তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতির মহাসড়কে ভোলা
দীর্ঘদিনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার অবসান ঘটিয়ে জাতীয় মহাসড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হতে যাচ্ছে দ্বীপ জেলা ভোলা। ভোলা-মেহেন্দিগঞ্জ-হিজলা-রহমতপুর রুটে নতুন মহাসড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে দেশের মূল সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে ভোলার সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ-ভোলা রুটে নতুন করে প্রায় সাড়ে ২১ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করা হবে। কনসালট্যান্ট নিয়োগের মাধ্যমে সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে দ্রুত প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাতায়াতে ভোলার মানুষকে নদীপথের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। ফেরি, লঞ্চ, ট্রলার ও স্পিডবোটে নদী পারাপারে সময়ক্ষেপণ, যানজট এবং বৈরী আবহাওয়ায় নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বিশেষ করে জরুরি রোগী পরিবহন ও পণ্য পরিবহনে এই সংকট আরও প্রকট হয়ে ওঠে।
গত ২২ আগস্ট ভোলাকে জাতীয় সড়ক নেটওয়ার্কের আওতায় আনতে রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ-ভোলা রুটে মহাসড়ক নির্মাণের উদ্যোগের কথা জানানো হয়। দ্রুত কাজ এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে ৪ ফেব্রুয়ারি বরিশালে নির্বাচনী জনসভায় ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।
নতুন মহাসড়ক নির্মাণের উদ্যোগে ভোলার মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও পাশাপাশি ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণের দাবিও জোরালো হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, মহাসড়কের পাশাপাশি সেতু নির্মাণ করা হলে ভোলার সঙ্গে দেশের মূল ভূখণ্ডের স্থায়ী ও নির্বিঘ্ন যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে উঠবে।
ভোলা চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক মো. জামাল উদ্দিন খান বলেন, ভোলায় গ্যাস, কৃষি, ইলিশ ও পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। সড়ক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হলে ইলিশ, তরমুজ, ক্যাপসিকামসহ বিভিন্ন কৃষি ও মৎস্যপণ্য দ্রুত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো সম্ভব হবে। এতে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা লাভবান হবেন।
‘আমরা ভোলাবাসী’ সংগঠনের সদস্যসচিব মীর মোশারেফ অমি বলেন, ভোলা-বরিশাল সেতুর জন্য দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চলছে। মহাসড়ক নির্মাণের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, সড়কের সঙ্গে সেতুর দাবিকে সাংঘর্ষিক না করে উভয় প্রকল্পকেই গুরুত্ব দিতে হবে।
ভোলা প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট নজরুল হক অনু বলেন, আধুনিক যুগেও ভোলা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। মহাসড়কের মাধ্যমে ভোলাকে জাতীয় সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ ইতিবাচক। তবে ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণও সময়ের দাবি।
ভোলা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম নবী আলমগীর বলেন, সড়ক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হলে জেলার অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। ভোলার গ্যাস, কৃষি ও মৎস্যসম্পদের যথাযথ ব্যবহার বাড়বে এবং শিল্প-কারখানা গড়ে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম বলেন, নদীবেষ্টিত ভোলার সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগ স্থাপন এবং ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণ দীর্ঘদিনের যৌক্তিক দাবি। জাতীয় মহাসড়কের সঙ্গে ভোলাকে যুক্ত করার উদ্যোগকে তিনি স্বাগত জানান।
ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, ভোলাকে জাতীয় মহাসড়কের সঙ্গে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এর ফলে ভোলার অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে এবং দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ হবে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ, ভোলার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাইদুল ইসলাম বলেন, রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ-ভোলা রুটে প্রায় সাড়ে ২১ কিলোমিটার নতুন সড়ক নির্মাণ করা হবে। সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে দ্রুত কাজ শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মহাসড়ক নির্মাণ হলে ভোলার সঙ্গে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের যোগাযোগ সহজ হবে। পাশাপাশি কৃষি, মৎস্য, শিল্প, বাণিজ্য ও পর্যটন খাতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তবে ভোলাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে মহাসড়কের পাশাপাশি ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।


























