1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. amirsadeky88@gmail.com : amirsadeky :
  3. faysalajony@gmail.com : FAYSAL AHMED :
  4. kamrul304076@gmail.com : Kamrul :
  5. jamalpurbakshiganj@gmail.com : Kamrulbk :
  6. motin.imran07051986@gmail.com : motin.imran07051986@gmail.com :
  7. seyam2858@gmail.com : seyam :
ঢাকা ০১:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নীলফামারীতে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, যৌতুকের দাবিতে হত্যার অভিযোগে মামলা

রাব্বি রহমান, নীলফামারী প্রতিনিধি
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
১৫

নীলফামারীতে নাছরিন নাহার (৩৫) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, যৌতুকের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতনের পর তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ ঝুলিয়ে আত্মহত্যার নাটক সাজানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে জামাতাসহ চারজনের বিরুদ্ধে নীলফামারী সদর থানায় হত্যা মামলা করেছেন।
নিহত নাছরিন নাহার নীলফামারী শহরের কলেজপাড়া এলাকার আব্দুল জব্বারের মেয়ে। প্রায় চার বছর আগে সদর উপজেলার কুন্দপুকুর ইউনিয়নের লালপাড়া এলাকার মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে আব্দুল মান্নানের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তিনি আব্দুল মান্নানের দ্বিতীয় স্ত্রী ছিলেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বিয়ের সময় আব্দুল মান্নানকে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দেয় নাছরিনের পরিবার। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই আরও তিন লাখ টাকা যৌতুকের জন্য নাছরিনের ওপর চাপ দিতে থাকেন স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার বিচার-সালিশও হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিহতের পরিবারের দাবি, বুধবার (২৬ আগস্ট) রাতে আবারও তিন লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হলে নাছরিন এর প্রতিবাদ করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তার স্বামী আব্দুল মান্নান, ভাসুর দেলোয়ার হোসেন, প্রথম স্ত্রীর ছেলে আলমগীর হোসেন ও বৌমা আরিফা বেগম তাকে মারধর করেন। পরে গলায় ফাঁস দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার পর মরদেহ ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যার ঘটনা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ স্বজনদের।
খবর পেয়ে ওই রাতেই পুলিশ কুন্দপুকুর ইউনিয়নের লালপাড়া এলাকার বাড়ি থেকে নাছরিনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে। পরে মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ।
নিহতের বাবা আব্দুল জব্বার বলেন, “তিন লাখ টাকা যৌতুকের জন্য আমার মেয়েকে দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন করা হচ্ছিল। ঘটনার দিন প্রতিবাদ করায় তাকে হত্যা করা হয়েছে। এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। আমি এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
নীলফামারী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিল্লুর রহমান জানান, নিহত নাছরিনের বাবা বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা করেছেন। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে। মামলাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৩:৫৮:২৫ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে

নীলফামারীতে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, যৌতুকের দাবিতে হত্যার অভিযোগে মামলা

আপডেট সময় : ০৩:৫৮:২৫ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬
১৫

নীলফামারীতে নাছরিন নাহার (৩৫) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, যৌতুকের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতনের পর তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ ঝুলিয়ে আত্মহত্যার নাটক সাজানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে জামাতাসহ চারজনের বিরুদ্ধে নীলফামারী সদর থানায় হত্যা মামলা করেছেন।
নিহত নাছরিন নাহার নীলফামারী শহরের কলেজপাড়া এলাকার আব্দুল জব্বারের মেয়ে। প্রায় চার বছর আগে সদর উপজেলার কুন্দপুকুর ইউনিয়নের লালপাড়া এলাকার মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে আব্দুল মান্নানের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তিনি আব্দুল মান্নানের দ্বিতীয় স্ত্রী ছিলেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বিয়ের সময় আব্দুল মান্নানকে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দেয় নাছরিনের পরিবার। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই আরও তিন লাখ টাকা যৌতুকের জন্য নাছরিনের ওপর চাপ দিতে থাকেন স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার বিচার-সালিশও হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিহতের পরিবারের দাবি, বুধবার (২৬ আগস্ট) রাতে আবারও তিন লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হলে নাছরিন এর প্রতিবাদ করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তার স্বামী আব্দুল মান্নান, ভাসুর দেলোয়ার হোসেন, প্রথম স্ত্রীর ছেলে আলমগীর হোসেন ও বৌমা আরিফা বেগম তাকে মারধর করেন। পরে গলায় ফাঁস দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার পর মরদেহ ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যার ঘটনা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ স্বজনদের।
খবর পেয়ে ওই রাতেই পুলিশ কুন্দপুকুর ইউনিয়নের লালপাড়া এলাকার বাড়ি থেকে নাছরিনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে। পরে মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ।
নিহতের বাবা আব্দুল জব্বার বলেন, “তিন লাখ টাকা যৌতুকের জন্য আমার মেয়েকে দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন করা হচ্ছিল। ঘটনার দিন প্রতিবাদ করায় তাকে হত্যা করা হয়েছে। এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। আমি এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
নীলফামারী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিল্লুর রহমান জানান, নিহত নাছরিনের বাবা বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা করেছেন। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে। মামলাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।