1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. amirsadeky88@gmail.com : amirsadeky :
  3. faysalajony@gmail.com : FAYSAL AHMED :
  4. kamrul304076@gmail.com : Kamrul :
  5. jamalpurbakshiganj@gmail.com : Kamrulbk :
  6. motin.imran07051986@gmail.com : motin.imran07051986@gmail.com :
  7. seyam2858@gmail.com : seyam :
ঢাকা ০১:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে উন্মুক্ত হচ্ছে ‘বনের রানী’ সুন্দরবন

মো: আল-মাহফুজ শাওন, খুলনা প্রতিনিধি
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
১৪

ফের উন্মুক্ত ‘বনের রানী’ সুন্দরবন, নতুন আশায় বনজীবী-পর্যটনসংশ্লিষ্টরা । টাধাজ্ঞা শেষে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে পর্যটক ও বনজীবীদের জন্য আবারও খুলে দেওয়া হচ্ছে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের দুয়ার। দীর্ঘ বিরতির পর সুন্দরবনে প্রবেশের সুযোগ পাওয়ায় উপকূলীয় এলাকার জেলে-বাওয়ালি এবং পর্যটনসংশ্লিষ্ট মানুষের মধ্যে ফিরেছে কর্মচাঞ্চল্য ও স্বস্তি।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য, বন্যপ্রাণী ও মৎস্যসম্পদের প্রজনন নির্বিঘ্ন রাখতে চলতি বছরের ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত তিন মাস বনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এ সময়ে জেলে, বাওয়ালি, মৌয়ালি ও পর্যটক—কেউই সুন্দরবনের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারেননি।

নিষেধাজ্ঞার সময়টিকে সুন্দরবনের অধিকাংশ মাছ, বন্যপ্রাণী ও উদ্ভিদের প্রজননের গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ সময় নদী-খালে মাছ ডিম ছাড়ে, বন্যপ্রাণীর প্রজনন হয় এবং বিভিন্ন উদ্ভিদের বীজ থেকে নতুন চারা জন্ম নেয়। তাই প্রাকৃতিক পরিবেশ সুরক্ষা ও বনজ সম্পদের স্বাভাবিক প্রজনন নিশ্চিত করতেই প্রতিবছর এ ধরনের সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।

জেলে-বাওয়ালিদের ব্যস্ততা বাড়ছে

নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার আগে থেকেই উপকূলীয় এলাকার জেলে ও বাওয়ালিরা নৌকা, জাল ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রস্তুত করতে শুরু করেছেন। ১ সেপ্টেম্বর থেকে বন বিভাগের বৈধ পাস ও অনুমতিপত্র নিয়ে নিবন্ধিত বনজীবীরা সুন্দরবনে প্রবেশ করে মাছ ও কাঁকড়া আহরণ করতে পারবেন।

দীর্ঘ তিন মাস বনে প্রবেশ বন্ধ থাকায় সুন্দরবননির্ভর বহু পরিবার আর্থিক সংকটে পড়েছিল। একই সঙ্গে পর্যটকবাহী ট্রলার, লঞ্চ ও নৌযানের মালিক-শ্রমিকরাও কর্মহীন সময় কাটিয়েছেন। সুন্দরবন খুলে দেওয়ার ফলে এসব মানুষের আয়-রোজগারের পথ আবার সচল হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পর্যটকদের জন্যও খুলছে সবুজের রাজ্য

জেলে ও বনজীবীদের পাশাপাশি ১ সেপ্টেম্বর থেকে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্যও সুন্দরবনের পর্যটনকেন্দ্রগুলো উন্মুক্ত করা হবে। ফলে দীর্ঘ বিরতির পর আবারও করমজল, কটকা, কচিখালী, হাড়বাড়িয়া, হিরণ পয়েন্টসহ বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে ভ্রমণের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

সুন্দরবন ঘিরে পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নৌযান মালিক, মাঝি, গাইড, হোটেল-রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের মধ্যেও নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। পর্যটকের আগমন বাড়লে উপকূলীয় অর্থনীতিতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নজরদারি থাকবে বন বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর

সুন্দরবন খুলে দেওয়া হলেও বনের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ রক্ষায় নজরদারি অব্যাহত থাকবে। বন বিভাগ, কোস্ট গার্ড, নৌপুলিশ ও মৎস্য বিভাগের সমন্বয়ে বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি চালানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। অবৈধভাবে মাছ ধরা, বন্যপ্রাণী শিকার কিংবা বনজ সম্পদ আহরণ ঠেকাতে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সুন্দরবন শুধু বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সম্পদ নয়, এটি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জীববৈচিত্র্যের আধার। তাই পর্যটক ও বনজীবীদের বনে প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি সুন্দরবনের পরিবেশ, প্রাণী ও বনজ সম্পদ রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।

