রাশিয়া-ইউক্রেনের পাল্টাপাল্টি হামলায় একদিনে নিহত ২৬
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান যুদ্ধে নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলায় সোমবার (৩ আগস্ট) দুই দেশে মোট ২২ জন নিহত হয়েছেন। বিভিন্ন অঞ্চলে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বহু মানুষ আহত হয়েছেন এবং বেসামরিক স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
রুশ প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেনীয় বাহিনীর ড্রোন হামলায় রাশিয়ার ক্রাসনোদার, বেলগোরোদ ও ক্রিমিয়া অঞ্চলে মোট ১৫ জন নিহত হয়েছেন।
এর মধ্যে দক্ষিণাঞ্চলীয় ক্রাসনোদার অঞ্চলের গভর্নর ভেনিয়ামিন কন্দ্রাতিয়েভ জানিয়েছেন, পর্যটন এলাকা আরখিপো-ওসিপোভকায় ড্রোন হামলায় তিন শিশুসহ সাতজন নিহত এবং প্রায় ৪০ জন আহত হয়েছেন।
এছাড়া ক্রিমিয়ায় পৃথক হামলায় চারজন নিহত ও দুজন আহত হন। সীমান্তবর্তী বেলগোরোদ অঞ্চলে আরও চারজন নিহত এবং ১৭ জন আহত হওয়ার তথ্য জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
অন্যদিকে ইউক্রেনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের কৃভি রিহ জেলায় একটি পেট্রোল স্টেশনে রুশ বিস্ফোরকবাহী ড্রোনের হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন জরুরি পরিষেবাকর্মী ও তার আট বছর বয়সী ছেলে রয়েছে।
দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের গভর্নর ওলেক্সান্দর হানঝা টেলিগ্রামে জানান, হামলার পর পেট্রোল স্টেশনে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং আশপাশের এলাকায়ও উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়।
এদিকে সোমবার রাতে জাপোরিজ্জিয়া অঞ্চলে রুশ বাহিনীর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুই শিশুসহ আটজন নিহত হয়েছেন বলে ইউক্রেনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
পৃথক এক বিবৃতিতে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, পূর্ব ইউক্রেনের খারকিভ অঞ্চলের বিলিই কোলোদিয়াজ এবং উস্পেনিভকা নামের দুটি বসতির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে রুশ বাহিনী। তবে এ দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। যদিও রাশিয়া ও ইউক্রেন—উভয় পক্ষই বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নির্দেশে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু হয়। এরপর আড়াই বছরের বেশি সময় ধরে চলমান এ যুদ্ধে হাজারো মানুষের প্রাণহানি ও ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা।

























