সীতাকুণ্ডে শিপইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে স্ক্র্যাপ জাহাজের ট্যাংক থেকে বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এ ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচজনে। অসুস্থ হয়ে আরও কয়েকজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে ইয়ার্ডে একটি স্ক্র্যাপ জাহাজে হাউসকিপিংয়ের কাজ করার সময় এ ঘটনা ঘটে।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই নুরুল আলম আশেক জানান, এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেছেন। অন্যদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
নিহতদের মধ্যে তিনজনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন—সানি দাস, পলাশ দাস ও মোহাম্মদ হাবিব। নিহত অপর দুজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শ্রমিকরা ইয়ার্ডে কাজ করার সময় হঠাৎ বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে। এতে সেখানে থাকা কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে নেওয়া হলে প্রথমে তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরে আরও দুজনের মৃত্যু হয়।
ফেরদৌস স্টিল শিপইয়ার্ডের ম্যানেজার মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, শুক্রবার ইয়ার্ড বন্ধ ছিল। সকাল ১০টার দিকে একটি স্ক্র্যাপ এলএনজি জাহাজের ট্যাংকে লিকেজের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় কয়েকজন বহিরাগত বিষয়টি দেখতে গেলে গ্যাসে আক্রান্ত হন। এতে প্রথমে তিনজনের মৃত্যু হয়। পরে আরও দুজন হাসপাতালে মারা গেছেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন।
ইয়ার্ডের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাইফুজ্জামান বলেন, এখানে বিস্ফোরণের কোনো ঘটনা ঘটেনি। গ্যাস লিক হয়ে বিষক্রিয়ায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। কয়েকজন আহত হয়েছেন। অনেকে প্রথমে ঘটনাটিকে বিস্ফোরণ বলে মনে করেছিলেন।
চট্টগ্রাম পুলিশ সুপার (এসপি) মাহমুদা বেগমও বিস্ফোরণের খবর সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন।
কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মাহবুবুল হাসান বলেন, ১০ শ্রমিক অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন মারা গেছেন। বাকিদের সর্বশেষ অবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
তিনি বলেন, গ্যাস নির্গমন নাকি বিস্ফোরণ—ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি ইয়ার্ডে শ্রমিকদের নিরাপত্তাব্যবস্থা যথাযথ ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করা হবে।
ঘটনার পর শিপইয়ার্ডে নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ ও সংশ্লিষ্টদের দায় নির্ধারণে তদন্ত চলছে।



























