1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. amirsadeky88@gmail.com : amirsadeky :
  3. kamrul304076@gmail.com : Kamrul :
  4. jamalpurbakshiganj@gmail.com : Kamrulbk :
  5. motin.imran07051986@gmail.com : motin.imran07051986@gmail.com :
  6. seyam2858@gmail.com : seyam :
ঢাকা ০২:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিট নেই, মেঝেতেই রোগীর ঠাঁই—লামা হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবার মানবিক সংকট

বিশেষ প্রতিনিধি, লামা, বান্দরবান
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

হাসপাতাল—অসুস্থ মানুষের কাছে শেষ আশ্রয়, শেষ ভরসার জায়গা। রোগমুক্তির আশায় মানুষ যখন হাসপাতালে ছুটে আসেন, তখন প্রত্যাশা থাকে অন্তত একটি নিরাপদ শয্যা ও মানবিক পরিবেশের। কিন্তু সেই প্রত্যাশাই যখন শয্যা সংকটে ভেঙে পড়ে, তখন চিকিৎসাসেবার মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠাটাই স্বাভাবিক।

বান্দরবানের লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্তমানে এমনই এক চিত্র দেখা যাচ্ছে। প্রয়োজনের তুলনায় শয্যা কম থাকায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া অনেক রোগীকে জায়গা নিতে হচ্ছে মেঝেতে। সোমবার (১৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় সরেজমিনে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, শয্যার তুলনায় রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় নারী, শিশু ও বয়স্ক রোগীদের কেউ মেঝেতে বসে, আবার কেউ মেঝেতে বিছানা পেতে শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

কোথাও মেঝেতে বিছানা পেতে শুয়ে আছেন অসুস্থ রোগী, কোথাও স্বজনের কোলে শিশু। পাশে বসে উদ্বিগ্ন মুখে অপেক্ষা করছেন স্বজনরা। হাসপাতালের এমন পরিবেশে চিকিৎসা নেওয়ার পাশাপাশি রোগী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের বাড়তি ভোগান্তিও পোহাতে হচ্ছে।

রোগীর চাপ, বাড়ছে দুর্ভোগ

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি শুধু পৌরসভা বা উপজেলার বাসিন্দাদের চিকিৎসার ওপর নির্ভরশীল নয়। দুর্গম পাহাড়ি এলাকার অসংখ্য মানুষও চিকিৎসার জন্য এই হাসপাতালের ওপর নির্ভর করেন।

বিশেষ করে প্রত্যন্ত এলাকার দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের কাছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাকেন্দ্র। যোগাযোগব্যবস্থার নানা সীমাবদ্ধতার কারণে অনেকের পক্ষেই দূরের জেলা শহর বা বেসরকারি হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব হয় না। ফলে লামা হাসপাতালে রোগীর চাপ প্রায়ই ধারণক্ষমতার সীমা ছাড়িয়ে যায়।

এক রোগীর স্বজন ক্ষোভ ও আক্ষেপের সঙ্গে বলেন, “অসুস্থ মানুষকে সুস্থ হওয়ার আশায় হাসপাতালে নিয়ে এসেছি। কিন্তু একটি শয্যা না পেয়ে মেঝেতে থাকতে হচ্ছে। রাতে শিশু ও বয়স্ক রোগীদের নিয়ে এভাবে থাকা খুবই কষ্টের।”

শুধু চিকিৎসা নয়, প্রয়োজন মানবিক পরিবেশও

সচেতন মহলের মতে, স্বাস্থ্যসেবা মানে শুধু চিকিৎসকের পরামর্শ, ওষুধ কিংবা পরীক্ষা-নিরীক্ষা নয়। একজন রোগীর জন্য নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও সম্মানজনক পরিবেশ নিশ্চিত করাও চিকিৎসাসেবার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্ক রোগীদের মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দেওয়ার পরিস্থিতি কোনোভাবেই কাঙ্ক্ষিত হতে পারে না। এতে রোগীর শারীরিক দুর্ভোগের পাশাপাশি মানসিক চাপও বাড়ে।

শয্যা বাড়ানোর দাবি

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, লামা উপজেলার জনসংখ্যা, দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষের নির্ভরতা এবং প্রতিনিয়ত বাড়তে থাকা রোগীর চাপ বিবেচনায় হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।

শুধু শয্যা বাড়ানোই নয়, হাসপাতালের অবকাঠামো সম্প্রসারণ, পর্যাপ্ত জায়গা নিশ্চিত করা, রোগী ও স্বজনদের জন্য প্রয়োজনীয় সুবিধা বৃদ্ধি এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।

কারণ একজন অসুস্থ মানুষ হাসপাতালে আসেন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার আশায়। তিনি কোনো অতিরিক্ত সুবিধা কিংবা অনুগ্রহ চান না—চান শুধু প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও একটু নিরাপদ আশ্রয়।

