ইরানে আফগান নাগরিকদের মৃত্যুদণ্ড নিয়ে উদ্বেগ, ৮৫ জনের ফাঁসি
ইরানে আফগান নাগরিকদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর ও সাজা দেওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংস্থা ইরানিয়ান হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশন (আইএইচআরও)।
শনিবার (২৯ আগস্ট) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানিয়েছে, ইরানে প্রতি মাসে অন্তত একজন আফগান নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। একই সময়ে অন্তত তিনজন আফগান নাগরিককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাদকসংক্রান্ত অপরাধ, হত্যা, ইসরায়েলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ এবং সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার মতো বিভিন্ন অভিযোগে এসব মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
তবে এসব মামলায় স্বচ্ছতার ঘাটতি ছিল বলে অভিযোগ করেছে মানবাধিকার সংস্থাটি। তাদের দাবি, অভিযুক্তদের আইনজীবীদের মামলায় প্রবেশাধিকার সীমিত ছিল এবং বিচারপ্রক্রিয়াতেও পর্যাপ্ত স্বচ্ছতা ছিল না। এমনকি দণ্ডপ্রাপ্তদের পরিবারের সদস্যদেরও মামলা ও তাদের স্বজনদের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য জানতে দেওয়া হয়নি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বেশিরভাগ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে সিরাজের আবেলাবাদ কারাগার, তাইবাদ কারাগার, ইয়াজদ কারাগার এবং ইস্ফাহানের দাস্তগার্ড কারাগারে।
এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে মাদকসংক্রান্ত অপরাধে। এছাড়া ইস্ফাহানের আলিখানি স্কয়ারে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে গুল মোহাম্মদ ও কাইম হোসেনি নামে দুই আফগান নাগরিককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ওই এলাকায় বিক্ষোভ হয়েছিল।
অন্যদিকে আফসার শাহ-আহমাদি, সাফাই ও সদরুদ্দিন আহমেদাজাদ নামে আরও তিন আফগান নাগরিককে গত জুলাইয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তাদের বিরুদ্ধে একটি থানা পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছিল।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব আফগান নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তা প্রকাশ্যে ঘোষণা করা হয়নি। ফলে ইরানে ঠিক কতজন আফগান নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, তা নিরূপণ করা কঠিন।
ইরানিয়ান হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশনের তথ্য অনুযায়ী, এর আগে ২০২৫ সালে ইরানে ৮৫ জন আফগান নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল।
সূত্র: খামা প্রেস


























