নবীনগরে আতিকুর হত্যা: বন্ধুকে ডেকে নিয়ে শ্বাসরোধে খুন, গ্রেপ্তার ৩
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে তরুণ আতিকুর রহমান (১৯) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন- পিবিআই। এ ঘটনায় এজাহারনামীয়সহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তাররা হলেন- নবীনগর উপজেলার সাগর (২০), সাদ্দাম (৩৬) ও বোরহান (২)।
পিবিআই জানায়, গত ২৯ মার্চ রাত সাড়ে ৮টার দিকে আসামি সাগর আতিকুরকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। রাত সাড়ে ১২টা ও ১টা ৩ মিনিটে আতিকুর তার মাকে ফোন করে জানান তিনি ঈদগাহে আছেন এবং আধা ঘণ্টার মধ্যে বাড়ি ফিরবেন। এরপর তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।
পরদিন ১ এপ্রিল সকালে বিটঘর ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামের রুস্তুম হাজী ও বাচ্চু হাজীর যৌথ পুকুর থেকে আতিকুরের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তার মা তাছলিমা বেগম বাদী হয়ে নবীনগর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটি পিবিআই অধিগ্রহণ করে।
তদন্তে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে গত ১২ আগস্ট রাত দেড়টার দিকে আখাউড়ার হরণপুর কেল্লা শাহ মাজার এলাকা থেকে এজাহারনামীয় আসামি সাগরকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যে পরে সাদ্দাম ও বোরহানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পিবিআইয়ের দাবি, ঘটনার রাতে তারা বোরহানের ঘরে মাদক সেবন ও লুডু খেলছিল। এসময় পূর্ব বিরোধের জেরে আতিকুরের সাথে বোরহানের তর্ক হয়। একপর্যায়ে বোরহান আতিকুরের অণ্ডকোষে লাথি মারলে সে অচেতন হয়ে পড়ে।
পরে সাদ্দামের নির্দেশে আতিকুরকে পাশের পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সাদ্দাম কালো রঙের ওড়না দিয়ে তার গলায় পেঁচিয়ে ধরেন। অন্যরা হাত-পা ও বুক চেপে ধরলে সাদ্দাম শ্বাসরোধ করে মৃত্যু নিশ্চিত করে।
হত্যার পর মরদেহ বস্তায় ভরে পুকুরে ফেলে গাছের শিকড়ের সাথে বেঁধে রাখা হয়। আতিকুরের একজোড়া জুতো বাঁশঝাড়ে লুকিয়ে আলামত নষ্টের চেষ্টা করা হয় বলেও জানিয়েছে পিবিআই।
গ্রেপ্তার তিনজনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার অপর পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার ও আলামত উদ্ধারে অভিযান চলছে।
মামলাটি তদন্ত করছেন পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এসআই মো. শাহাদাত হোসেন। তদারকিতে আছেন পুলিশ সুপার শচীন চাকমা।























