1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. amirsadeky88@gmail.com : amirsadeky :
  3. kamrul304076@gmail.com : Kamrul :
  4. jamalpurbakshiganj@gmail.com : Kamrulbk :
  5. motin.imran07051986@gmail.com : motin.imran07051986@gmail.com :
  6. seyam2858@gmail.com : seyam :
ঢাকা ০৩:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চিলির সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের আগ্রহ

নিজস্ব প্রতিবেদক:
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চিলির রাষ্ট্রপতি জোসে আন্তোনিও কাস্তের কাছে পরিচয়পত্র পেশ করেছেন দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের অনাবাসিক রাষ্ট্রদূত মো. তৌহিদুল ইসলাম। বুধবার (১৯ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পরিচয়পত্র পেশের পর চিলির রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশ ও চিলির দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। এ সময় চিলির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রান্সিসকো পেরেজ মাকেনাও উপস্থিত ছিলেন।

চিলির রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রদূতকে পরিচয়পত্র পেশের জন্য অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে গত জুলাইয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে চিলির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকের বিষয়টি উল্লেখ করেন তিনি।

দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারের লক্ষ্যে চিলির পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ও চিলির মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল (এফটিএ) প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবের কথা রাষ্ট্রদূতকে স্মরণ করিয়ে দেন চিলির রাষ্ট্রপতি। এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

জবাবে রাষ্ট্রদূত মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের আগ্রহের কথা তুলে ধরে এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তিনি জানান, আগামী বছরের শুরুতে অর্থাৎ ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে চিলির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রান্সিসকো পেরেজ মাকেনা বাংলাদেশ সফর করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ওই সফরে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠাসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনাও রয়েছে।

রাষ্ট্রদূত আরও জানান, মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কার্যক্রমসহ দ্বিপাক্ষিক বিভিন্ন বিষয় চূড়ান্ত করতে বাংলাদেশ ও চিলির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বিতীয় বার্ষিক পরামর্শক সভা আগামী অক্টোবর বা নভেম্বর মাসে ঢাকায় আয়োজনের জন্য বাংলাদেশ প্রস্তুত।

এ সভা দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন চুক্তি চূড়ান্ত করার গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। বাংলাদেশের প্রস্তুতির কথা জানতে পেরে চিলির রাষ্ট্রপতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এর আগে রাষ্ট্রদূত চিলির সিনেটর রাহো এডওয়ার্ডস সিলভার সঙ্গেও বৈঠক করেন। এ সময় সিনেটর ২০২৬-২০২৯ মেয়াদে ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন (আইপিইউ) প্রেসিডেন্ট পদে তাঁর প্রার্থিতার কথা জানিয়ে বাংলাদেশের সমর্থন কামনা করেন।

এ ছাড়া মঙ্গলবার বিকেলে চিলির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রান্সিসকো পেরেজ মাকেনার সঙ্গে পৃথক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন রাষ্ট্রদূত। বৈঠকে ১৯৭২ সালের ১ জুন বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে চিলির স্বীকৃতির কথা গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি।

দুই দেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগের প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত বিশ্বখ্যাত চিলীয় কবি ও নোবেল বিজয়ী পাবলো নেরুদার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় চিলির দূত হিসেবে দায়িত্ব পালনের বিষয়টিও তুলে ধরেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ-চিলির অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ, বিশেষ করে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

রাষ্ট্রদূত জানান, বর্তমানে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। উপযুক্ত বাণিজ্য কাঠামো এবং মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করা গেলে অদূর ভবিষ্যতে এ বাণিজ্য কয়েক বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, চামড়াজাত পণ্য ও ওষুধ এবং চিলির কপার ও লিথিয়ামসহ পারস্পরিক পরিপূরক পণ্যের বাণিজ্য সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। দুই দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায় ও বাণিজ্যিক চেম্বারগুলোর মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ এবং ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল বিনিময়ের ওপরও জোর দেওয়া হয়।

দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে চিলির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আগামী বছরের জানুয়ারিতে সম্ভাব্য ঢাকা সফরের সময় একটি চিলীয় বাণিজ্য প্রতিনিধিদল সঙ্গে আনার পরিকল্পনার কথাও জানান।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও চিলির মধ্যে নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে আগামী দিনে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও গভীর ও বহুমাত্রিক করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন উভয় পক্ষ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৫:০০:০৯ পূর্বাহ্ণ, বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

