তদারকির গণ্ডি পেরিয়ে পাঠদান, এবার শিক্ষকের ভূমিকায় ইউএনও
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠদানের মান যাচাই করতে গিয়ে নিজেই শিক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা রহমান। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট ২০২৬) উপজেলার নিজ সরিষা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনকালে হাতে বই-খাতা ও কলম নিয়ে শিক্ষার্থীদের সামনে দাঁড়িয়ে পাঠদান করেন তিনি।
বিদ্যালয় পরিদর্শনের শুরুতে ইউএনও বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষ ঘুরে দেখেন এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের রিডিং পড়ার দক্ষতা যাচাই করতে তিনি নিজেই তাদের পড়া শোনেন। কে কতটা সাবলীলভাবে পড়তে পারছে এবং কোথায় তাদের সমস্যা হচ্ছে—তা পর্যবেক্ষণ করেন। পাশাপাশি ব্ল্যাকবোর্ডে লিখে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
একপর্যায়ে তিনি শ্রেণিকক্ষের সামনে দাঁড়িয়ে নিজেই শিক্ষার্থীদের পাঠদান শুরু করেন। ইউএনওকে শিক্ষক হিসেবে সামনে পেয়ে খুদে শিক্ষার্থীরাও গভীর মনোযোগ দিয়ে তাঁর পাঠ অনুসরণ করে। প্রশাসনের একজন কর্মকর্তার এমন সরাসরি অংশগ্রহণে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসাহ ও প্রাণচাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
পরিদর্শনকালে ইউএনও বিদ্যালয়ের পাঠদান পদ্ধতি, শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ, শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ এবং সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। বিদ্যালয়ের কার্যক্রম ও শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি দেখে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে শিক্ষার গুণগত মান আরও উন্নত করা, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনায় উৎসাহিত করা, রিডিং দক্ষতা বাড়ানো এবং আনন্দদায়ক উপায়ে পাঠদানের বিষয়ে শিক্ষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দেন।
ইউএনও সানজিদা রহমান বলেন, “প্রাথমিক শিক্ষাই একটি শিশুর ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনের ভিত্তি তৈরি করে। তাই শুধু বিদ্যালয়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করলেই হবে না, শিক্ষার্থীরা কী শিখছে এবং কতটা শিখছে, সেটিও নিয়মিত যাচাই করতে হবে। বিশেষ করে রিডিং দক্ষতা ভালো হলে শিশুর শেখার আগ্রহ ও আত্মবিশ্বাস দুটোই বাড়ে। শিক্ষক, অভিভাবক ও প্রশাসনের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রতিটি শিশুর জন্য আনন্দময় ও মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।”
বিদ্যালয় পরিদর্শনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের রিডিং দক্ষতা সরাসরি যাচাই এবং শ্রেণিকক্ষে নিজে পাঠদানে অংশ নেওয়ার বিষয়টিকে শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের মতে, প্রশাসনের মাঠপর্যায়ের এমন সরাসরি উপস্থিতি শুধু বিদ্যালয়ের কার্যক্রমে তদারকি বাড়ায় না, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যেও দায়িত্ববোধ ও উৎসাহ সৃষ্টি করে।
বিশেষ করে প্রাথমিক স্তরে শিক্ষার্থীদের সাবলীলভাবে পড়তে পারার সক্ষমতা পরবর্তী শিক্ষাজীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। ফলে শিক্ষার্থীরা কী শিখছে, কতটা শিখছে এবং তাদের কোথায় ঘাটতি রয়েছে—এসব বিষয় সরাসরি যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া শিক্ষার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, উপজেলা প্রশাসনের প্রধান কর্মকর্তার সরাসরি বিদ্যালয়ে এসে শ্রেণিকক্ষে সময় দেওয়া, শিক্ষার্থীদের পড়া শোনা এবং নিজে পাঠদানে অংশ নেওয়ার বিষয়টি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ব্যাপকভাবে উৎসাহিত করেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত তদারকি, উৎসাহ ও গঠনমূলক পরামর্শ অব্যাহত থাকলে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ আরও সমৃদ্ধ হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করে।
শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের পাঠাভ্যাস বৃদ্ধি এবং বিদ্যালয়ের নিয়মিত কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে মাঠপর্যায়ে প্রশাসনের এমন সরাসরি ও উৎসাহব্যঞ্জক ভূমিকা নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। একটি বিদ্যালয় পরিদর্শনের প্রচলিত গণ্ডি পেরিয়ে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি সময় দেওয়া ও পাঠদানে অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে ইউএনও সানজিদা রহমান প্রশাসনিক তদারকির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার একটি ভিন্নধর্মী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।























