1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. amirsadeky88@gmail.com : amirsadeky :
  3. kamrul304076@gmail.com : Kamrul :
  4. jamalpurbakshiganj@gmail.com : Kamrulbk :
  5. motin.imran07051986@gmail.com : motin.imran07051986@gmail.com :
  6. seyam2858@gmail.com : seyam :
ঢাকা ০৫:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হ্নীলার মগপাড়া থেকে ইয়াবার চালান উদ্ধার হলেও প্রকৃত মালিক মাহাবুব এখনো অধরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
১৩

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের মগপাড়া এলাকায় পুলিশের অভিযানে ৭০ হাজার পিস ইয়াবা ও নগদ টাকা উদ্ধারসহ দুই সহোদর গ্রেপ্তারের ঘটনায় মাদকের মূল মালিক ও পৃষ্ঠপোষকদের নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্রেপ্তার হওয়া দুই ভাইয়ের পেছনে বড় কোনো মাদকচক্রের সম্পৃক্ততা রয়েছে এবং ইয়াবার প্রকৃত মালিক হিসেবে হ্নীলার মাহাবু ওরফে মাহবুবুর রহমানের নাম স্থানীয়ভাবে আলোচিত হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা আইনগতভাবে তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
গত ১৮ আগস্ট টেকনাফ থানা পুলিশের একটি দল হ্নীলার মগপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোহাম্মদ আলী (৩২) ও মোহাম্মদ আমিন (২৯) নামের দুই সহোদরকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৭০ হাজার পিস ইয়াবা ও নগদ ২ লাখ ৮৫ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, গ্রেপ্তার হওয়া দুই ভাই আর্থিকভাবে স্বচ্ছল পরিবারের নন এবং তারা সাধারণ জীবনযাপন করতেন। এ কারণে এত বিপুল পরিমাণ ইয়াবা তাদের কাছে কীভাবে এলো এবং এর পেছনে কারা জড়িত—তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, উদ্ধার হওয়া ইয়াবার চালানের সঙ্গে হ্নীলার পূর্ব সিকদারপাড়া এলাকার মৃত মৌলভী ইসহাকের ছেলে মাহাবু ওরফে মাহবুবুর রহমানের সম্পৃক্ততা রয়েছে। স্থানীয়দের কেউ কেউ তাকে দীর্ঘদিনের মাদক ব্যবসায়ী ও ইয়াবা কারবারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি হিসেবে দাবি করলেও এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
স্থানীয় একটি সূত্র দাবি করেছে, গ্রেপ্তার হওয়া মোহাম্মদ আমিন দীর্ঘদিন ধরে মাহাবুর একটি দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন। ওই সূত্রের অভিযোগ, আমিন ও তার ভাইকে ব্যবহার করে ইয়াবার চালান পরিবহন ও বাজারজাত করা হতো। একই সঙ্গে অতীতেও মাহাবুর সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে দাবি করা একটি ইয়াবার চালান প্রশাসনের হাতে আটক হয়েছিল বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মামলার নথি বা পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রগুলোর আরও দাবি, গত ১৮ আগস্ট মিয়ানমার থেকে বড় একটি ইয়াবার চালান আসার পর তার একটি অংশ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে ধরা পড়ে এবং অপর একটি অংশ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, মোট চালানের পরিমাণ ছিল প্রায় দেড় লাখ পিস। এর মধ্যে ৭০ হাজার পিস উদ্ধার হলেও বাকি অংশের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। তবে এ দাবিরও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের প্রশ্ন, সাধারণ কর্মচারী বা দিনমজুর পর্যায়ের ব্যক্তিরা যদি বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হন, তাহলে এর পেছনে থাকা মূল হোতারা কেন ধরা পড়ছেন না। তাদের মতে, গ্রেপ্তার হওয়া দুই সহোদরকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং তদন্তের মাধ্যমে মাদকের উৎস, অর্থের লেনদেন, সরবরাহকারী ও মূল পৃষ্ঠপোষকদের শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে।
স্থানীয় সচেতন মহল মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজনদের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে অভিযুক্ত মাহাবুবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “ইয়াবার মালিক সাংবাদিকেরা।” পরে তিনি সাংবাদিকদের কাছে সমঝোতার প্রস্তাব পাঠিয়েছেন বলেও জানা গেছে। তবে তার এই বক্তব্যের বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “ইয়াবার মালিক কে, সেটা অবশ্যই বেরিয়ে আসবে। মাদক ব্যবসায়ী যত বড়ই হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।”
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার দুই সহোদরকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা সম্ভব হলে উদ্ধার হওয়া ইয়াবার উৎস, চালানের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি এবং এর পেছনে থাকা মূল কারবারিদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
তবে স্থানীয়দের উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা এবং প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়াই এখন মূল বিষয় বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ১০:৩৭:১২ অপরাহ্ণ, বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে

