ক্রেতা সেজে পুলিশের অভিযান, সুনামগঞ্জে ধরা পড়লেন কথিত ‘পাথর বাবা’
ধর্মীয় আবহ তৈরি করে ‘পাথর বাবা’ পরিচয়ে দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবার চালিয়ে আসছিলেন মজিবুর রহমান।
লালসালু গায়ে জড়িয়ে নিজেকে অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী হিসেবে উপস্থাপন করলেও, সেই আড়ালের গল্প শেষ হলো পুলিশের বিশেষ অভিযানে।
ক্রেতা সেজে পরিচালিত অভিযানে অবশেষে ‘পাথর বাবা’ নামে পরিচিত মজিবুর রহমানসহ চার মাদক কারবারিকে হাতেনাতে আটক করেছে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ।
রোববার (২৬ জুলাই) গভীর রাতে সদর উপজেলার কলাইয়া গ্রামে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে আটক ব্যক্তিরা হলেন— সদর উপজেলার কলাইয়া গ্রামের মৃত আব্দুল মতলিবের ছেলে মজিবুর রহমান ওরফে পাথরশাহ (৫৫), একই গ্রামের মৃত আকবর আলীর ছেলে আব্দুল হাই (৪৭), আশরাফ আলীর ছেলে জুবায়ের (২৮) এবং দিরাই উপজেলার সাকিতপুর গ্রামের মৃত আকবুল মিয়ার ছেলে আক্কাস মিয়া (৩২)।
পুলিশ জানায়, অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ গাঁজা, হেরোইন সদৃশ পাউডার এবং মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে মজিবুর রহমান ‘পাথর শাহ’ বা ‘পাথর বাবা’ পরিচয়ে এলাকায় একটি ভিন্নধর্মী ভাবমূর্তি গড়ে তোলেন।
লালসালু পরিধান করে এবং চারপাশে পাথর সাজিয়ে মোমবাতি জ্বালিয়ে তথাকথিত আধ্যাত্মিক পরিবেশ সৃষ্টি করতেন। সেই আসরে ভক্তদের সমাগম ঘটিয়ে আড়ালে চলত গাঁজা, ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক সেবন ও কেনাবেচার কার্যক্রম।
বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অভিযোগ ছিল। একাধিকবার অভিযান চালিয়েও পুলিশের হাতে ধরা পড়েননি তিনি। প্রতিবারই আগাম খবর পেয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। তবে এবার কৌশল বদলায় পুলিশ। একজন সদস্যকে ক্রেতা পরিচয়ে পাঠিয়ে নিশ্চিত হওয়ার পর অভিযান চালিয়ে চারজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়।
সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ বলেন, মজিবুর রহমান ‘পাথর বাবা’ পরিচয় ব্যবহার করে তার মাদক ব্যবসাকে আড়াল করার চেষ্টা করছিল। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য আমরা একাধিকবার অভিযান চালিয়েছি।
অবশেষে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করে তাকে ও তার সহযোগীদের হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হবে।
























