1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. kamrul304076@gmail.com : Kamrul :
  3. jamalpurbakshiganj@gmail.com : Kamrulbk :
  4. seyam2858@gmail.com : seyam :
ঢাকা ০৩:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিলেটে ৪ বছরের শিশু ফাহিমা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামির মৃত্যুদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক:
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
১০

সিলেটের বহুল আলোচিত ৪ বছরের শিশু ফাহিমা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি জাকির হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ৫ লাখ টাকা জরিমানাও করা হয়েছে। তবে মামলার অপর দুই আসামি জয়নাল ও কালামকে খালাস দেওয়ায় আদালত প্রাঙ্গণেই কান্নায় ভেঙে পড়েন ফাহিমার স্বজনরা। তাদের দাবি, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাই শাস্তি না পাওয়ায় বিচার পূর্ণতা পায়নি।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সিলেটের শিশু সহিংসতা প্রতিরোধ আদালতের বিচারক আবু ওবায়দা এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ের পর আদালত চত্বরে একদিকে স্বস্তি, অন্যদিকে ক্ষোভ ও বেদনার পরিবেশ তৈরি হয়।

আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ৭ মে সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের বাসিন্দা জাকির হোসেন সিগারেট এনে দেওয়ার কথা বলে প্রতিবেশী ৪ বছরের শিশু ফাহিমাকে নিজের ঘরে নিয়ে যান। সেখানে ধর্ষণের চেষ্টার একপর্যায়ে শিশুটি অজ্ঞান হয়ে পড়লে ধরা পড়ার ভয়ে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে মরদেহ একটি সুটকেসে ভরে দুই দিন ঘরে লুকিয়ে রেখে গভীর রাতে বাদাঘাট এলাকার একটি ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়।

ঘটনার পর ৮ মে জালালাবাদ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। গ্রেপ্তারের পর জাকির পুলিশের কাছে অপরাধ স্বীকার করেন বলে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান। তদন্ত শেষে ঘটনার ৩৩ দিনের মাথায় জাকির ও তার দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। পরে আদালত অভিযোগ গঠন করে গত ১ জুলাই বিচার শুরু করেন। এক মাসের বিচারিক কার্যক্রম শেষে বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণা করা হয়।

রায় ঘোষণার আগে ও পরে আদালতে হাজির করার সময় জাকিরকে ঘিরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন উপস্থিত লোকজন। এর আগেও আদালতে আনা-নেওয়ার সময় তিনি উত্তেজিত জনতার হেনস্তার শিকার হন।দুই আসামি খালাস পাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন নিহত শিশুর স্বজনরা।মামলার সাক্ষী আনসার আহমদ বলেন, “যারা লাশ গুমে সহযোগিতা করেছে বলে আমরা বিশ্বাস করি, তারা খালাস পেয়েছে। এতে আমরা কষ্ট পেয়েছি।”

ফাহিমার চাচা আবদুল হক বলেন, “সব দোষীর শাস্তি নিশ্চিত না হলে এই বিচার অপূর্ণ থেকে যাবে।” ফাহিমার বাবা রইসুল হক বলেন, “আমার মেয়েকে আর ফিরে পাব না। জাকিরের ফাঁসি কার্যকর হলে অন্তত মনে হবে, আমার সন্তান হত্যার বিচার হয়েছে।”

কান্নাজড়িত কণ্ঠে মা রুবিনা বেগম বলেন, “আমার ফুলের মতো মেয়েটাকে যেভাবে কেড়ে নেওয়া হয়েছে, সেই কষ্ট কোনো দিন শেষ হবে না। আমি শুধু চাই, যারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, সবাই যেন শাস্তি পায়।”

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনিরুজ্জামান জানান, দুই আসামিকে খালাস দেওয়ার রায়ে তারা সন্তুষ্ট নন। পূর্ণাঙ্গ রায় হাতে পাওয়ার পর খালাসের অংশ চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৭:০৭:২৯ পূর্বাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

সিলেটে ৪ বছরের শিশু ফাহিমা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামির মৃত্যুদণ্ড

আপডেট সময় : ০৭:০৭:২৯ পূর্বাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২৬
১০

সিলেটের বহুল আলোচিত ৪ বছরের শিশু ফাহিমা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি জাকির হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ৫ লাখ টাকা জরিমানাও করা হয়েছে। তবে মামলার অপর দুই আসামি জয়নাল ও কালামকে খালাস দেওয়ায় আদালত প্রাঙ্গণেই কান্নায় ভেঙে পড়েন ফাহিমার স্বজনরা। তাদের দাবি, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাই শাস্তি না পাওয়ায় বিচার পূর্ণতা পায়নি।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সিলেটের শিশু সহিংসতা প্রতিরোধ আদালতের বিচারক আবু ওবায়দা এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ের পর আদালত চত্বরে একদিকে স্বস্তি, অন্যদিকে ক্ষোভ ও বেদনার পরিবেশ তৈরি হয়।

আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ৭ মে সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের বাসিন্দা জাকির হোসেন সিগারেট এনে দেওয়ার কথা বলে প্রতিবেশী ৪ বছরের শিশু ফাহিমাকে নিজের ঘরে নিয়ে যান। সেখানে ধর্ষণের চেষ্টার একপর্যায়ে শিশুটি অজ্ঞান হয়ে পড়লে ধরা পড়ার ভয়ে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে মরদেহ একটি সুটকেসে ভরে দুই দিন ঘরে লুকিয়ে রেখে গভীর রাতে বাদাঘাট এলাকার একটি ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়।

ঘটনার পর ৮ মে জালালাবাদ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। গ্রেপ্তারের পর জাকির পুলিশের কাছে অপরাধ স্বীকার করেন বলে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান। তদন্ত শেষে ঘটনার ৩৩ দিনের মাথায় জাকির ও তার দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। পরে আদালত অভিযোগ গঠন করে গত ১ জুলাই বিচার শুরু করেন। এক মাসের বিচারিক কার্যক্রম শেষে বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণা করা হয়।

রায় ঘোষণার আগে ও পরে আদালতে হাজির করার সময় জাকিরকে ঘিরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন উপস্থিত লোকজন। এর আগেও আদালতে আনা-নেওয়ার সময় তিনি উত্তেজিত জনতার হেনস্তার শিকার হন।দুই আসামি খালাস পাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন নিহত শিশুর স্বজনরা।মামলার সাক্ষী আনসার আহমদ বলেন, “যারা লাশ গুমে সহযোগিতা করেছে বলে আমরা বিশ্বাস করি, তারা খালাস পেয়েছে। এতে আমরা কষ্ট পেয়েছি।”

ফাহিমার চাচা আবদুল হক বলেন, “সব দোষীর শাস্তি নিশ্চিত না হলে এই বিচার অপূর্ণ থেকে যাবে।” ফাহিমার বাবা রইসুল হক বলেন, “আমার মেয়েকে আর ফিরে পাব না। জাকিরের ফাঁসি কার্যকর হলে অন্তত মনে হবে, আমার সন্তান হত্যার বিচার হয়েছে।”

কান্নাজড়িত কণ্ঠে মা রুবিনা বেগম বলেন, “আমার ফুলের মতো মেয়েটাকে যেভাবে কেড়ে নেওয়া হয়েছে, সেই কষ্ট কোনো দিন শেষ হবে না। আমি শুধু চাই, যারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, সবাই যেন শাস্তি পায়।”

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনিরুজ্জামান জানান, দুই আসামিকে খালাস দেওয়ার রায়ে তারা সন্তুষ্ট নন। পূর্ণাঙ্গ রায় হাতে পাওয়ার পর খালাসের অংশ চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।