আইনশৃঙ্খলা ও নৌপথে নিরাপত্তায় ইসলামী আন্দোলনের ১৫ দফা দাবি
সন্দ্বীপের অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, চুরি-ডাকাতি-ছিনতাই, সন্ত্রাস, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ন্ত্রণ এবং গুপ্তছড়া-কুমিরা নৌরুটে সিন্ডিকেট, চাঁদাবাজি ও যাত্রী হয়রানি বন্ধ করে নিরাপদ নৌ-যোগাযোগ নিশ্চিত করার দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে ১৫ দফা দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, সন্দ্বীপ উপজেলা শাখা।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতার কারণে সন্দ্বীপবাসীর চিকিৎসা, শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও জরুরি নাগরিক সেবার বড় অংশ নৌ-যোগাযোগের ওপর নির্ভরশীল। ফলে নিরাপদ নৌ-যোগাযোগ ও শান্তিপূর্ণ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দ্বীপবাসীর মৌলিক নাগরিক অধিকার।
সম্প্রতি ছুরিকাঘাত, গুলিবর্ষণ, চুরি-ডাকাতি, ছিনতাই, মাদক ও চাঁদাবাজির অভিযোগে জনমনে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে স্মারকলিপিতে গুপ্তছড়া ঘাটে চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে যাওয়ার উদ্দেশ্যে এসে বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ উদ্দিনের মৃত্যুর ঘটনাটিও তুলে ধরা হয়।
সংগঠনটি বলছে, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা চিকিৎসার জন্য দ্বীপ থেকে বের হতে না পেরে ঘাটে মৃত্যুবরণ করলে বিষয়টিকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এতে নৌ-যোগাযোগ ব্যবস্থা, জরুরি রোগী পরিবহন ও ঘাট ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহির প্রশ্ন সামনে এসেছে।
স্মারকলিপিতে ১৫ দফা দাবি
১. গুপ্তছড়া-কুমিরা নৌরুটে সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজি বন্ধ করে ঘাট ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।
২. সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘাটে পুলিশের একটি টিম সার্বক্ষণিক দায়িত্বে রাখা।
৩. বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ উদ্দিনের মৃত্যুর কারণ ও নৌযান চলাচল বন্ধের নেপথ্য কারণ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ীদের চিহ্নিত ও তদন্তের ফলাফল প্রকাশ করা।
৪. জরুরি রোগী পরিবহনে গুপ্তছড়া-কুমিরা রুটে ২৪ ঘণ্টা বিশেষ ব্যবস্থা বা রিজার্ভ স্পিডবোট চালু করা।
৫. সরকারি অনুমোদিত ভাড়া, যাত্রী অধিকার ও অভিযোগ জানানোর নম্বরসহ দৃশ্যমান সাইনবোর্ড স্থাপন এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।
৬. গুপ্তছড়া ও কুমিরা ঘাটের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি স্থাপন ও ২৪ ঘণ্টা নজরদারি নিশ্চিত করা।
৭. রাতের চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাই প্রতিরোধে ইউনিয়নভিত্তিক নাইট পেট্রোলিং, মোবাইল টহল ও চেকপোস্ট জোরদার করা।
৮. অবৈধ অস্ত্রধারী, অস্ত্র সরবরাহকারী ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে দল-মত নির্বিশেষে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা।
৯. ইয়াবাসহ সব ধরনের মাদকের বিস্তার রোধে মাদক ব্যবসায়ী, সরবরাহকারী, বহনকারী ও পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা।
১০. কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বন্ধে বিশেষ অভিযান ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং এনামনাহার থেকে পশ্চিমে সাগরপাড় ও উত্তরে চৌমুহনী বাজার পর্যন্ত এলাকায় বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নজরদারি বাড়ানো।
১১. আজিমপুর, কালাপানিয়া, হরিশপুরসহ সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনাগুলো দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা।
১২. ব্যবসায়ী, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, পরিবহন শ্রমিক, পথচারী ও সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তায় বাজার ও বাণিজ্যিক এলাকায় পুলিশি নজরদারি বৃদ্ধি এবং চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া।
১৩. কার্যকর হটলাইন ও অভিযোগ বাক্স চালু করা, যাতে পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যক্তিরাও নিরাপদে অপরাধের তথ্য জানাতে পারেন।
১৪. প্রশাসন, পুলিশ, নৌযান কর্তৃপক্ষ, জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, মুক্তিযোদ্ধা ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিয়ে নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা পর্যালোচনা সভা আয়োজন ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন তদারক করা।
১৫. গুপ্তছড়া-কুমিরা রুটের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে কাছিয়াপাড়-বাঁশবাড়িয়া ও ছোঁয়াখালী ঘাট আধুনিকায়ন করে বিকল্প নৌ-যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, প্রশাসনের সঙ্গে সংঘাতে নয়, বরং প্রশাসনকে সহযোগিতা করেই নিরাপদ, সন্ত্রাসমুক্ত, মাদকমুক্ত ও চাঁদাবাজমুক্ত সন্দ্বীপ গড়ে তুলতে চান তারা। তবে জনগণের জানমাল ও মৌলিক অধিকার প্রশ্নের মুখে পড়লে নীরব থাকা সম্ভব নয়।
দ্রুত, নিরপেক্ষ ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ এবং গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে জনসাধারণকে অবহিত করার আহ্বান জানিয়ে স্মারকলিপির শেষাংশে বলা হয়— “নিরাপদ সন্দ্বীপ—নিরাপদ নৌপথ—নিরাপদ নাগরিক জীবন” হোক সবার সম্মিলিত অঙ্গীকার।
























