পদত্যাগ করছেন হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অন্যতম আস্থাভাজন সহযোগী ও হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট চলতি আগস্টের শেষেই পদ ছাড়ছেন। দুই ছোট সন্তান ও পরিবারকে আরও বেশি সময় দেওয়ার জন্যই ২৮ বছর বয়সী লেভিটের এ সিদ্ধান্ত। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার সিদ্ধান্তকে পূর্ণ সমর্থন ও সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করেছেন।
মার্কিন ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা লেভিট হোয়াইট হাউস ছাড়লেও প্রশাসনের বাইরে থেকে ট্রাম্পের অন্যতম শীর্ষ উপদেষ্টা এবং রিপাবলিকান পার্টির প্রভাবশালী কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ চালিয়ে যাবেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ক্যারোলিন এখন থেকে তার অন্যতম শীর্ষ বাহ্যিক উপদেষ্টা এবং রিপাবলিকান পার্টির ভেতরে প্রভাবশালী কণ্ঠ হিসেবে ভূমিকা রাখবেন। দুই ছোট সন্তান ও পরিবারকে সময় দেওয়ার জন্য লেভিটের পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত তিনি বুঝতে পারছেন এবং সম্মান করছেন বলেও জানান ট্রাম্প।
ট্রাম্পের ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নিজের প্রতিক্রিয়া জানান লেভিট। প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালনকে নিজের জীবনের ‘সর্বোচ্চ সম্মান ও রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা’ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
লেভিট বলেন, বিশ্বের অন্যতম চ্যালেঞ্জিং ও দায়িত্বপূর্ণ একটি চাকরি করার পাশাপাশি মা হওয়া এবং নতুন সন্তানের জন্ম দেওয়া তার জীবনের সবচেয়ে আনন্দদায়ক, আবার কঠিন সময়গুলোর একটি। মেয়েসন্তানের জন্মের পর হোয়াইট হাউসে ফিরে তিনি উপলব্ধি করেন, প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে প্রয়োজনীয় অবিরাম সময়, শক্তি ও মনোযোগ দেওয়ার পাশাপাশি দুই ছোট সন্তানের জন্য সেরা মা হওয়া তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।
চলতি বছরের মে মাসে স্বামী নিকোলাস রিকিওর ঘরে দ্বিতীয় সন্তান হিসেবে কন্যাসন্তানের জন্ম দেন লেভিট। তার দুই বছর বয়সী একটি ছেলেসন্তানও রয়েছে। সন্তান জন্মের পর প্রায় সাত সপ্তাহের মাতৃত্বকালীন ছুটি কাটিয়ে গত মাসে তিনি কাজে ফেরেন।
লেভিটের ছুটির সময়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডাগ বারগামসহ ট্রাম্প প্রশাসনের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা বিভিন্ন সময়ে হোয়াইট হাউসের সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন। তবে লেভিটের বিদায়ের পর ট্রাম্প প্রশাসনের পরবর্তী প্রেস সেক্রেটারি কে হবেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
হোয়াইট হাউসে প্রেস সেক্রেটারি হওয়ার আগে ট্রাম্পের সঙ্গে কাজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে লেভিটের। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে তিনি সহকারী প্রেস সেক্রেটারি ও বক্তব্য লেখক হিসেবে কাজ করেন। পরে নিউইয়র্কের রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য এলিস স্টেফানিকের যোগাযোগ পরিচালক ও শীর্ষ সহযোগী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০২২ সালে নিউ হ্যাম্পশায়ার থেকে কংগ্রেস নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন লেভিট। রিপাবলিকান প্রাইমারিতে জয় পেলেও মূল নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ক্রিস পাপাসের কাছে পরাজিত হন। পরে ট্রাম্পের তহবিল সংগ্রহকারী গোষ্ঠী ‘মাগা ইনক’-এর মুখপাত্র এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্পের জাতীয় প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলার লেভিটকে নিজের ‘ঘনিষ্ঠ বন্ধু’ ও ‘অনুকরণীয় আদর্শ’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, তারা প্রতিদিন একসঙ্গে কাজ করে যাবেন এবং লেভিটের সাফল্যের গল্প কেবল শুরু হয়েছে।
সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে লেভিটের সম্পর্ক অবশ্য সবসময় মসৃণ ছিল না। বিভিন্ন সময়ে তিনি সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছেন। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে তার দপ্তর হোয়াইট হাউস প্রেস পুলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয়। ‘মেক্সিকো উপসাগর’-এর পরিবর্তে ‘গালফ অব আমেরিকা’ ব্যবহার করতে অস্বীকৃতি জানানোয় অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) সাময়িকভাবে নিষিদ্ধও করা হয়েছিল।
তবে ট্রাম্পের সমর্থক ও রক্ষণশীলদের কাছে লেভিট ছিলেন অত্যন্ত জনপ্রিয়। সারাহ হাকাবি স্যান্ডার্সের পর ট্রাম্পের বিভিন্ন প্রশাসনে দ্বিতীয় দীর্ঘতম সময় দায়িত্ব পালনকারী প্রেস সেক্রেটারিও তিনি।
সূত্র: বিবিসি

























