজী আজাহার আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত।

​সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মারিয়া বেগম বলেন, “আমি আমার স্বামী শের আলী ও দুই সন্তানকে নিয়ে আট্টাকী ঘোষপাড়ার বসতবাড়িতে সুখে-শান্তিতে বসবাস করছিলাম। কয়েক বছর আগে শিক্ষক দেবাশীষ বসু ব্যবসার উদ্দেশ্যে আমাদের একটি ঘর ভাড়া নেন। ভাড়াটিয়া হওয়ার পর থেকেই তিনি আমাকে বিভিন্ন সময় কু-প্রস্তাব দিতে থাকেন। একদিন বাসায় কেউ না থাকার সুযোগে তিনি আমাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন।

​তিনি আরও জানান, ধর্ষণের ঘটনা কাউকে জানালে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে দেবাশীষ বসু তাকে বিয়ে করা এবং হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে মুসলিম হওয়ার আশ্বাস দিয়ে দীর্ঘ ৫ বছর ধরে প্রলোভনে ফেলে রাখেন। তার প্ররোচনায় পড়ে মারিয়া স্বামী শের আলীকে ডিভোর্স দিতে বাধ্য হন। এই ৫ বছরের মধ্যে অভিযুক্ত শিক্ষক প্রতারণা করে মারিয়ার তিনটি ভ্রূণ হত্যা (গর্ভপাত) করান এবং কৌশলে জমির দলিল হাতিয়ে নিয়ে ব্যাংকে লোন উত্তোলন করেন।

​পরবর্তী সময়ে দেবাশীষ বসু আদালত থেকে এফিডেভিট ও কালেমা পাঠ করে হিন্দু ধর্ম ত্যাগপূর্বক ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং ‘মুহাম্মদ আলী’ নাম ধারণ করে মারিয়াকে রেজিস্ট্রি বিবাহ করেন।

​তবে ধর্ম পরিবর্তন ও বিয়ের পর থেকেই শিক্ষকের আচরণ বদলে যায় বলে জানান মারিয়া। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “বিয়ের পর সে আমাকে স্ত্রীর মর্যাদা না দিয়ে জমি বিক্রি করে নগদ ২৫ লাখ টাকা এনে দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। টাকা না দিলে আমাকে বউ হিসেবে স্বীকৃতি দেবে না এবং এই বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা বা মুখ খুললে আমাকে ও আমার দুই সন্তানকে গুম করে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে।”

​আবেগপ্লুত কণ্ঠে মারিয়া বলেন, “আমি কেবল আমার স্ত্রীর স্বীকৃতি চাই এবং স্বামীর সাথে স্বাভাবিক সংসার করতে চাই। মান-সম্মান হারিয়ে আমি আজ দিশেহারা। যদি আমি এই বিয়ের সামাজিক স্বীকৃতি ও ন্যায়বিচার না পাই, তবে আমার আর বেঁচে থাকার বা মারা যাওয়া ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না।”

​সংবাদ সম্মেলন থেকে ভুক্তভোগী নারী তার ও তার সন্তানদের নিরাপত্তা দাবি করেন এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।