চিলির সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের আগ্রহ

আপডেট সময় : ০৫:০০:০৯ পূর্বাহ্ণ, বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬

চিলির রাষ্ট্রপতি জোসে আন্তোনিও কাস্তের কাছে পরিচয়পত্র পেশ করেছেন দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের অনাবাসিক রাষ্ট্রদূত মো. তৌহিদুল ইসলাম। বুধবার (১৯ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পরিচয়পত্র পেশের পর চিলির রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশ ও চিলির দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। এ সময় চিলির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রান্সিসকো পেরেজ মাকেনাও উপস্থিত ছিলেন।

চিলির রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রদূতকে পরিচয়পত্র পেশের জন্য অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে গত জুলাইয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে চিলির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকের বিষয়টি উল্লেখ করেন তিনি।

দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারের লক্ষ্যে চিলির পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ও চিলির মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল (এফটিএ) প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবের কথা রাষ্ট্রদূতকে স্মরণ করিয়ে দেন চিলির রাষ্ট্রপতি। এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

জবাবে রাষ্ট্রদূত মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের আগ্রহের কথা তুলে ধরে এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তিনি জানান, আগামী বছরের শুরুতে অর্থাৎ ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে চিলির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রান্সিসকো পেরেজ মাকেনা বাংলাদেশ সফর করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ওই সফরে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠাসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনাও রয়েছে।

রাষ্ট্রদূত আরও জানান, মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কার্যক্রমসহ দ্বিপাক্ষিক বিভিন্ন বিষয় চূড়ান্ত করতে বাংলাদেশ ও চিলির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বিতীয় বার্ষিক পরামর্শক সভা আগামী অক্টোবর বা নভেম্বর মাসে ঢাকায় আয়োজনের জন্য বাংলাদেশ প্রস্তুত।

এ সভা দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন চুক্তি চূড়ান্ত করার গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। বাংলাদেশের প্রস্তুতির কথা জানতে পেরে চিলির রাষ্ট্রপতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এর আগে রাষ্ট্রদূত চিলির সিনেটর রাহো এডওয়ার্ডস সিলভার সঙ্গেও বৈঠক করেন। এ সময় সিনেটর ২০২৬-২০২৯ মেয়াদে ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন (আইপিইউ) প্রেসিডেন্ট পদে তাঁর প্রার্থিতার কথা জানিয়ে বাংলাদেশের সমর্থন কামনা করেন।

এ ছাড়া মঙ্গলবার বিকেলে চিলির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রান্সিসকো পেরেজ মাকেনার সঙ্গে পৃথক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন রাষ্ট্রদূত। বৈঠকে ১৯৭২ সালের ১ জুন বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে চিলির স্বীকৃতির কথা গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি।

দুই দেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগের প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত বিশ্বখ্যাত চিলীয় কবি ও নোবেল বিজয়ী পাবলো নেরুদার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় চিলির দূত হিসেবে দায়িত্ব পালনের বিষয়টিও তুলে ধরেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ-চিলির অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ, বিশেষ করে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

রাষ্ট্রদূত জানান, বর্তমানে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। উপযুক্ত বাণিজ্য কাঠামো এবং মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করা গেলে অদূর ভবিষ্যতে এ বাণিজ্য কয়েক বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, চামড়াজাত পণ্য ও ওষুধ এবং চিলির কপার ও লিথিয়ামসহ পারস্পরিক পরিপূরক পণ্যের বাণিজ্য সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। দুই দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায় ও বাণিজ্যিক চেম্বারগুলোর মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ এবং ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল বিনিময়ের ওপরও জোর দেওয়া হয়।

দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে চিলির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আগামী বছরের জানুয়ারিতে সম্ভাব্য ঢাকা সফরের সময় একটি চিলীয় বাণিজ্য প্রতিনিধিদল সঙ্গে আনার পরিকল্পনার কথাও জানান।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও চিলির মধ্যে নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে আগামী দিনে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও গভীর ও বহুমাত্রিক করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন উভয় পক্ষ।