ডারউইনে দর্শক উপস্থিতির রেকর্ড, বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়েও টিভি সম্প্রচার নেই
ডারউইনে ইতিহাস গড়ে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে প্রথমবারের মতো তাদের মাটিতে টেস্ট জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। তবে শান্ত-হাসানদের ঐতিহাসিক এই জয় দেশের কোনো টেলিভিশন চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচার না হওয়ায় সমর্থকদের মধ্যে ছিল হতাশা ও সমালোচনা।
এর মধ্যেই ডারউইনে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া টেস্টে দর্শক উপস্থিতির নতুন রেকর্ডের খবর জানিয়েছে স্থানীয় ক্রিকেট সংস্থা নর্দার্ন টেরিটরি।
ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি সাড়ে তিন দিনে শেষ হয়। চার দিনের এই টেস্টে মাঠে বসে খেলা দেখতে উপস্থিত হন ১৮ হাজার ৩৫২ দর্শক। ক্রিকেটডটকম ডটএইউর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডারউইনে অনুষ্ঠিত কোনো টেস্টে এটিই সর্বোচ্চ দর্শক উপস্থিতির রেকর্ড। ২০০৪ সালের পর প্রথমবারের মতো ভেন্যুটিতে লাল বলের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফিরেছিল।
ডারউইনে আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের বিষয়ে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) প্রধান টড গ্রিনবার্গ বলেছেন, অস্ট্রেলিয়ার প্রত্যন্ত উত্তরাঞ্চলে টেস্ট ক্রিকেট আয়োজন করা বেশ ব্যয়বহুল।
তবে বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচে দর্শকদের ব্যাপক উপস্থিতিতে আশাবাদী নর্দার্ন টেরিটরি ক্রিকেটের প্রধান গ্যাভিন ডোভি। তিনি জানান, ম্যাচে ১৫ হাজারের বেশি দর্শক উপস্থিত হয়েছেন এবং তাদের অর্ধেকেরও বেশি এসেছেন রাজ্যের বাইরে থেকে। এ সাফল্য ভবিষ্যতে সরকারের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থায়নের পথ খুলে দিতে পারে বলে মনে করছেন তিনি।
ডোভি বলেন, আয়োজনটি এত ভালো হয়েছে যে কিছু সমস্যার সমাধানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। ২০২৭ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে ম্যাচ আয়োজন শেষ হওয়ার পর নর্দার্ন টেরিটরি সরকার ও ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে বসে ভবিষ্যৎ সফরসূচি নিয়ে আলোচনা করতে চান তারা। তার লক্ষ্য, ডারউইনে টানা ছয় বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আয়োজনের পর্যায়ে যাওয়া।
তিনি আরও বলেন, গত বছর টি-টোয়েন্টি, এ বছর টেস্ট এবং আগামী বছর ওয়ানডে আয়োজনের মাধ্যমে নর্দার্ন টেরিটরি তিন ফরম্যাটেই নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণের সুযোগ পাচ্ছে। বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্টের সফল আয়োজনের পর সেখানে আরও টেস্ট ক্রিকেট দেখতে চান বলেও জানান তিনি।
এদিকে ডারউইনের সফল আয়োজনের পাশাপাশি বাংলাদেশের ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ও ক্রিকেটবিশ্বের নজর কেড়েছে। তবে ম্যাচটি বাংলাদেশের কোনো টেলিভিশন চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচার না হওয়ায় আক্ষেপ রয়েছে দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের।
বিষয়টি নিয়ে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালও হতাশা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, দেশের মাটিতে সিরিজ হলে বিসিবির দায়িত্ব থাকে। কিন্তু বিদেশের মাটিতে অ্যাওয়ে সিরিজের সম্প্রচারের সিদ্ধান্ত বিসিবি নেয় না। নিয়মিত খেলা সম্প্রচার করে এমন টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন বলেও জানান তিনি।
তামিম আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়ানো যাবে এবং বাংলাদেশের সমর্থকেরা দেশের টেলিভিশন চ্যানেলেই বিদেশের মাটিতে জাতীয় দলের ম্যাচ সরাসরি দেখার সুযোগ পাবেন।
























