সম্পত্তি লিখে না দেওয়ায় বৃদ্ধা মায়ের মাথায় ইটের আঘাত, পরে পায়ের রগ কাটার অভিযোগ; ছেলে গ্রেপ্তার
নওগাঁর ধামইরহাটে মায়ের নামে থাকা জমি-সম্পত্তি নিজের নামে লিখে নিতে না পেরে বৃদ্ধা মায়ের মাথায় ইট দিয়ে আঘাত এবং পরে ধারালো চাকু দিয়ে পায়ের রগ কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছেলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ছেলে মো. আসাদুজ্জামান শামীম (৩৭)-কে গ্রেপ্তার করেছে ধামইরহাট থানা পুলিশ।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৩ নম্বর আলমপুর ইউনিয়নের বস্তাবর গ্রামের বাসিন্দা আঞ্জুমান আরা (৬৮)-এর নামে কিছু জমি-সম্পত্তি রয়েছে। তার ছেলে মো. আসাদুজ্জামান শামীম দীর্ঘদিন ধরে ওই সম্পত্তি নিজের নামে লিখে নেওয়ার জন্য মায়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করে আসছিলেন। এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, জমি লিখে না দিলে তাকে প্রাণে হত্যা করা হবে বলেও বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি ও হুমকি দিতেন শামীম।
এজাহার অনুযায়ী, গত ৭ জুন সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে আঞ্জুমান আরা নিজ বসতবাড়ির গেটের সামনে অবস্থান করছিলেন। এ সময় শামীম আবারও তার কাছে জমি নিজের নামে লিখে দেওয়ার দাবি জানান। এতে তিনি অস্বীকৃতি জানালে হত্যার উদ্দেশ্যে হাতে থাকা একটি ইট দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে রক্তাক্ত কাটা জখম করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। তার চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে ধামইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে বাড়িতে ফিরে এলেও অভিযুক্ত পুনরায় তার ক্ষতি করবে বলে ভয়ভীতি ও হুমকি দিতে থাকে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, গত ১৩ জুন রাতের খাবার শেষে তিনি নিজ বসতবাড়ির পূর্ব পাশের বারান্দায় ঘুমিয়ে পড়েন। পরদিন ১৪ জুন দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে শামীম তার কাছে এসে টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ধারালো চাকু দিয়ে তার ডান পায়ের গোড়ালির উপরের রগ কেটে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে দুই হাত দিয়ে তার গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যারও চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে ধস্তাধস্তির মধ্যে তিনি নিজেকে ছাড়িয়ে চিৎকার করলে স্থানীয় তিনজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে অভিযুক্ত পুনরায় প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। স্থানীয়দের সহায়তায় আহত আঞ্জুমান আরাকে আবারও ধামইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ঘটনার বিষয়টি ধামইরহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নওগাঁর পুলিশ সুপারের নজরে আনলে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশনায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে বিশেষ অভিযান শুরু করে ধামইরহাট থানা পুলিশ।
এ ঘটনায় গত ২৪ জুন ভুক্তভোগী আঞ্জুমান আরা বাদী হয়ে ধামইরহাট থানায় ছেলে মো. আসাদুজ্জামান শামীমকে আসামি করে দণ্ডবিধির ৩২৩/৩২৬/৩০৭/৫০৬(২) ধারায় মামলা (নং-৩১) দায়ের করেন।
পরে ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাত প্রায় ৯টার দিকে উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের বস্তাবর গ্রামে অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মো. আসাদুজ্জামান শামীমকে গ্রেপ্তার করে ধামইরহাট থানা পুলিশ।
এ বিষয়ে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, “পিতা-মাতার ওপর আঘাত বা নির্যাতনের মতো জঘন্য অপরাধ কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। এ ধরনের কুলাঙ্গার সন্তানের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশ আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।”
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে শুক্রবার যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
