একটি শয্যা হাসপাতালের কাছে হয়তো কেবল একটি সংখ্যা। কিন্তু অসুস্থ, অসহায় একজন মানুষের কাছে সেই শয্যাই হতে পারে স্বস্তির জায়গা, নিরাপত্তার প্রতীক।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৭:৪৫:৫৪ অপরাহ্ণ, সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

সিট নেই, মেঝেতেই রোগীর ঠাঁই—লামা হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবার মানবিক সংকট

আপডেট সময় : ০৭:৪৫:৫৪ অপরাহ্ণ, সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬

হাসপাতাল—অসুস্থ মানুষের কাছে শেষ আশ্রয়, শেষ ভরসার জায়গা। রোগমুক্তির আশায় মানুষ যখন হাসপাতালে ছুটে আসেন, তখন প্রত্যাশা থাকে অন্তত একটি নিরাপদ শয্যা ও মানবিক পরিবেশের। কিন্তু সেই প্রত্যাশাই যখন শয্যা সংকটে ভেঙে পড়ে, তখন চিকিৎসাসেবার মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠাটাই স্বাভাবিক।

বান্দরবানের লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্তমানে এমনই এক চিত্র দেখা যাচ্ছে। প্রয়োজনের তুলনায় শয্যা কম থাকায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া অনেক রোগীকে জায়গা নিতে হচ্ছে মেঝেতে। সোমবার (১৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় সরেজমিনে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, শয্যার তুলনায় রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় নারী, শিশু ও বয়স্ক রোগীদের কেউ মেঝেতে বসে, আবার কেউ মেঝেতে বিছানা পেতে শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

কোথাও মেঝেতে বিছানা পেতে শুয়ে আছেন অসুস্থ রোগী, কোথাও স্বজনের কোলে শিশু। পাশে বসে উদ্বিগ্ন মুখে অপেক্ষা করছেন স্বজনরা। হাসপাতালের এমন পরিবেশে চিকিৎসা নেওয়ার পাশাপাশি রোগী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের বাড়তি ভোগান্তিও পোহাতে হচ্ছে।

রোগীর চাপ, বাড়ছে দুর্ভোগ

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি শুধু পৌরসভা বা উপজেলার বাসিন্দাদের চিকিৎসার ওপর নির্ভরশীল নয়। দুর্গম পাহাড়ি এলাকার অসংখ্য মানুষও চিকিৎসার জন্য এই হাসপাতালের ওপর নির্ভর করেন।

বিশেষ করে প্রত্যন্ত এলাকার দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের কাছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাকেন্দ্র। যোগাযোগব্যবস্থার নানা সীমাবদ্ধতার কারণে অনেকের পক্ষেই দূরের জেলা শহর বা বেসরকারি হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব হয় না। ফলে লামা হাসপাতালে রোগীর চাপ প্রায়ই ধারণক্ষমতার সীমা ছাড়িয়ে যায়।

এক রোগীর স্বজন ক্ষোভ ও আক্ষেপের সঙ্গে বলেন, “অসুস্থ মানুষকে সুস্থ হওয়ার আশায় হাসপাতালে নিয়ে এসেছি। কিন্তু একটি শয্যা না পেয়ে মেঝেতে থাকতে হচ্ছে। রাতে শিশু ও বয়স্ক রোগীদের নিয়ে এভাবে থাকা খুবই কষ্টের।”

শুধু চিকিৎসা নয়, প্রয়োজন মানবিক পরিবেশও

সচেতন মহলের মতে, স্বাস্থ্যসেবা মানে শুধু চিকিৎসকের পরামর্শ, ওষুধ কিংবা পরীক্ষা-নিরীক্ষা নয়। একজন রোগীর জন্য নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও সম্মানজনক পরিবেশ নিশ্চিত করাও চিকিৎসাসেবার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্ক রোগীদের মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দেওয়ার পরিস্থিতি কোনোভাবেই কাঙ্ক্ষিত হতে পারে না। এতে রোগীর শারীরিক দুর্ভোগের পাশাপাশি মানসিক চাপও বাড়ে।

শয্যা বাড়ানোর দাবি

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, লামা উপজেলার জনসংখ্যা, দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষের নির্ভরতা এবং প্রতিনিয়ত বাড়তে থাকা রোগীর চাপ বিবেচনায় হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।

শুধু শয্যা বাড়ানোই নয়, হাসপাতালের অবকাঠামো সম্প্রসারণ, পর্যাপ্ত জায়গা নিশ্চিত করা, রোগী ও স্বজনদের জন্য প্রয়োজনীয় সুবিধা বৃদ্ধি এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।

কারণ একজন অসুস্থ মানুষ হাসপাতালে আসেন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার আশায়। তিনি কোনো অতিরিক্ত সুবিধা কিংবা অনুগ্রহ চান না—চান শুধু প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও একটু নিরাপদ আশ্রয়।

একটি শয্যা হাসপাতালের কাছে হয়তো কেবল একটি সংখ্যা। কিন্তু অসুস্থ, অসহায় একজন মানুষের কাছে সেই শয্যাই হতে পারে স্বস্তির জায়গা, নিরাপত্তার প্রতীক।