সব বিশ্ববিদ্যালয়ে বাধ্যতামূলক ইন্টার্নশিপের পরিকল্পনা ইউজিসির
দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ইন্টার্নশিপ বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। উচ্চশিক্ষা রূপান্তরের জন্য ইউজিসি প্রণীত পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কর্মপরিকল্পনার খসড়ায় এ সংক্রান্ত বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের বাস্তব কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা ও ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনের সুযোগ দিতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি সংস্থায় কাঠামোবদ্ধ ইন্টার্নশিপের ব্যবস্থা করা হবে।
সোমবার (২৭ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানান ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ।
ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পরও বাস্তব কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা ও প্রয়োজনীয় দক্ষতার ঘাটতির কারণে অনেক শিক্ষার্থী চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়েন। এ ব্যবধান কমিয়ে উচ্চশিক্ষাকে আরও কর্মমুখী ও শিল্পবান্ধব করতে শিক্ষার্থীদের জন্য ইন্টার্নশিপ বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, দেশের উচ্চশিক্ষাকে কর্মবাজারের চাহিদার সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করতে কমিশন পাঁচ বছর মেয়াদি একটি কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করছে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে স্নাতকদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও ব্যবহারিক অভিজ্ঞতাভিত্তিক বিভিন্ন উদ্যোগ এ পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
অধ্যাপক মামুন আহমেদ জানান, শিক্ষার্থীদের দক্ষতার বর্তমান অবস্থা ও ঘাটতি চিহ্নিত করতে জাতীয় পর্যায়ে একটি সমীক্ষা পরিচালনা করা হবে। সমীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পাঠ্যক্রম, শিক্ষণ-পদ্ধতি ও মূল্যায়ন ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হবে। এর মাধ্যমে স্নাতকেরা পরিবর্তিত কর্মপরিবেশের সঙ্গে দ্রুত খাপ খাইয়ে নিতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি কার্যকর অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে ইন্টার্নশিপ কর্মসূচিতে শিল্পপ্রতিষ্ঠান, সরকারি সংস্থা ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সম্পৃক্ত করা হবে। সরকার ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো যৌথভাবে এসব ইন্টার্নশিপ কর্মসূচিতে আর্থিক সহায়তা দেবে। পুরো কার্যক্রমের নীতিগত সমন্বয়, তদারকি ও বাস্তবায়নে সহযোগিতা করবে ইউজিসি।
ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক কর্মবাজারে শুধু বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান যথেষ্ট নয়; ভাষাগত দক্ষতা, যোগাযোগ, নেতৃত্ব, দলগত কাজ, সৃজনশীল চিন্তা ও সমস্যা সমাধানের সক্ষমতার মতো সফট স্কিলও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব দক্ষতা বিকাশে শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ মডিউল তৈরি করা হচ্ছে।
পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ, ইন্টার্নশিপ, গবেষণা সহযোগিতা এবং চাকরির সুযোগ বিনিময়ের জন্য একাধিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
অধ্যাপক মামুন আহমেদ জানান, আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ধাপে ধাপে ডিজিটাল রূপান্তরের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে উচ্চগতির ইন্টারনেট, ক্যাম্পাসজুড়ে বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই, আধুনিক ডিজিটাল শ্রেণিকক্ষ, লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এলএমএস) এবং স্মার্ট ক্যাম্পাস গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জামাল উদ্দিন আহমেদ লেকচার গ্যালারিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. জাকির হোসেন হাওলাদার।
অনুষ্ঠানে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ এবং যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবিরকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
এ সময় আরও বক্তব্য দেন অধ্যাপক ড. রফিকুর রহমান, অধ্যাপক ইশতিয়াক মাহমুদ, অধ্যাপক ড. মামুন রশিদ, অধ্যাপক ড. জেবা ইসলাম সিরাজ, অধ্যাপক আনোয়ারুল আজিম, অধ্যাপক ড. আফতাব উদ্দিন এবং জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আব্দুল করিম।

