হ্নীলার মগপাড়া থেকে ইয়াবার চালান উদ্ধার হলেও প্রকৃত মালিক মাহাবুব এখনো অধরা

আপডেট সময় : ১০:৩৭:১২ অপরাহ্ণ, বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬
১৩

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের মগপাড়া এলাকায় পুলিশের অভিযানে ৭০ হাজার পিস ইয়াবা ও নগদ টাকা উদ্ধারসহ দুই সহোদর গ্রেপ্তারের ঘটনায় মাদকের মূল মালিক ও পৃষ্ঠপোষকদের নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্রেপ্তার হওয়া দুই ভাইয়ের পেছনে বড় কোনো মাদকচক্রের সম্পৃক্ততা রয়েছে এবং ইয়াবার প্রকৃত মালিক হিসেবে হ্নীলার মাহাবু ওরফে মাহবুবুর রহমানের নাম স্থানীয়ভাবে আলোচিত হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা আইনগতভাবে তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
গত ১৮ আগস্ট টেকনাফ থানা পুলিশের একটি দল হ্নীলার মগপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোহাম্মদ আলী (৩২) ও মোহাম্মদ আমিন (২৯) নামের দুই সহোদরকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৭০ হাজার পিস ইয়াবা ও নগদ ২ লাখ ৮৫ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, গ্রেপ্তার হওয়া দুই ভাই আর্থিকভাবে স্বচ্ছল পরিবারের নন এবং তারা সাধারণ জীবনযাপন করতেন। এ কারণে এত বিপুল পরিমাণ ইয়াবা তাদের কাছে কীভাবে এলো এবং এর পেছনে কারা জড়িত—তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, উদ্ধার হওয়া ইয়াবার চালানের সঙ্গে হ্নীলার পূর্ব সিকদারপাড়া এলাকার মৃত মৌলভী ইসহাকের ছেলে মাহাবু ওরফে মাহবুবুর রহমানের সম্পৃক্ততা রয়েছে। স্থানীয়দের কেউ কেউ তাকে দীর্ঘদিনের মাদক ব্যবসায়ী ও ইয়াবা কারবারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি হিসেবে দাবি করলেও এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
স্থানীয় একটি সূত্র দাবি করেছে, গ্রেপ্তার হওয়া মোহাম্মদ আমিন দীর্ঘদিন ধরে মাহাবুর একটি দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন। ওই সূত্রের অভিযোগ, আমিন ও তার ভাইকে ব্যবহার করে ইয়াবার চালান পরিবহন ও বাজারজাত করা হতো। একই সঙ্গে অতীতেও মাহাবুর সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে দাবি করা একটি ইয়াবার চালান প্রশাসনের হাতে আটক হয়েছিল বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মামলার নথি বা পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রগুলোর আরও দাবি, গত ১৮ আগস্ট মিয়ানমার থেকে বড় একটি ইয়াবার চালান আসার পর তার একটি অংশ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে ধরা পড়ে এবং অপর একটি অংশ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, মোট চালানের পরিমাণ ছিল প্রায় দেড় লাখ পিস। এর মধ্যে ৭০ হাজার পিস উদ্ধার হলেও বাকি অংশের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। তবে এ দাবিরও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের প্রশ্ন, সাধারণ কর্মচারী বা দিনমজুর পর্যায়ের ব্যক্তিরা যদি বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হন, তাহলে এর পেছনে থাকা মূল হোতারা কেন ধরা পড়ছেন না। তাদের মতে, গ্রেপ্তার হওয়া দুই সহোদরকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং তদন্তের মাধ্যমে মাদকের উৎস, অর্থের লেনদেন, সরবরাহকারী ও মূল পৃষ্ঠপোষকদের শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে।
স্থানীয় সচেতন মহল মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজনদের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে অভিযুক্ত মাহাবুবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “ইয়াবার মালিক সাংবাদিকেরা।” পরে তিনি সাংবাদিকদের কাছে সমঝোতার প্রস্তাব পাঠিয়েছেন বলেও জানা গেছে। তবে তার এই বক্তব্যের বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “ইয়াবার মালিক কে, সেটা অবশ্যই বেরিয়ে আসবে। মাদক ব্যবসায়ী যত বড়ই হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।”
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার দুই সহোদরকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা সম্ভব হলে উদ্ধার হওয়া ইয়াবার উৎস, চালানের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি এবং এর পেছনে থাকা মূল কারবারিদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
তবে স্থানীয়দের উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা এবং প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়াই এখন মূল বিষয় বলে মনে করছেন সচেতন মহল।