1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. kamrul304076@gmail.com : Kamrul :
  3. jamalpurbakshiganj@gmail.com : Kamrulbk :
  4. seyam2858@gmail.com : seyam :
ঢাকা ০৫:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শক্তিশালী এল নিনোর আশঙ্কা, চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি নিয়ে জাতিসংঘের সতর্কতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আগস্ট থেকে অক্টোবরের মধ্যে শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাব আরও তীব্র হতে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও)। সংস্থাটি জানিয়েছে, এ সময় বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র তাপপ্রবাহ, ভারী বৃষ্টিপাত, বন্যা, খরা এবং অন্যান্য চরম আবহাওয়ার ঘটনা বেড়ে যেতে পারে।

ডব্লিউএমওর পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। পাশাপাশি বৃষ্টিপাতের ধরনে বড় ধরনের পরিবর্তন এবং গ্রীষ্মমণ্ডলীয় আটলান্টিক মহাসাগরের পৃষ্ঠের অস্বাভাবিক উষ্ণতা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ এলাকাগুলোতে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রার তারতম্য ২ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হতে পারে, যা একটি শক্তিশালী এল নিনোর সুস্পষ্ট ইঙ্গিত।

ডব্লিউএমও বলছে, আগাম এই পূর্বাভাস বিভিন্ন দেশের সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ করে দেবে। সময়মতো পরিকল্পনা ও ঝুঁকি হ্রাসমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, সাম্প্রতিক তীব্র তাপপ্রবাহ, ভয়াবহ দাবানল এবং মহাসাগরের রেকর্ডভাঙা তাপমাত্রা প্রমাণ করছে যে এল নিনো ইতোমধ্যে জলবায়ু সংকটকে আরও জটিল করে তুলছে। এর প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা ও দীর্ঘস্থায়ী খরার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

তিনি বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা জলবায়ু সংকটকে আরও ত্বরান্বিত করছে। কয়লা, তেল ও গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধি ভবিষ্যতের ঝুঁকি বাড়াবে বলেও তিনি সতর্ক করেন। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দিতে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মূল কারণ মোকাবিলায় দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ডব্লিউএমওর মহাসচিব সেলেস্তে সাউলো বলেন, এল নিনো বিশ্বের সবচেয়ে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা জলবায়ুগত ঘটনাগুলোর একটি হলেও শুধু পূর্বাভাস দিয়ে দুর্যোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। কার্যকর প্রস্তুতি, নির্ভরযোগ্য জলবায়ু তথ্য এবং আগাম পরিকল্পনার মাধ্যমেই ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান এল নিনোর প্রভাব এমন এক সময়ে দেখা দিচ্ছে, যখন বৈশ্বিক তাপমাত্রা ও মহাসাগরের উষ্ণতা ইতোমধ্যে নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে। তাই সরকার, মানবিক সংস্থা এবং কৃষি ও স্বাস্থ্য খাতসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিত প্রস্তুতি গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সূত্র: ইউনাইটেড নিউজ অব বাংলাদেশ (ইউএনবি)।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৮:৩০ পূর্বাহ্ণ, শনিবার, ১ আগস্ট ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

শক্তিশালী এল নিনোর আশঙ্কা, চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি নিয়ে জাতিসংঘের সতর্কতা

আপডেট সময় : ০৯:৩৮:৩০ পূর্বাহ্ণ, শনিবার, ১ আগস্ট ২০২৬

আগস্ট থেকে অক্টোবরের মধ্যে শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাব আরও তীব্র হতে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও)। সংস্থাটি জানিয়েছে, এ সময় বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র তাপপ্রবাহ, ভারী বৃষ্টিপাত, বন্যা, খরা এবং অন্যান্য চরম আবহাওয়ার ঘটনা বেড়ে যেতে পারে।

ডব্লিউএমওর পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। পাশাপাশি বৃষ্টিপাতের ধরনে বড় ধরনের পরিবর্তন এবং গ্রীষ্মমণ্ডলীয় আটলান্টিক মহাসাগরের পৃষ্ঠের অস্বাভাবিক উষ্ণতা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ এলাকাগুলোতে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রার তারতম্য ২ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হতে পারে, যা একটি শক্তিশালী এল নিনোর সুস্পষ্ট ইঙ্গিত।

ডব্লিউএমও বলছে, আগাম এই পূর্বাভাস বিভিন্ন দেশের সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ করে দেবে। সময়মতো পরিকল্পনা ও ঝুঁকি হ্রাসমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, সাম্প্রতিক তীব্র তাপপ্রবাহ, ভয়াবহ দাবানল এবং মহাসাগরের রেকর্ডভাঙা তাপমাত্রা প্রমাণ করছে যে এল নিনো ইতোমধ্যে জলবায়ু সংকটকে আরও জটিল করে তুলছে। এর প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা ও দীর্ঘস্থায়ী খরার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

তিনি বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা জলবায়ু সংকটকে আরও ত্বরান্বিত করছে। কয়লা, তেল ও গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধি ভবিষ্যতের ঝুঁকি বাড়াবে বলেও তিনি সতর্ক করেন। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দিতে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মূল কারণ মোকাবিলায় দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ডব্লিউএমওর মহাসচিব সেলেস্তে সাউলো বলেন, এল নিনো বিশ্বের সবচেয়ে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা জলবায়ুগত ঘটনাগুলোর একটি হলেও শুধু পূর্বাভাস দিয়ে দুর্যোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। কার্যকর প্রস্তুতি, নির্ভরযোগ্য জলবায়ু তথ্য এবং আগাম পরিকল্পনার মাধ্যমেই ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান এল নিনোর প্রভাব এমন এক সময়ে দেখা দিচ্ছে, যখন বৈশ্বিক তাপমাত্রা ও মহাসাগরের উষ্ণতা ইতোমধ্যে নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে। তাই সরকার, মানবিক সংস্থা এবং কৃষি ও স্বাস্থ্য খাতসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিত প্রস্তুতি গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সূত্র: ইউনাইটেড নিউজ অব বাংলাদেশ (ইউএনবি)।