সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বায়োমেট্রিক ও জিও-ফেন্সিং
সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বায়োমেট্রিক উপস্থিতি ও জিও-ফেন্সিং প্রযুক্তি চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে হাসপাতালের ইউজার ফি, কেবিন ভাড়া, আইসিইউ চার্জ এবং বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফি পর্যায়ক্রমে শতভাগ ডিজিটাল পদ্ধতিতে আদায়ের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে উপস্থিতির তথ্য বেতন, ছুটি ও পদোন্নতির সঙ্গে সমন্বয় করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় পরিদর্শনের সময় কর্মকর্তা ও চিকিৎসকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়নের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে অধিদপ্তর থেকে পরিপত্র জারি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতি মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে বাস্তবায়ন অগ্রগতির প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
ভালো কাজের পুরস্কার
হাসপাতালের কর্মদক্ষতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে প্রতি মাসে সেরা ৫ শতাংশ এবং দুর্বল কর্মদক্ষতার ৫ শতাংশ প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
সেরা প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রণোদনা দেওয়ার পাশাপাশি দুর্বল কর্মদক্ষতার প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও প্রতিষ্ঠানপ্রধানের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, আগামী ২৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করবেন।
ডিজিটাল হবে হাসপাতালের ফি আদায়
হাসপাতালের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে ইউজার ফি, কেবিন ভাড়া, আইসিইউ চার্জ এবং বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফি পর্যায়ক্রমে শতভাগ ডিজিটাল পদ্ধতিতে আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে কেবিন ফি পুনর্মূল্যায়ন বা যৌক্তিকীকরণের ক্ষেত্রে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনায় নিতে বলা হয়েছে। এসব পদক্ষেপের কারণে কোনোভাবেই যেন দরিদ্র রোগীদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি না হয়, তা নিশ্চিত করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
হাসপাতালের উন্নয়নে ব্যয় করা যাবে আয়ের অর্থ
হাসপাতালে আদায় করা ফি থেকে একটি অংশ অর্থ বিভাগের সম্মতি নিয়ে সেবার মানোন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয় করা যাবে।
এ ছাড়া ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রীর মজুত, রাজস্ব আহরণ এবং সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক ব্যবস্থা আরও জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর ফলে হাসপাতালের আয়-ব্যয়, ওষুধের মজুত এবং অন্যান্য আর্থিক কার্যক্রমের ওপর আরও কার্যকর নজরদারি ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

