দীর্ঘ তিন মাসের নীরবতা শেষে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে আবারও প্রাণচাঞ্চল্যে মুখর হবে ‘বনের রানী’ সুন্দরবন। একদিকে জেলেদের জীবিকার প্রত্যাশা, অন্যদিকে পর্যটকদের প্রকৃতির সান্নিধ্যে ফেরার অপেক্ষা—সব মিলিয়ে সুন্দরবনকে ঘিরে উপকূলজুড়ে এখন নতুন আশার আবহ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৬:৪৮:৫৮ পূর্বাহ্ণ, রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে উন্মুক্ত হচ্ছে ‘বনের রানী’ সুন্দরবন

আপডেট সময় : ০৬:৪৮:৫৮ পূর্বাহ্ণ, রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬
১৪

ফের উন্মুক্ত ‘বনের রানী’ সুন্দরবন, নতুন আশায় বনজীবী-পর্যটনসংশ্লিষ্টরা । টাধাজ্ঞা শেষে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে পর্যটক ও বনজীবীদের জন্য আবারও খুলে দেওয়া হচ্ছে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের দুয়ার। দীর্ঘ বিরতির পর সুন্দরবনে প্রবেশের সুযোগ পাওয়ায় উপকূলীয় এলাকার জেলে-বাওয়ালি এবং পর্যটনসংশ্লিষ্ট মানুষের মধ্যে ফিরেছে কর্মচাঞ্চল্য ও স্বস্তি।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য, বন্যপ্রাণী ও মৎস্যসম্পদের প্রজনন নির্বিঘ্ন রাখতে চলতি বছরের ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত তিন মাস বনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এ সময়ে জেলে, বাওয়ালি, মৌয়ালি ও পর্যটক—কেউই সুন্দরবনের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারেননি।

নিষেধাজ্ঞার সময়টিকে সুন্দরবনের অধিকাংশ মাছ, বন্যপ্রাণী ও উদ্ভিদের প্রজননের গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ সময় নদী-খালে মাছ ডিম ছাড়ে, বন্যপ্রাণীর প্রজনন হয় এবং বিভিন্ন উদ্ভিদের বীজ থেকে নতুন চারা জন্ম নেয়। তাই প্রাকৃতিক পরিবেশ সুরক্ষা ও বনজ সম্পদের স্বাভাবিক প্রজনন নিশ্চিত করতেই প্রতিবছর এ ধরনের সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।

জেলে-বাওয়ালিদের ব্যস্ততা বাড়ছে

নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার আগে থেকেই উপকূলীয় এলাকার জেলে ও বাওয়ালিরা নৌকা, জাল ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রস্তুত করতে শুরু করেছেন। ১ সেপ্টেম্বর থেকে বন বিভাগের বৈধ পাস ও অনুমতিপত্র নিয়ে নিবন্ধিত বনজীবীরা সুন্দরবনে প্রবেশ করে মাছ ও কাঁকড়া আহরণ করতে পারবেন।

দীর্ঘ তিন মাস বনে প্রবেশ বন্ধ থাকায় সুন্দরবননির্ভর বহু পরিবার আর্থিক সংকটে পড়েছিল। একই সঙ্গে পর্যটকবাহী ট্রলার, লঞ্চ ও নৌযানের মালিক-শ্রমিকরাও কর্মহীন সময় কাটিয়েছেন। সুন্দরবন খুলে দেওয়ার ফলে এসব মানুষের আয়-রোজগারের পথ আবার সচল হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পর্যটকদের জন্যও খুলছে সবুজের রাজ্য

জেলে ও বনজীবীদের পাশাপাশি ১ সেপ্টেম্বর থেকে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্যও সুন্দরবনের পর্যটনকেন্দ্রগুলো উন্মুক্ত করা হবে। ফলে দীর্ঘ বিরতির পর আবারও করমজল, কটকা, কচিখালী, হাড়বাড়িয়া, হিরণ পয়েন্টসহ বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে ভ্রমণের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

সুন্দরবন ঘিরে পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নৌযান মালিক, মাঝি, গাইড, হোটেল-রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের মধ্যেও নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। পর্যটকের আগমন বাড়লে উপকূলীয় অর্থনীতিতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নজরদারি থাকবে বন বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর

সুন্দরবন খুলে দেওয়া হলেও বনের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ রক্ষায় নজরদারি অব্যাহত থাকবে। বন বিভাগ, কোস্ট গার্ড, নৌপুলিশ ও মৎস্য বিভাগের সমন্বয়ে বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি চালানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। অবৈধভাবে মাছ ধরা, বন্যপ্রাণী শিকার কিংবা বনজ সম্পদ আহরণ ঠেকাতে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সুন্দরবন শুধু বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সম্পদ নয়, এটি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জীববৈচিত্র্যের আধার। তাই পর্যটক ও বনজীবীদের বনে প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি সুন্দরবনের পরিবেশ, প্রাণী ও বনজ সম্পদ রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।

দীর্ঘ তিন মাসের নীরবতা শেষে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে আবারও প্রাণচাঞ্চল্যে মুখর হবে ‘বনের রানী’ সুন্দরবন। একদিকে জেলেদের জীবিকার প্রত্যাশা, অন্যদিকে পর্যটকদের প্রকৃতির সান্নিধ্যে ফেরার অপেক্ষা—সব মিলিয়ে সুন্দরবনকে ঘিরে উপকূলজুড়ে এখন নতুন আশার আবহ।