নাগেশ্বরীতে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা, সপ্তাহ পার হলেও গ্রেপ্তার হয়নি আসামি।
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় মধ্যরাতে বাড়ি ফেরার পথে মো. শহিদুল ইসলাম নাডু নামের এক যুবককে অতর্কিত কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনার সাত দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ এখনো কোনো আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি। ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এলাকায় চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক দিন আগে রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে শহিদুল ইসলাম নিজ বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ওঁৎ পেতে থাকা একদল দুর্বৃত্ত তার ওপর হামলা চালায়। এ সময় দুর্বৃত্তরা তার পেটের বাম পাশে ধারালো ছুরি দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে হত্যার চেষ্টা চালায়। ঠিক সেই মুহূর্তে আকস্মিক ওই এলাকায় বিদ্যুৎ চলে গেলে অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন তাকে রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে নাগেশ্বরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তার অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক।
এদিকে রোমহর্ষক এই হামলার সাত দিন অতিবাহিত হলেও পুলিশ প্রশাসন এখনো কোনো আসামিকে আইনের আওতায় আনতে পারেনি। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, নাগেশ্বরী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হলেও পুলিশ এ পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো তদন্ত বা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেননি।
দিনদুপুরে বা রাতের আঁধারে এমন নৃশংস হামলার পরও আসামিরা বহাল তবিয়তে ঘুরে বেড়ানোয় এবং প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এলাকাবাসীর মতে, পুলিশের এমন নিরব ভূমিকা অপরাধীদের আরও বেপরোয়া করে তুলছে এবং যেকোনো সময় বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
হতাহত যুবকের পরিবার ও এলাকাবাসী দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে মূল অপরাধীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় তারা কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।





















