তিনজনে চলছে বুটেক্সের আইসিটি সেল, জনবল সংকটে ব্যাহত ডিজিটাল সেবা
বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) আইসিটি সেলের কার্যক্রম চলছে মাত্র তিনজন কর্মকর্তা দিয়ে। এর মধ্যে প্রোগ্রামিং ও ওয়েবসাইটের দায়িত্বে রয়েছেন একজন এবং নেটওয়ার্ক ও হার্ডওয়্যারের দায়িত্বে রয়েছেন দুইজন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট থেকে শুরু করে ক্যাম্পাসের নেটওয়ার্ক, ওয়াইফাই, বিভিন্ন হার্ডওয়্যার ও দৈনন্দিন প্রযুক্তিগত সেবা—সবই এই সীমিত জনবল দিয়ে সামলাতে হচ্ছে।
জনবল সংকটের প্রভাব সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে দৈনন্দিন প্রযুক্তিগত সেবা দিতে গিয়ে। নেটওয়ার্ক ও হার্ডওয়্যারের দায়িত্বে থাকা দুজন কর্মকর্তাকে পুরো ক্যাম্পাস এবং আবাসিক হলেরর নেটওয়ার্ক দেখাশোনার পাশাপাশি শিক্ষক ও বিভিন্ন দপ্তরের কম্পিউটার, উইন্ডোজ ইনস্টলেশন, প্রিন্টার, স্ক্যানার, ডিসপ্লে, ইন্টারকম ও আইপি ফোনসহ নানা ধরনের প্রযুক্তিগত সমস্যার সমাধান করতে হয়।
শুধু অফিস বা নেটওয়ার্কের কাজ নয়, শ্রেণিকক্ষের প্রজেক্টর, সাউন্ড সিস্টেম কিংবা ইলেকট্রনিক বোর্ডে সমস্যা হলেও আইসিটি সেলের কর্মকর্তাদের সেখানে গিয়ে সমাধান করতে হয়। এসব সমস্যার অনেকগুলো সরাসরি ঘটনাস্থলে না গেলে সমাধান করা সম্ভব হয় না। ফলে একজন কর্মকর্তা কোনো ভবন বা আবাসিক এলাকায় সমস্যা সমাধানের জন্য গেলে একই সময়ে ক্যাম্পাসের অন্য জায়গায় তৈরি হওয়া সমস্যাগুলোর সমাধান করতে দেরি হয়ে যায়। বিশেষ করে ক্লাস চলাকালে শ্রেণিকক্ষের প্রযুক্তিগত সমস্যা কিংবা শিক্ষকদের জরুরি প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে অনেক সময় শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন অভিযোগের সমাধানেও দেরি হয়।
ক্যাম্পাস ও আবাসিক হলের ওয়াইফাই নিয়েও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ রয়েছে। আইসিটি সেলের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, শুধু নতুন একাডেমিক ভবনেই প্রায় ৬৫টি অ্যাকসেস পয়েন্ট রয়েছে। কোনো অ্যাকসেস পয়েন্টের ফার্মওয়্যার আপডেট, নেটওয়ার্ক সুইচ, সুইচের ইউপিএস বা বিদ্যুৎ সংযোগে সমস্যা হলে সংশ্লিষ্ট অংশের নেটওয়ার্ক বন্ধ হয়ে যায়। সমস্যা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আইসিটি সেলকে জানানো না হলে সেটি শনাক্ত করতে এবং পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ এনে প্রতিস্থাপন ও কনফিগার করতেও সময় লাগে। সীমিত জনবল নিয়ে একই সময়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গার এসব সমস্যা সামলাতে গিয়ে ওয়াইফাই ও নেটওয়ার্কের অভিযোগের সমাধানে হিমসিম খেতে হচ্ছে।
এর মধ্যেই পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর অপেক্ষায় রয়েছে বুটেক্সের নতুন ওয়েবসাইট। আইসিটি সেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে নতুন ওয়েবসাইট তৈরির কাজ শুরু হয়। ওয়েবসাইট তৈরির কাজ শেষ হলেও পুরোনো ওয়েবসাইটের তথ্য নতুনটিতে স্থানান্তরের কাজ এখনো শেষ হয়নি। ফলাফল, একাডেমিক নোটিশসহ বিভিন্ন তথ্য পর্যায়ক্রমে যুক্ত করা হচ্ছে। ডেটা এন্ট্রি অপারেটর না থাকায় অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে এ কাজ করছেন টেক্সটাইল ম্যাটেরিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট সাদিয়া ইসলাম। ল্যাবের নিয়মিত কাজের পাশাপাশি অবশিষ্ট সময়ে তাকে ওয়েবসাইটের তথ্য ইনপুট ও হালনাগাদ করতে হচ্ছে। এতে তার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে এবং কাজের গতিও ব্যাহত হচ্ছে। তথ্য স্থানান্তর শেষ হওয়ার পর প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই করে ওয়েবসাইটটি সবার জন্য চালু করা হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে আরও এক থেকে দুই মাস সময় লাগতে পারে।
নেটওয়ার্ক ও হার্ডওয়্যারের দায়িত্বে থাকা সহকারী রক্ষণাবেক্ষণ প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার রুবেল রানা বলেন, “পুরো আইসিটি সেলের জনবল মাত্র তিনজন, আর নেটওয়ার্ক ও হার্ডওয়্যারের দায়িত্বে আছি আমরা মাত্র দুইজন। এত বড় একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রযুক্তিগত অবকাঠামো মাত্র দুইজন কর্মকর্তার পক্ষে সামলানো অত্যন্ত কঠিন কাজ। প্রয়োজনের তুলনায় জনবল ভয়াবহভাবে কম হওয়ায় সেবার গতি ও মান দুটিই চাপের মুখে পড়ছে।”
আইসিটি সেলের প্রোগ্রামার ইঞ্জিনিয়ার মো. আশিফুর রহমান বলেন, “ওয়েবসাইট, সফটওয়্যার ও তথ্য হালনাগাদের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য প্রয়োজনীয় জনবল নেই। নতুন ওয়েবসাইটের তথ্য স্থানান্তরের কাজও সীমিত জনবল দিয়ে চালাতে হচ্ছে এবং আলাদা কোনো ডাটা এন্ট্রি অপারেটর নেই। বর্তমান জনবল দিয়ে নিয়মিত কাজ চালানোই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, পর্যাপ্ত লোকবল থাকলে এসব কাজ অনেক দ্রুত, নির্ভুল ও কার্যকরভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হতো।”
এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন বলেন, আইসিটি সেলের জনবল সংকট সমাধানে ইতোমধ্যে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) কাছে জনবল নিয়োগের জন্য আবেদন করা হয়েছে। পাশাপাশি বর্তমানে আবাসন সংকটের কারণে আইসিটি সেলের অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। সীমিত জনবল নিয়ে কাজ চালিয়ে গেলেও তিনি সেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আরও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।


























