1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. amirsadeky88@gmail.com : amirsadeky :
  3. kamrul304076@gmail.com : Kamrul :
  4. jamalpurbakshiganj@gmail.com : Kamrulbk :
  5. motin.imran07051986@gmail.com : motin.imran07051986@gmail.com :
  6. seyam2858@gmail.com : seyam :
ঢাকা ০৪:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গ্রিসে যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে ৯ বাংলাদেশির মৃত্যু, মিসরে চিকিৎসাধীন ২৯

অনলাইন ডেস্ক
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে গ্রিসে যাওয়ার পথে ৯ বাংলাদেশি মারা গেছেন। এ ঘটনায় মিসরের মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতালে ২৯ বাংলাদেশি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

স্থানীয় সময় রোববার (১৬ আগস্ট) বাংলাদেশ দূতাবাস, কায়রো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

দূতাবাস জানায়, মানবপাচার চক্রের সহায়তায় লিবিয়ার তবরুক থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে গ্রিসে যাওয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করা একটি রাবারের নৌকা দিকভ্রষ্ট হয়ে মিসরের মারসা মাতরুহ এলাকার উপকূলে পৌঁছায়। নৌকাটিতে ২৯ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী ছিলেন। পরে স্থানীয় পুলিশ তাদের উদ্ধার করে।

উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ১৮ জন গুরুতর অসুস্থ ও অচেতন থাকায় তাদের মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে পুলিশি তত্ত্বাবধানে মোট ২৯ জন বাংলাদেশি অভিবাসনপ্রত্যাশী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বিষয়টি জানার পর বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) স্থানীয় পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে হাসপাতালের এক কর্মীর সহায়তায় চিকিৎসাধীন বাংলাদেশি নাগরিক আব্দুল করিমের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলে দূতাবাস।

আব্দুল করিম জানান, গত ৩ আগস্ট ৩৮ বাংলাদেশি ও ৪ সুদানিসহ মোট ৪২ জন লিবিয়ার তবরুক থেকে গ্রিসের উদ্দেশ্যে একটি রাবারের নৌকায় যাত্রা করেন। নৌকাটি স্পিডবোট ইঞ্জিনে চললেও এতে কোনো উপযুক্ত নেভিগেশন ব্যবস্থা ছিল না।

যাত্রার আগে তাদের জানানো হয়েছিল, ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে গ্রিসে পৌঁছাতে প্রায় ৩৬ ঘণ্টা সময় লাগবে। কিন্তু নৌকাটিতে যথাযথ নেভিগেশন ব্যবস্থা না থাকা এবং একপর্যায়ে জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ায় সেটি দিকভ্রষ্ট হয়ে পড়ে। পরে প্রায় ১০ দিন ভূমধ্যসাগরে ভাসমান অবস্থায় থাকার পর গত ১৩ আগস্ট নৌকাটি মিসরের মারসা মাতরুহ উপকূলে পৌঁছায়।

আব্দুল করিমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সমুদ্রে দীর্ঘ সময় ভাসমান থাকার কারণে তীব্র গরম, প্রচণ্ড রোদ, খাদ্য ও পানির সংকটে ৯ বাংলাদেশি ও ১ সুদানিসহ মোট ১০ জন অসুস্থ হয়ে মারা যান। দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকার কারণে মৃতদেহগুলোতে পচন ধরায় জীবিত যাত্রীরা সেগুলো সমুদ্রে ভাসিয়ে দিতে বাধ্য হন বলেও তিনি জানান।

ঘটনার পর থেকে বাংলাদেশ দূতাবাস স্থানীয় পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। চিকিৎসাধীন বাংলাদেশিদের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে দূতাবাস সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নিচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় কনস্যুলার ও অন্যান্য সহযোগিতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

চিকিৎসাধীন বাংলাদেশিরা সুস্থ হয়ে উঠলে মিসরের প্রচলিত আইন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের দ্রুত বাংলাদেশে প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে দূতাবাস।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৪:৩২:১৯ পূর্বাহ্ণ, সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

গ্রিসে যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে ৯ বাংলাদেশির মৃত্যু, মিসরে চিকিৎসাধীন ২৯

আপডেট সময় : ০৪:৩২:১৯ পূর্বাহ্ণ, সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬

ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে গ্রিসে যাওয়ার পথে ৯ বাংলাদেশি মারা গেছেন। এ ঘটনায় মিসরের মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতালে ২৯ বাংলাদেশি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

স্থানীয় সময় রোববার (১৬ আগস্ট) বাংলাদেশ দূতাবাস, কায়রো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

দূতাবাস জানায়, মানবপাচার চক্রের সহায়তায় লিবিয়ার তবরুক থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে গ্রিসে যাওয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করা একটি রাবারের নৌকা দিকভ্রষ্ট হয়ে মিসরের মারসা মাতরুহ এলাকার উপকূলে পৌঁছায়। নৌকাটিতে ২৯ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী ছিলেন। পরে স্থানীয় পুলিশ তাদের উদ্ধার করে।

উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ১৮ জন গুরুতর অসুস্থ ও অচেতন থাকায় তাদের মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে পুলিশি তত্ত্বাবধানে মোট ২৯ জন বাংলাদেশি অভিবাসনপ্রত্যাশী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বিষয়টি জানার পর বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) স্থানীয় পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে হাসপাতালের এক কর্মীর সহায়তায় চিকিৎসাধীন বাংলাদেশি নাগরিক আব্দুল করিমের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলে দূতাবাস।

আব্দুল করিম জানান, গত ৩ আগস্ট ৩৮ বাংলাদেশি ও ৪ সুদানিসহ মোট ৪২ জন লিবিয়ার তবরুক থেকে গ্রিসের উদ্দেশ্যে একটি রাবারের নৌকায় যাত্রা করেন। নৌকাটি স্পিডবোট ইঞ্জিনে চললেও এতে কোনো উপযুক্ত নেভিগেশন ব্যবস্থা ছিল না।

যাত্রার আগে তাদের জানানো হয়েছিল, ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে গ্রিসে পৌঁছাতে প্রায় ৩৬ ঘণ্টা সময় লাগবে। কিন্তু নৌকাটিতে যথাযথ নেভিগেশন ব্যবস্থা না থাকা এবং একপর্যায়ে জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ায় সেটি দিকভ্রষ্ট হয়ে পড়ে। পরে প্রায় ১০ দিন ভূমধ্যসাগরে ভাসমান অবস্থায় থাকার পর গত ১৩ আগস্ট নৌকাটি মিসরের মারসা মাতরুহ উপকূলে পৌঁছায়।

আব্দুল করিমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সমুদ্রে দীর্ঘ সময় ভাসমান থাকার কারণে তীব্র গরম, প্রচণ্ড রোদ, খাদ্য ও পানির সংকটে ৯ বাংলাদেশি ও ১ সুদানিসহ মোট ১০ জন অসুস্থ হয়ে মারা যান। দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকার কারণে মৃতদেহগুলোতে পচন ধরায় জীবিত যাত্রীরা সেগুলো সমুদ্রে ভাসিয়ে দিতে বাধ্য হন বলেও তিনি জানান।

ঘটনার পর থেকে বাংলাদেশ দূতাবাস স্থানীয় পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। চিকিৎসাধীন বাংলাদেশিদের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে দূতাবাস সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নিচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় কনস্যুলার ও অন্যান্য সহযোগিতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

চিকিৎসাধীন বাংলাদেশিরা সুস্থ হয়ে উঠলে মিসরের প্রচলিত আইন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের দ্রুত বাংলাদেশে প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে দূতাবাস।