1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. amirsadeky88@gmail.com : amirsadeky :
  3. kamrul304076@gmail.com : Kamrul :
  4. jamalpurbakshiganj@gmail.com : Kamrulbk :
  5. motin.imran07051986@gmail.com : motin.imran07051986@gmail.com :
  6. seyam2858@gmail.com : seyam :
ঢাকা ০৮:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি-সম্প্রীতিতে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
৩১

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম কর্মদিবসে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। রোববার (২৩ আগস্ট) অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে তিনি পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি, সম্প্রীতি, সংহতি ও সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বৈঠকে মন্ত্রী বলেন, বৃহত্তর পার্বত্য অঞ্চল বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ। দেশের ৯০ শতাংশ জনগোষ্ঠীর সহানুভূতি, চিন্তাধারা ও উপলব্ধি যেন পার্বত্য অঞ্চলের ১০ শতাংশ জনগোষ্ঠীর প্রতি বিশেষভাবে প্রতিফলিত হয়—এটাই তাঁর আহ্বান।

তিনি বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের জনগণেরও উচিত বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে সামনে রেখে সংবিধান, রাষ্ট্রীয় নীতি ও নির্দেশনার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করা।

পার্বত্য চট্টগ্রামের বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে সাচিং প্রু জেরী বলেন, স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন অস্থিরতার মধ্য দিয়ে এ অঞ্চল বর্তমান অবস্থায় এসেছে। এসব পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও উদ্যোগ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি, দল কিংবা রাষ্ট্র এককভাবে পার্বত্য অঞ্চলের সমস্যার সমাধান করতে পারবে না। এ অঞ্চলে বসবাসকারী সব জাতিসত্তা, জাতীয় ও আঞ্চলিক রাজনৈতিক শক্তি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং গণমাধ্যমের সম্মিলিত ভূমিকা অপরিহার্য।

গণমাধ্যমের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যমের চিন্তা, দৃষ্টিভঙ্গি ও লেখনী দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও পার্বত্য চট্টগ্রাম সম্পর্কে ধারণা তৈরি করে। তাই এ অঞ্চলের বিষয়গুলো অত্যন্ত সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে উপস্থাপন করা প্রয়োজন।

শান্তির গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘শান্তি একটি অত্যন্ত পবিত্র বিষয়। এটি অর্জনের জন্য অভিন্ন লক্ষ্য, দৃষ্টিভঙ্গি ও সমন্বিত প্রয়াস প্রয়োজন।’

সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী গত ছয় মাসে জনগণের কল্যাণে যেসব পদক্ষেপ নিয়েছেন, সেগুলো গুরুত্বপূর্ণ। এসব উদ্যোগ আন্তরিকভাবে গ্রহণ ও বাস্তবায়নে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

নিজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে সাচিং প্রু জেরী বলেন, ১৯৮৬ সালে তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তীতে সাত বছর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। সে সময়ে বিভিন্ন জাতিসত্তার মধ্যে সমতা বজায় রেখে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে কাজ করেছেন বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘আমি একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী হিসেবে সকলকে সঙ্গে নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামকে শান্তি, সম্প্রীতি, সংহতি ও বৈষম্যমুক্ত অঞ্চলে পরিণত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, তিনি সদ্য দায়িত্ব নিয়েছেন এবং তাঁকে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। ‘সময়ই বলে দেবে (টাইম উইল স্পিক)। এককভাবে কেউ কিছু করতে পারে না, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই কাজ এগিয়ে নিতে হবে।’

চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ব্যক্তিগত কোনো চ্যালেঞ্জ নেই। সমন্বিত টিমওয়ার্কই হচ্ছে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সর্বোত্তম উপায়।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৮:০৯:১৩ পূর্বাহ্ণ, রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে

পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি-সম্প্রীতিতে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরীর

আপডেট সময় : ০৮:০৯:১৩ পূর্বাহ্ণ, রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬
৩১

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম কর্মদিবসে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। রোববার (২৩ আগস্ট) অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে তিনি পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি, সম্প্রীতি, সংহতি ও সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বৈঠকে মন্ত্রী বলেন, বৃহত্তর পার্বত্য অঞ্চল বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ। দেশের ৯০ শতাংশ জনগোষ্ঠীর সহানুভূতি, চিন্তাধারা ও উপলব্ধি যেন পার্বত্য অঞ্চলের ১০ শতাংশ জনগোষ্ঠীর প্রতি বিশেষভাবে প্রতিফলিত হয়—এটাই তাঁর আহ্বান।

তিনি বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের জনগণেরও উচিত বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে সামনে রেখে সংবিধান, রাষ্ট্রীয় নীতি ও নির্দেশনার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করা।

পার্বত্য চট্টগ্রামের বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে সাচিং প্রু জেরী বলেন, স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন অস্থিরতার মধ্য দিয়ে এ অঞ্চল বর্তমান অবস্থায় এসেছে। এসব পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও উদ্যোগ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি, দল কিংবা রাষ্ট্র এককভাবে পার্বত্য অঞ্চলের সমস্যার সমাধান করতে পারবে না। এ অঞ্চলে বসবাসকারী সব জাতিসত্তা, জাতীয় ও আঞ্চলিক রাজনৈতিক শক্তি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং গণমাধ্যমের সম্মিলিত ভূমিকা অপরিহার্য।

গণমাধ্যমের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যমের চিন্তা, দৃষ্টিভঙ্গি ও লেখনী দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও পার্বত্য চট্টগ্রাম সম্পর্কে ধারণা তৈরি করে। তাই এ অঞ্চলের বিষয়গুলো অত্যন্ত সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে উপস্থাপন করা প্রয়োজন।

শান্তির গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘শান্তি একটি অত্যন্ত পবিত্র বিষয়। এটি অর্জনের জন্য অভিন্ন লক্ষ্য, দৃষ্টিভঙ্গি ও সমন্বিত প্রয়াস প্রয়োজন।’

সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী গত ছয় মাসে জনগণের কল্যাণে যেসব পদক্ষেপ নিয়েছেন, সেগুলো গুরুত্বপূর্ণ। এসব উদ্যোগ আন্তরিকভাবে গ্রহণ ও বাস্তবায়নে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

নিজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে সাচিং প্রু জেরী বলেন, ১৯৮৬ সালে তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তীতে সাত বছর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। সে সময়ে বিভিন্ন জাতিসত্তার মধ্যে সমতা বজায় রেখে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে কাজ করেছেন বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘আমি একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী হিসেবে সকলকে সঙ্গে নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামকে শান্তি, সম্প্রীতি, সংহতি ও বৈষম্যমুক্ত অঞ্চলে পরিণত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, তিনি সদ্য দায়িত্ব নিয়েছেন এবং তাঁকে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। ‘সময়ই বলে দেবে (টাইম উইল স্পিক)। এককভাবে কেউ কিছু করতে পারে না, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই কাজ এগিয়ে নিতে হবে।’

চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ব্যক্তিগত কোনো চ্যালেঞ্জ নেই। সমন্বিত টিমওয়ার্কই হচ্ছে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সর্বোত্তম উপায়।’