ঢাকায় মামলা, গ্রামের বাড়িতে হামলার অভিযোগ: মাধবপুরে বৃদ্ধা পরিবার নিরাপত্তাহীনতা ভুগছে
রাজধানী ঢাকায় দায়ের করা একটি হামলার মামলাকে কেন্দ্র করে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার আন্দিউড়া ইউনিয়নের পশ্চিম আন্দিউড়া গ্রামে দিল্লর আলীর বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, সিসিটিভি ক্যামেরা ক্ষতিগ্রস্ত করা, পাথর নিক্ষেপ ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, ঢাকায় দায়ের করা মামলার আসামি ও তাঁদের স্বজনরা বিভিন্নভাবে হয়রানি করছেন এবং বাড়িতে হামলার পাঁয়তারা চালাচ্ছেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তাঁদের বিরুদ্ধে আপত্তিকর ও অপপ্রচারমূলক মন্তব্য করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। এতে পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেছেন।
রবিবার (২৩ অগাস্ট) দুপুরে ভুক্তভোগী বৃদ্ধা সফর চাঁন (৫৭) ও তাঁর পুত্রবধূ সৈয়দা ফিজি সাংবাদিকদের কাছে ন্যায়বিচার ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
পরিবারের অভিযোগ, ঢাকায় দায়ের করা মামলার আসামি সজিবুর, শেখ সোহেল, হাসিম, হৃদয়, আজমান, কামরুল, রিমন, জামাল ও রুমনসহ কয়েকজন তাঁদের বিরুদ্ধে বিভিন্নভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছেন এবং হামলার পাঁয়তারা করছেন। এমনকি তাঁদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের হয়রানি ও মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জামাল মিয়া। তিনি বলেন, “আমরা নির্দোষ। কোনো ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেনি। আমরা সবকিছু সমাধান করতে প্রস্তুত।”
জানা গেছে, নিরাপত্তা চেয়ে গত ২২ জুলাই মাধবপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন সফর চাঁন। জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন, তাঁর চার ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। চার ছেলে চাকরি ও ব্যবসার কারণে ঢাকায় বসবাস করেন। তাঁর তৃতীয় ছেলে মুত্তাকিন মিয়া সম্প্রতি রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় হামলার শিকার হন। ওই হামলায় তাঁর ডান হাতের চারটি আঙুল ভেঙে যায়।
এ ঘটনায় মুত্তাকিন মিয়া বাদী হয়ে গত ১৭ জুলাই মোহাম্মদপুর থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়। পরে পুলিশ একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায়।
সফর চাঁনের অভিযোগ, মামলা দায়েরের পর থেকেই আসামিপক্ষের স্বজনেরা তাঁদের পরিবারকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছেন। এর ধারাবাহিকতায় গত ২১ জুলাই সকাল ও সন্ধ্যায় কয়েকজন ব্যক্তি পশ্চিম আন্দিউড়ায় তাঁর বাড়ির সামনে এসে তাঁকে ও তাঁর সন্তানদের প্রাণনাশের হুমকি দেন। একই সঙ্গে বসতবাড়ি ভাঙচুরেরও হুমকি দেওয়া হয় বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
জিডিতে আরও বলা হয়, স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি ওই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী। এসব হুমকির কারণে তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। ভবিষ্যতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে এবং আইনগত সুরক্ষা পেতে থানায় জিডি করেন তিনি।
ভুক্তভোগী পরিবার ঘটনার দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
এ বিষয়ে মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল রানা বলেন, “ঘটনাটির ওপর আমরা নজরদারি বাড়িয়েছি। কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মামলা থাকলে সেটি আদালতেই নিষ্পত্তি হবে।”
ছবি:ভুক্তভোগী পরিবার


























