যুদ্ধের অবসান চায় ইরান, সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়, চলমান সংঘাতের স্থায়ী অবসান চায় ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, যুদ্ধবিরতির পর কয়েক মাসের মধ্যে আবারও সংঘাত শুরু হওয়ার মতো কোনো পরিস্থিতি তেহরান ভবিষ্যতে মেনে নিতে চায় না।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আব্বাস আরাঘচি বলেন, প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সরকারের পররাষ্ট্রনীতিতে প্রতিবেশী দেশগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানো এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করাকে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
আরাঘচির ভাষ্য, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে উত্তেজনা কমানোর পাশাপাশি বৃহত্তর আঞ্চলিক সম্পৃক্ততা বাড়ানো এবং ‘প্রতিবেশী কূটনীতি’ এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে তেহরান।
সাম্প্রতিক অস্থিরতার সময় প্রতিবেশী দেশগুলো ইরানকে সহযোগিতা করেছে বলেও জানান তিনি। তাঁর দাবি, কয়েকটি দেশ ইরানকে খাদ্য ও ওষুধ সরবরাহ করেছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশে আটকে পড়া ইরানিদের দেশে ফিরতে ওই দেশগুলোর ভূখণ্ড ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ইরানের বিমানকেও কয়েকটি দেশের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রতিবেশীদের এই সহযোগিতা তেহরানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। একই সঙ্গে এসব সহযোগিতা প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তাও স্পষ্ট করেছে।
চলমান সংঘাতের প্রসঙ্গে আরাঘচি বলেন, যুদ্ধের শুরুতে ইরান যুদ্ধবিরতির আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছিল। এখনো তেহরানের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে—শুধু সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়, পুরো যুদ্ধের স্থায়ী অবসান নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা যুদ্ধবিরতি চাই না; আমরা যুদ্ধের অবসান চাই।’
আরাঘচির মতে, যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে সংঘাত সাময়িকভাবে থেমে যাওয়ার পর কয়েক মাসের মধ্যে আবার যুদ্ধ শুরু হলে তা ভবিষ্যৎ সংঘাতের পুনরাবৃত্তির পথ তৈরি করবে। ইরান এমন কোনো নজির প্রতিষ্ঠা করতে চায় না।
সূত্র: আল জাজিরা


























