1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. amirsadeky88@gmail.com : amirsadeky :
  3. kamrul304076@gmail.com : Kamrul :
  4. jamalpurbakshiganj@gmail.com : Kamrulbk :
  5. motin.imran07051986@gmail.com : motin.imran07051986@gmail.com :
  6. seyam2858@gmail.com : seyam :
ঢাকা ০৩:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ট্রোলের পরও বক্স অফিসে বাজিমাত, চীনের ‘নিউ লাই’ এখন হিট

বিনোদন ডেস্ক:
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দুর্বল অ্যানিমেশন, জটিল গল্প আর নিম্নমানের গ্রাফিক্স নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ট্রোল ও উপহাসের শিকার হয়েছিল চীনের স্বল্প বাজেটের অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্র ‘নিউ লাই’। তবে সেই সমালোচনাই শেষ পর্যন্ত ছবিটির জন্য আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনলাইনে ভাইরাল হওয়ার পর দর্শকদের কৌতূহলে সিনেমাটির বক্স অফিস আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ১৪ লাখ ইউয়ানেরও বেশি।

মুভি ট্র্যাকিং সাইট মাও ইয়ানের তথ্য অনুযায়ী, মুক্তির প্রথম ১০ দিনে ছবিটি মাত্র ৭ হাজার ৭০৫ ইউয়ান আয় করেছিল। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিটির দুর্বল গ্রাফিক্স নিয়ে নানা রসিকতা ও আলোচনা শুরু হওয়ার পর হঠাৎ করেই বাড়তে থাকে টিকিট বিক্রি।

‘নিউ লাই’ একটি স্বপ্নকে কেন্দ্র করে গরু ও ষাঁড়ের কথোপকথনের গল্প। ছবিটির অ্যানিমেশন নিয়ে দর্শকদের একাংশ এতটাই মজা করেছেন যে, অনেকে এটিকে ব্যঙ্গ করে ‘সম্পূর্ণ হাতে তৈরি’ চলচ্চিত্র বলছেন। তাদের যুক্তি, ছবিটির গ্রাফিক্স দেখে অন্তত বোঝা যায়—এখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিখুঁত কিন্তু প্রাণহীন কনটেন্টের ছাপ নেই।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি পোস্টে বলা হয়েছে, ‘ছবিটি দেখলে হয়তো ৮০ মিনিট আফসোস করবেন, কিন্তু না দেখলে সারাজীবন অনুশোচনা করতে হবে।’ এমন মন্তব্যই বরং দর্শকদের মধ্যে ছবিটি দেখার আগ্রহ বাড়িয়ে দিয়েছে।

চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম উইবোতেও ছবিটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। এক ব্যবহারকারী এটিকে ‘জটিল কারিগরি দক্ষতার’ উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আরেকজন ছবিটিকে ‘সম্পূর্ণ হস্তশিল্প’ এবং চলতি গ্রীষ্মকালীন সিনেমা মৌসুমের সবচেয়ে বড় ‘ডার্ক হর্স’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

ছবিটির নাম নিয়েও তৈরি হয়েছে ভিন্ন ধরনের কৌতূহল। চীনা ভাষায় ‘ষাঁড়’ ও ‘গরু’ একই বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয়। চীনের শেয়ারবাজারে ‘বুলিশ মার্কেট’ বা ঊর্ধ্বমুখী বাজারের সঙ্গে এই শব্দের একটি সাংস্কৃতিক যোগসূত্র রয়েছে। ফলে শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের একাংশও মজা করে ছবিটির সঙ্গে বাজারের ভাগ্য জড়িয়ে দেখছেন।

এক উইবো ব্যবহারকারী লিখেছেন, সূচক ৪ হাজার পয়েন্টে পৌঁছালে তিনি সিনেমা হলে গিয়ে ‘নিউ লাই’কে সমর্থন করবেন। আরেকজন মন্তব্য করেছেন, ‘সিনেমাটি খুবই বাজে, তবে এর নামটি চমৎকার।’

