চৌদ্দগ্রামে কৃষি কলেজ প্রতিষ্ঠার দাবি জাতীয় সংসদে তুললেন এমপি রাশেদা বেগম হীরা
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে একটি কৃষি কলেজ প্রতিষ্ঠার দাবি মহান জাতীয় সংসদে তুলে ধরেছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রাশেদা বেগম হীরা। কৃষিনির্ভর এ অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং কৃষি শিক্ষাকে আরও আধুনিক ও যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে তিনি এ দাবি জানান।
সংসদে বক্তব্যকালে রাশেদা বেগম হীরা বলেন, কুমিল্লা একাডেমীর প্রতিষ্ঠাতা আক্তার হামিদ খান একবার কুমিল্লার মানুষকে টাকা এবং বীজ দিয়ে বলেছিলেন আপনারা কোনটা চান? কুমিল্লার মানুষ বীজটাকেই বেছে নিয়েছিল। কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম একটি কৃষিপ্রধান উপজেলা। এখানকার বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী কৃষি বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের আগ্রহ রাখলেও স্থানীয় পর্যায়ে কৃষি শিক্ষার জন্য বিশেষায়িত কোনো কলেজ না থাকায় তাদের দূরবর্তী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করতে হয়। ফলে চৌদ্দগ্রামে একটি কৃষি কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হলে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি আশপাশের উপজেলার শিক্ষার্থীরাও উপকৃত হবে।
তিনি বলেন, কৃষির আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত জাতের ফসল, মাটি ব্যবস্থাপনা, কৃষি গবেষণা ও উদ্যোক্তা তৈরির ক্ষেত্রে কৃষি শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। একটি কৃষি কলেজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে চৌদ্দগ্রামের তরুণদের কৃষিভিত্তিক দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করার পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন ও স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করা সম্ভব।
রাশেদা বেগম হীরা বর্তমানে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য। ২০২৬ সালে প্রকাশিত সরকারি গেজেটেও তার নাম সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে রয়েছে।
এদিকে ২০২৬ সালের জুনে রাশেদা বেগম হীরাকে কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) সংসদীয় এলাকার দায়িত্ব দেওয়া হয়।
চৌদ্দগ্রামে কৃষি কলেজ প্রতিষ্ঠার দাবি জাতীয় সংসদে উত্থাপনের বিষয়টি স্থানীয় শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কৃষক ও সচেতন মহলের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে। তাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবে।
স্থানীয়দের মতে, চৌদ্দগ্রামে কৃষি কলেজ প্রতিষ্ঠিত হলে কৃষি শিক্ষার প্রসারের পাশাপাশি আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে দক্ষ কৃষিবিদ, কৃষি উদ্যোক্তা ও প্রশিক্ষিত জনবল তৈরিতে প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

