চলতি আগস্টের শুরুতে কোনো বড় প্রচারণা ছাড়াই প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় ‘নিউ লাই’। কিন্তু ভাইরাল হওয়ার পর দর্শকদের চাহিদা এতটাই বেড়ে যায় যে, অনেক সিনেমা হল ছবিটির প্রদর্শনীর সংখ্যা বাড়াতে বাধ্য হয়েছে।

এমনকি ছবিটির যথাযথ প্রচারণামূলক পোস্টার না থাকায় কিছু সিনেমা হল কর্তৃপক্ষ নিজেরাই হাতে পোস্টার এঁকে দর্শকদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছেন। এসব পোস্টার হলিউডের বড় বাজেটের চলচ্চিত্রের পোস্টারের পাশেও দেখা যাচ্ছে।

তবে ছবিটির অপ্রত্যাশিত সাফল্য নিয়ে সবাই খুশি নন। চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংবাদমাধ্যম বেইজিং নিউজ-এর এক সম্পাদকীয়তে সতর্ক করে বলা হয়েছে, ‘নিউ লাই’-এর মতো চলচ্চিত্রের শো বাড়াতে গিয়ে প্রেক্ষাগৃহগুলো যদি মানের বিষয়ে ছাড় দিতে থাকে, তাহলে দর্শকদের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

সম্পাদকীয়তে আরও বলা হয়েছে, নিম্নমানের নির্মাণের কারণে আলোচিত চলচ্চিত্রগুলোর ধারাবাহিকতায় ‘নিউ লাই’ দর্শকদের প্রত্যাশার মানদণ্ড আরও নিচে নামিয়ে দিতে পারে। তাই প্রেক্ষাগৃহগুলোকে আরও দায়িত্বশীলভাবে চলচ্চিত্র বাছাই করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

তবু সমালোচনা কিংবা উপহাস—কোনোটিই আপাতত থামাতে পারেনি ‘নিউ লাই’-এর জয়যাত্রা। বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচক প্রচারণাই কীভাবে একটি অখ্যাত সিনেমাকে বক্স অফিসের আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসতে পারে, ‘নিউ লাই’ হয়ে উঠেছে তারই বিরল উদাহরণ।

সূত্র: বিবিসি

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৪:৫৪:২৫ পূর্বাহ্ণ, বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

ট্রোলের পরও বক্স অফিসে বাজিমাত, চীনের ‘নিউ লাই’ এখন হিট

আপডেট সময় : ০৪:৫৪:২৫ পূর্বাহ্ণ, বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬

দুর্বল অ্যানিমেশন, জটিল গল্প আর নিম্নমানের গ্রাফিক্স নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ট্রোল ও উপহাসের শিকার হয়েছিল চীনের স্বল্প বাজেটের অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্র ‘নিউ লাই’। তবে সেই সমালোচনাই শেষ পর্যন্ত ছবিটির জন্য আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনলাইনে ভাইরাল হওয়ার পর দর্শকদের কৌতূহলে সিনেমাটির বক্স অফিস আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ১৪ লাখ ইউয়ানেরও বেশি।

মুভি ট্র্যাকিং সাইট মাও ইয়ানের তথ্য অনুযায়ী, মুক্তির প্রথম ১০ দিনে ছবিটি মাত্র ৭ হাজার ৭০৫ ইউয়ান আয় করেছিল। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিটির দুর্বল গ্রাফিক্স নিয়ে নানা রসিকতা ও আলোচনা শুরু হওয়ার পর হঠাৎ করেই বাড়তে থাকে টিকিট বিক্রি।

‘নিউ লাই’ একটি স্বপ্নকে কেন্দ্র করে গরু ও ষাঁড়ের কথোপকথনের গল্প। ছবিটির অ্যানিমেশন নিয়ে দর্শকদের একাংশ এতটাই মজা করেছেন যে, অনেকে এটিকে ব্যঙ্গ করে ‘সম্পূর্ণ হাতে তৈরি’ চলচ্চিত্র বলছেন। তাদের যুক্তি, ছবিটির গ্রাফিক্স দেখে অন্তত বোঝা যায়—এখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিখুঁত কিন্তু প্রাণহীন কনটেন্টের ছাপ নেই।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি পোস্টে বলা হয়েছে, ‘ছবিটি দেখলে হয়তো ৮০ মিনিট আফসোস করবেন, কিন্তু না দেখলে সারাজীবন অনুশোচনা করতে হবে।’ এমন মন্তব্যই বরং দর্শকদের মধ্যে ছবিটি দেখার আগ্রহ বাড়িয়ে দিয়েছে।

চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম উইবোতেও ছবিটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। এক ব্যবহারকারী এটিকে ‘জটিল কারিগরি দক্ষতার’ উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আরেকজন ছবিটিকে ‘সম্পূর্ণ হস্তশিল্প’ এবং চলতি গ্রীষ্মকালীন সিনেমা মৌসুমের সবচেয়ে বড় ‘ডার্ক হর্স’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

ছবিটির নাম নিয়েও তৈরি হয়েছে ভিন্ন ধরনের কৌতূহল। চীনা ভাষায় ‘ষাঁড়’ ও ‘গরু’ একই বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয়। চীনের শেয়ারবাজারে ‘বুলিশ মার্কেট’ বা ঊর্ধ্বমুখী বাজারের সঙ্গে এই শব্দের একটি সাংস্কৃতিক যোগসূত্র রয়েছে। ফলে শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের একাংশও মজা করে ছবিটির সঙ্গে বাজারের ভাগ্য জড়িয়ে দেখছেন।

এক উইবো ব্যবহারকারী লিখেছেন, সূচক ৪ হাজার পয়েন্টে পৌঁছালে তিনি সিনেমা হলে গিয়ে ‘নিউ লাই’কে সমর্থন করবেন। আরেকজন মন্তব্য করেছেন, ‘সিনেমাটি খুবই বাজে, তবে এর নামটি চমৎকার।’

চলতি আগস্টের শুরুতে কোনো বড় প্রচারণা ছাড়াই প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় ‘নিউ লাই’। কিন্তু ভাইরাল হওয়ার পর দর্শকদের চাহিদা এতটাই বেড়ে যায় যে, অনেক সিনেমা হল ছবিটির প্রদর্শনীর সংখ্যা বাড়াতে বাধ্য হয়েছে।

এমনকি ছবিটির যথাযথ প্রচারণামূলক পোস্টার না থাকায় কিছু সিনেমা হল কর্তৃপক্ষ নিজেরাই হাতে পোস্টার এঁকে দর্শকদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছেন। এসব পোস্টার হলিউডের বড় বাজেটের চলচ্চিত্রের পোস্টারের পাশেও দেখা যাচ্ছে।

তবে ছবিটির অপ্রত্যাশিত সাফল্য নিয়ে সবাই খুশি নন। চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংবাদমাধ্যম বেইজিং নিউজ-এর এক সম্পাদকীয়তে সতর্ক করে বলা হয়েছে, ‘নিউ লাই’-এর মতো চলচ্চিত্রের শো বাড়াতে গিয়ে প্রেক্ষাগৃহগুলো যদি মানের বিষয়ে ছাড় দিতে থাকে, তাহলে দর্শকদের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

সম্পাদকীয়তে আরও বলা হয়েছে, নিম্নমানের নির্মাণের কারণে আলোচিত চলচ্চিত্রগুলোর ধারাবাহিকতায় ‘নিউ লাই’ দর্শকদের প্রত্যাশার মানদণ্ড আরও নিচে নামিয়ে দিতে পারে। তাই প্রেক্ষাগৃহগুলোকে আরও দায়িত্বশীলভাবে চলচ্চিত্র বাছাই করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

তবু সমালোচনা কিংবা উপহাস—কোনোটিই আপাতত থামাতে পারেনি ‘নিউ লাই’-এর জয়যাত্রা। বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচক প্রচারণাই কীভাবে একটি অখ্যাত সিনেমাকে বক্স অফিসের আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসতে পারে, ‘নিউ লাই’ হয়ে উঠেছে তারই বিরল উদাহরণ।

সূত্র: বিবিসি